





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আযলের বিষয়টি আলোচনা করা হলো, তিনি বললেন, তোমাদের কেউ তা কেন করে? এ কথা বলেন নি, তোমাদের কেউ তা করবে না? কারণ, যেটা হওয়ার সেটা আল্লাহ সৃষ্টি করবেনই।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আযলের আলোচনা হলো যে, অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রী ও বাঁদীদের সাথে আযল (স্ত্রীর যোনী পথের বাইরে বীর্য নিক্ষেপ) করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ ধরনের কর্ম করার কারণ অপছন্দনীয় বাক্য দ্বারা জানতে চাইলেন। তারপর তিনি এ কর্ম থেকে বাধাদানকারী সন্তোষ জনক উত্তর তাদেরকে প্রদান করেন। আর তা হলো, আল্লাহ তা‘আলা তাকদীরকে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ যে আত্মা সৃষ্টি করবেন এবং যার দুনিয়াতে আসা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তোমাদের এ কর্মটি তা কখনো ঠেকাতে পারবে না। কারণ, তিনিই কারণ ও বাস্তবতা নির্ধারণকারী। যখন পুরুষের কোন বীর্য থেকে তিনি শুক্রানো সৃষ্টির ইচ্ছা করেন, তখন তা কোন সময় তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে যাবে সে বুঝতেই পারবে না।
সা‘দ ইবন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান ইবন মাযউনের জন্য বৈরাগ্যকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন, আমরা অবশ্যই খাসি হয়ে যেতাম।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সা‘দ ইবন আবু ওয়াক্কাস বর্ণনা করেন, উসমান ইবন মাযউন ইবাদতের প্রচণ্ড আগ্রহ থেকে চেয়েছেন যে, ইবাদতের জন্যেই তিনি অবসর গ্রহণ করবেন এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস একেবারেই ত্যাগ করবেন। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নারীদের থেকে পৃথক থাকা ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ করার অনুমতি চাইলেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন নি। কারণ, দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ত্যাগ করা ও ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা দীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও নিন্দিত বৈরাগ্য। সঠিক দীন হচ্ছে নফসকে তার পবিত্র বস্তু দান করার সাথে সাথে আল্লাহর ইবাদতও আঞ্জাম দেওয়া। এজন্যই যদি উসমান ইবন মাযউনকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমতি দিতেন, তাহলে ইবাদতে আগ্রহী অনেকেই তার অনুসরণ করতেন।
উমার ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমার একটি ঘোড়া ছিল, যা আমি আল্লাহর রাস্তায় (ব্যবহারের জন্য এক মুজাহিদকে) দান করলাম। যার কাছে এটা ছিল, সে এটাকে নষ্ট করে দিল। ফলে আমি তা কিনে নিতে চাইলাম এবং আমার ধারণা ছিল যে, সে সেটি সস্তা দামে বিক্রি করবে। (এ সম্পর্কে) আমি নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “তুমি তা ক্রয় করো না এবং তোমার (দেওয়া) সাদকাহ ফিরিয়ে নিয়ো না; যদিও সে তোমাকে তা এক দিরহামের বিনিময়ে দেয়। কেননা, স্বীয় দান ফেরৎ গ্রহণকারী ব্যক্তি: নিজ বমিকে ভক্ষণকারীর মতো”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু এক লোককে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে সহযোগীতা করেন। তিনি তাকে যুদ্ধ করার জন্য একটি ঘোড়া দান করেন। লোকটি ঘোড়াটির জন্য খরচ করতে কার্পণ্য করে এবং সে তার ভালোভাবে যত্ন না নিয়ে তাকে কষ্ট দেয়। ফলে ঘোড়াটি রুগ্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার কাছ থেকে তা ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন। দুর্বল ও রুগ্ন হওয়ার কারণে সে ভাবছিল তা সস্তা দামে খরিদ করতে পারবে। ফলে সে রাসূলের পরামর্শ ছাড়া তা ক্রয়ে অগ্রসর হননি। কিন্তু তার অন্তরে সে ব্যাপারে কিছুটা খটকা ছিল। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তা ক্রয় করতে নিষেধ করেন যদিও দাম কম হয়। কারণ, এটি এমন একটি বস্তু যা আল্লাহর জন্য একবার বের করা হয়েছে। সুতরাং তোমার আত্মাকে তার অনুগামী ও তার সাথে সম্পৃক্ত কর না। এ ছাড়াও যা তুমি দান করেছে তাতে সে দাম কমিয়ে দিতে পারে। ফলে তুমি তোমার দানের কিছু অংশে প্রত্যাবর্তনকারী বলে গণ্য হবে। এ ছাড়াও এটি তোমার থেকে বের হয়ে গেছে, তোমার গুনাহের কাফফারা হয়েছে এবং তোমার থেকে অপবিত্রতা ও গুনাহগুলো বের করে নিয়ে গেছে। সুতরাং তার প্রতি পুনরায় ফিরে তাকানো ঠিক হবে না। মূল্য দিয়ে ক্রয় করা সত্বেও এ ধরনের ক্রয়কে দান করার পর তাতে ফিরে যাওয়া বলে গণ্য করা হয়।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহুমা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “নিজের দান ফিরিয়ে নেওয়া নিজের বমী ফিরিয়ে নেওয়ার মতোই।” অন্য শব্দে এসেছে: “যে ব্যক্তি নিজের সদাকাহ ফিরিয়ে নেয় সে কুকুরের ন্যায়, যে নিজে বমি করে পুনরায় তা ভক্ষণ করে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সাদকা ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘৃণিত আকৃতির একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো যে ব্যক্তি তার দানকে ফিরিয়ে নেয় তার দৃষ্টান্ত ওই কুকুরের মতো যে বমি করে অতঃপর সে তার নিজের বমী ভক্ষণ করে। এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত যা এ ধরনের কর্মকে ঘৃণিত ও রুচিহীন প্রমাণ করতে যথেষ্ট এবং যে এ ধরনের কর্ম করবে সে অনেক নীচু প্রকৃতির।
উম্মুল মু’মনিীন ‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে র্বণতি, তিনি বলনে, একবার অসুস্থাবস্থায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজগৃহে সালাত আদায় করেন এবং বসে সালাত আদায় করলেন, একদল সাহাবী তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, বসে যাও। সালাত শেষ করার পর তিনি বললেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাঁর ইক্তিদা করার জন্য। কাজেই সে যখন রুকূ‘ করে তখন তোমরাও রুকূ‘ করবে এবং সে যখন রুকূ‘ হতে মাথা উঠায় তখন তোমরাও মাথা উঠাবে আর সে যখন বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরা সবাই বসে সালাত আদায় করবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসটিতে অসুস্থ থাকার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বসে সালাত আদায় করা এবং মুক্তাদির ইমামের আনুগত্য ও তাকে অনুসরণ করার পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম নিযুক্ত করার হিকমত সম্পর্কে মুক্তাদিদের দিক নির্দেশনা দেন। আর তা হলো ইমামের আনুগত্য ও অনুসরণ করা হয়। সালাতের কোন আমলে তার সাথে ভিন্নতা অবলম্বন করবে না। বরং তার যাবতীয় নড়চড় শৃঙ্খলার সাথে অনুসরণ করবে। সুতরাং যখন তিনি ইহরামের তাকবীর বলেন তোমরাও তাকবীর বলো। যখন রুকু‘ করে তোমরাও তারপর রুকু‘ করো। আর যখন سمع الله لمن حمده বলে তোমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন যে তার প্রশংসা করে, তখন তোমরা ربنا لك الحمد বলে আল্লাহর প্রশংসা কর। আর যখন সে সেজদা করে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং সেজদা করো। আর যখন সে অপারগতা বসত বসে সালাত আদায় করবে তখন তোমরাও তার অনুকরণে সবাই বসে সালাত আদায় কর। যদিও তোমরা দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে সক্ষম। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে বসে সালাত আদায় করেন। সাহাবীগণ ধারণা করলেন যেহেতু তারা সক্ষম তাই তাদের দাঁড়াতে হবে। তাই তারা তার পিছনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি তাদের ইশারা করলেন যে, তোমরা বসে যাও। তারপর সালাত শেষ করে তিনি তাদের জানিয়ে দিলেন যে, ইমামের সাথে ভিন্নতা অবলম্বন করা যায় না। বরং পরিপূর্ণ অনুকরণ ও ইক্তিদা বাস্তবায়নের লক্ষে তার সাথে একাত্বতা পোষণ করতে হবে। ফলে দাঁড়াতে অপারগ বসা ইমামের পিছনের দাঁড়তে সক্ষম মুক্তাদিগণ বসে সালাত আদায় করবে। এটি যখন ইমাম তাদের নিয়ে বসে সালাত আরম্ভ করে তখন তোমরা তার পিছনে বসে সালাত আদায় করবে। আর যদি নির্ধারিত ইমাম সালাত দাঁড়িয়ে আরম্ভ করে। তারপর সালাতের মাঝখানে অসুস্থ হয়ে বসে পড়ে তখন তোমরা অবশ্যই তার পিছনে দাড়িয়ে সালাত সম্পন্ন করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবু বকর ও মানুষদের নিয়ে সালাত আদায় করার সেই হাদীসের উপর আমল করে, যখন তিনি মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন।
আব্দুল্লাহ ইবন ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহুমা থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মাদীনায় আগমন করেন তখন লোকেরা এক বা দু’ বছরের বাকীতে [রাবী ইসমাঈল সন্দেহ করে বলেন, দু’ অথবা তিন বছরের (মেয়াদের) জন্যে খেজুর সলম (পদ্ধতিতে) বেচা-কেনা করত। এতে তিনি বললেন,] যে ব্যক্তি খেজুরে সলম করতে চায় সে যেন নির্দিষ্ট মাপে, নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট ওজনে সলম করে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম মদীনায় মুহাজির হিসেবে আগমন করে দেখতে পেলেন, মদীনার অধিবাসীরা ছিলেন ক্ষেত-খামারী ও ফসলধারী। তারা সলম করত। তার নিয়ম হলো, তারা এক বছর বা দুই বছর বা তিন বছর পূর্বে মুল্য পরিশোধ করত, আর পণ্য পরে গ্রহণ করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ধরনের লেন-দেনকে স্বীকৃতি প্রদান করেন। এ ধরনের কেনা-বেচাকে তিনি যে পণ্য বিক্রেতার নিকট নাই তা বিক্রি করার অধ্যায়ে গণ্য করেননি। কারণ, সলম সাধারণত দায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত পণ্যের সাথে নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের মু‘আমালার ক্ষেত্রে কতক শর্ত যোগ করে দিয়েছেন, যা তাদেরকে ঝগড়া-বিবাধ যা কখনো কখনো দীর্ঘ লম্বা সময়ের দিকে টেনে নিয়ে যায় তা থেকে দূরে রাখবে। ফলে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো কিছুতে সলম করে, সে যেন শরী‘আত নির্ধারিত পরিমাপ বা ওজন সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং তাকে নির্ধারিত সময় বেঁধে দেয়। তারপর যখন সে তার পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে অবগত থাকবে, তখন তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও বিতর্ক থাকবে না। আর ক্রেতা তার হক নিরাপদে লাভ করবে।
রাফে‘ ইবন খাদিজ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আনসারদের মধ্যে ফসলের জমি আমাদের বেশি ছিল। আমারা এ শর্তে জমি ইজারা দিতাম যে, জমির এ অংশ আমাদের আর এ অংশ তাদের। তখন দেখা যেত, কখনো এক অংশে ফসল হত আর অন্য অংশে হত না। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তার থেকে নিষেধ করেছেন। কিন্তু রুপার বিনিময়ে নিষেধ করেন নি।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসে ক্ষেত/কৃষি কাজের শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রদ্ধতির বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রাফে‘ ইবন খাদিজ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, “তার পরিবার মদীনাবাসীদের মধ্যে সর্বাধিক কৃষি ভূমি ও বাগানরে মালিক ছিল। তারা জাহিলি যুগের রীতিতে চাষাবাদ করতেন। তারা তাদের জমিন এ শর্তে ইজারা দিত যে, জমির নির্ধারিত একটি অংশের ফসল তাদের নিজেদের জন্য হবে। আর যে ক্ষেত করত তার জন্য অপর একটি অংশের ফসল। তখন দেখা যেত, একাংশে ফসল হত অপর অংশে ফসল হত না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ ধরনের লেন-দেন করতে নিষেধ করেন। কারণ, এর মধ্যে রয়েছে ধোকা ও নিজের প্রাপ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা। সুতরাং এ ধরনের লেন-দেনে যেমনিভাবে বিনিময় জানা থাকা জরুরি তেমনিভাবে লাভ ও লোকসান সমান হওয়া জরুরি। বিনিময় যদি যমীন থেকে উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ হয় তাহলে তার নাম মুযারা‘আ অথবা মুসাকাত। যার ভিত্তি হলো লাভ ও লোকসানের মধ্যে বরাবর হওয়া ও ইনসাফ করা। যেমন প্রত্যেকের জন্য চারভাগের একভাগ বা অর্ধেক ইত্যাদি অংশ নির্ধারিত হতে হবে। আর যদি অন্য কোন কিছুর বিনিময়ে হয় তাহলে তার নাম হবে ইজারা। তখন অবশ্যই বিনিময়ের পরিমাণ জানা থাকতে হবে। এ জাতীয় কারবার বৈধ। চাই স্বর্ণ ও রুপার বিনিময়ে হোক। আর একে বলে ইজারা। অথবা যমীনের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে হোক। আর একে বলা হয় মুযারা‘আহ। হাদীসের ব্যাপকতার কারণে এ ধরনের লেনদেন বৈধ, যেমন “তবে যদি নির্ধারিত জ্ঞাত বস্তু হয় তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।”
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আযল করতাম অথচ তখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল। সুফিয়ান বলল, যদি বিষয়টি নিষিদ্ধ করার মত কর্ম হতো, তবে কুরআন আমাদের তার থেকে নিষেধ করত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহের যুগে তারা তাদের স্ত্রী ও বাঁদীদের সাথে আযল করতেন। আর তিনি এর ওপর তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করতেন। যদি তা বৈধ না হতো তাহলে এর ওপর তাদের সম্মতি জ্ঞাপন করতেন না। তাকে যেন প্রশ্ন করা হলো, হতে পারে তোমাদের কর্মটি তার কাছে পৌছে নি? উত্তরে তিনি বললেন, যদি তার কাছে না পৌঁছে আল্লাহ অবশ্যই জানেন। আর তখন কুরআন নাযিল হচ্ছিল। যদি কর্মটি অবৈধ হতো তাহলে কুরআন তা নিষেধ করত এবং শরী‘আত আমাদের স্বীকৃতি দিত না। বিভিন্ন দলীলের মাঝে মীমাংসা: জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস প্রমাণ করে আযল করা বৈধ। কিন্তু কতক হাদীস এমন রয়েছে যেগুলো থেকে বুঝা যায় যে, আযল করা অবৈধ। যেমন জুযামাহ বিনতে ওহাব থেকে সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি কতক লোকসহ রাসূলের দরবারে উপস্থিত ছিলাম। তারা তাকে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন, এটি গুপ্ত হত্যা। সুতরাং, এ সব বিরোধপূর্ণ নসের মধ্যে সমাধান কী? এর উত্তর: মূলতঃ আযল বৈধ, যেমনটি জাবের ও আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার হাদীস প্রমান করে। যে ব্যক্তি আযল দ্বারা সন্তান থেকে বাঁচতে চায় তার ক্ষেত্রে জুযামাহ বিনতে ওহাবের হাদীসটি প্রযোজ্য। রাসূলের বাণী এটি গুপ্ত হত্যা তারই প্রমাণ অথবা এ দ্বারা আযল করা মাকারূহ প্রমাণিত হবে, হারাম নয়।
উম্মু আতিয়্যাহ হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মৃত ব্যক্তির উপর কোনো নারী তিন দিনের বেশী শোক পালন করবে না, তবে স্বামীর উপর চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। আর কোনো রঙিন কাপড় পরিধান করবে না। তবে সাদা-কালো কাপড় পড়তে পারবে। সে সুরমা ব্যবহার করবে না এবং সুঘ্রাণ স্পর্শ করবে না। তবে ঋতু থেকে পবিত্র হওয়ার সময় দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ধোঁয়া জাতিয় সামান্য সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করতে মহিলাদের নিষেধ করেছেন, তা সে পিতা, ভাই, পুত্র বা অন্য যে কেউ হোক না কেন, তবে স্বামীর উপর শোক পালনের সময়কাল চার মাস দশ দিন। স্বামীর শোকের সময় তার সাজসজ্জার জন্য কোনও রঙিন পোশাক পরা উচিত নয়, কেবল 'আসাব' পোশাক ছাড়া, যা একটি ইয়েমেনী পোশাক যা বোনা হওয়ার আগেই রঙ করা হয়। সে তার চোখে সাজসজ্জার জন্য কাজল লাগাবে না এবং সুগন্ধি বা অন্য কোন জিনিস ব্যবহার করে সুবাস যুক্ত হবে না, তবে ঋতুস্রাব শেষে শরীর ধোয়ার পর ছোট টুকরোতে আতর বা আজফার ব্যবহার করবে, যা দুটি সুপরিচিত ধরণের ধূপ এবং যা সুগন্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় না। যে মহিলা ঋতুস্রাব শেষে তার শরীর ধুয়ে ফেলেছেন, তাদের অপ্রীতিকর গন্ধ দূর করার জন্য এটি ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। তার যোনিতে রক্তের চিহ্ন খুঁজে বের করার জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত, সুগন্ধির উদ্দেশ্যে নয়।