





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ কিলাবাহ্ আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ যারমী বাসরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস আমাদের এ মসজিদে এলেন। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করবো, বস্তুত আমার উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা নয় বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমি যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি, তা তোমাদের দেখানোই আমার উদ্দেশ্য। [রাবী আইয়ূব বলেন] আমি আবূ কিলাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিরূপে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এই শাইখের মত আর শাইখ সাজদাহ্ থেকে যখন মাথা তুলতেন তখন দাঁড়ানোর আগে একটু বসতেন”। তাদের শায়খ দ্বারা উদ্দেশ্য : আবূ বুরাইদাহ, আমর ইবন সালামাহ আল-যুরমী।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আবূ কিলাবাহ বলেন, একজন সাহাবী মালিক ইব্নু হুওয়াইরিস আমাদের এ মসজিদে এলেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের নিকট এসেছি যাতে আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করি।, বস্তুত তার দ্বারা আমার উদ্দেশ্য কাজের মাধ্যমে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহর সালাত শেখানো। যাতে প্রাক্টিক্যাল শিক্ষা বুঝতে সহজ ও তোমাদের অন্তবে স্থায়ী হয়। বর্ণনাকারী আবূ কিলাবা থেকে বলেন, মালেক ইবন হুয়াইরিস যিনি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত শিখালেন তিনি কিরূপে সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, আমাদের এই শাইখ আবূ ইয়াযিদ আমর ইবন সালমাহ আল জুরামীর মতো। তিনি সাজদাহ্ থেকে দাঁড়ানোর জন্যে যখন মাথা উত্তোলন করতেন, তখন দাঁড়ানোর আগে একটু বসতেন।
জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: মু‘আয ইবন জাবাল রাসূলুল্লাহর সাথে এশার সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি তার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট যেতেন এবং একই সালাত তাদেরকে পড়াতেন। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আযকে বললেন, তুমি কেন সূরা আ‘লা, শামস এবং লাইল দ্বারা সালাত আদায় করো না। কারণ, তোমার পিছনে বুড়া, দূর্বল এবং জরুরত আছে এমন সব লোক সালাত আদায় করে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।মু‘আয ইবন জাবাল আল-আনসারীর কওম বনু সালমার ঘরসমূহ ছিল মদীনার এক প্রান্তে। মু‘আয রাদিয়াল্লাহ আনহু ভালো কাজের প্রদি খুব আগ্রহী ছিলেন। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাব্বাতে এবং তার থেকে শিক্ষা লাভের আগ্রহে তার সাথে সালাত আদায়ে উপস্থিত থাকতে ব্যগ্র থাকতেন। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে ফরয আদায় করার পর তার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট গিয়ে একই সালাত তাদেরকে পড়াতেন। ফলে তার জন্য তা নফল হতো এবং তার কাওমের লোকদের জন্য ফরয হতো। এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞাতসারেই ছিল। তিনি তাকে এ বিষয়ে অনুমতি দেন। কিন্তু তিনি একবার কিরাত দীর্ঘ করেন। আর ইসলামী শরী‘আত কঠোরতা না করা, সহজ করা এবং সহনীয় করার বৈশিষ্টমণ্ডিত। কারণ, কঠোরতা এবং কষ্টকর করার পরিণতি হলো দূরো সরানো। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন এ কথা পৌছঁলো যে, মু‘আয কিরাত লম্বা করেন, তিনি তাকে যখন ইমাম থাকবে তখন সংক্ষেপ করার দিক নির্দেশনা দেন এবং তার জন্য মধ্যম মুফাসসাল কিরাত যেমন, সূরা আ‘লা, শামস এবং লাইল পড়া দ্বারা একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। কারণ, তার পিছনে সালাত আদায় করে বয়স্ক বুড়ো, দুর্বল এবং কর্মজীবি মানুষ। সালাত দীর্ঘ করাতে তাদের কষ্ট হয়। সুতরাং তাদের প্রতি দয়া করা এবং সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে তাদের অবস্থায় প্রতি লক্ষ্য রাখা উত্তম। আর যদি কোন মুসলিম একা সালাত আদায় করে সে তার ইচ্ছা মতো দীর্ঘ করে পড়বে।
আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং তাদের নিয়ে জানাযার স্থানে পৌছান, তারপর তাদের কাতারবন্দী করেন ও চার তাকবীর বলেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নাজ্জাশী ছিল হাবশার বাদশা। মদীনাবাসী ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কার কুরাইশরা যখন রাসূলের সাহাবীদের জন্য মক্কাকে সংকীর্ণ করে তুলে ছিল, তখন হাবশায় হিজরতকারী সাহাবীদের ওপর তার অনগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। অতঃপর তার নিয়তের বিশুদ্ধতা, হকের অনুসরণ এবং তার অহংকারকে দূরে নিক্ষেপ করা তাকে ইসলামের দিকে দিক্ষিত করল যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি তার ভুমিতে মারা যান অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি। মুসলিমদের প্রতি তার অনুগ্রহ, তার অবস্থানের বড়ত্ব এবং এমন যমীনে তার মারা যাওয়া যেখানে তার জানাযা পড়া হয়নি কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জাশী যেদিন মারা যান সে দিনই তার সাহাবীদের তার মারা যাওয়ার সংবাদ দেন এবং নাজ্জাশীর অবস্থার মুল্যায়নে করা, তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি প্রচার করা, তার মর্যদার ঘোষণা করা, মুহাজিরদের প্রতি তার অবদানের প্রতিদান স্বরূপ এবং তার ওপর সালাত আদায়ে বেশি লোককে একত্র করার উদ্দেশ্যে সাহাবীদের নিয়ে তিনি সালাতের স্থানে বের হন। তারপর তিনি তাদেরকে কাতারবন্দী করেন এবং সালাত আদায় করেন এবং তার জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করার লক্ষ্যে ঐ সালাতে তিনি চারটি তাকবীর বলেন।
সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন গাছের লোকদের একজন। তিনি বলেন, “আমরা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করতাম। অতঃপর আমরা ফিরে আসতাম। তখন দেয়ালের একটু ছায়াও দেখতাম না যার ছায়া দ্বারা আমরা ছায়া গ্রহণ করতে পারি”। অপর শব্দে বর্ণিত: “আমরা রাসূলের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতাম যখন সূর্য্য ডলে যেতো। তারপর আমার ফেরার পথে ছায়া তালাশ করতাম”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।সালামাহ ইবনুল আকওয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণনা করেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জুমু‘আহর সালাত আদায় করতে উপস্থিত হতেন এবং তারা সকাল সকাল সালাত আদায় করতেন। ফলে তারা দুই খুতবা এবং সালাত আদায় থেকে ফারেগ হয়ে তাদের নিজেদের ঘরে ফিরে যেতেন। তখন দেয়ালের এমন একটু ছায়া দেখতেন না যার ছায়া দ্বারা তারা ছায়া গ্রহণ করবেন। অপর শব্দে বর্ণিত: তারা রাসূলের সাথে জুমুআর সালাত আদায় করতেন যখন সূর্য্য ডলে যেতো। তারপর তার বাড়িতে ফিরে যেতেন। উলামাগণ এ বিষয়ে একমত যে, জুমু‘আর সালাতের শেষ সময় হলো যোহরের সালাতের শেষ সময়। আর উত্তম হলো সুর্য্য ডলে যাওয়ার পর সালাত আদায় করা। কারণ, রাসূলের কর্ম অধিকাংশ সময় এমনই হতো। এ ছাড়াও এটি হল এমন সময় যার ওপর উলামাগণ একমত। তবে যদি কোন প্রয়োজন থাকে যেমন কঠিন গরম অথচ তাদের কাছে এমন কিছু নাই যা দ্বারা তারা ছায়া গ্রহণ করবে অথবা তারা সুর্য্য ডলার পূর্বে জিহাদে বের হতে চায় তখন সূর্য্য ডলার কিছু সময় আগে সালাত আদায় করাতে কোন অসুবিধা নেই।
‘আবদুল্লাহ্ ইবন ‘উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই খুতবাহ দিতেন আর দুই খুতবাহর মধ্যখানে বসতেন”। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু অপর একটি বর্ণনায় বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দুই খুতবাহ দিতেন। আর তিনি উভয় খুতবার মাঝখানে বসার মাধ্যমে ব্যবধান করতেন”।
এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।শহরের সব অধিবাসীর জন্য জুমু‘আর দিন একটি বড় ধরনের মিলন মেলা। এ কারণেই রাসূলের হিকমত হলো সে মানুষকে দুটি খুতবাহ প্রদান করতেন। উভয় খুতবায় তাদের কল্যাণের দিক নির্দেশনা দেন এবং খারাবী থেকে সতর্ক করেন। উভয় খুতবা মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে দিতেন যাতে শ্রোতাদের শিক্ষা দেওয়া ও নসিহত করা গুরুত্ব সহকারে হয়। এ ছাড়াও দাঁড়ানোর মধ্যে রয়েছে ইসলামের শক্তি ও সৌর্ন্দয্য। প্রথম খুতবাহ শেষ করা পর বিশ্রামের জন্য সংক্ষিপ্ত সময় বসেতেন। ফলে দুটির মাঝে প্রার্থক্য হতো। অতঃপর দ্বিতীয় খুতবা প্রদান করতেন যাতে খতীব ক্লান্ত এবং শ্রোতা বিরক্ত না হয়।
জুনদুব ইব্নু ‘আব্দুল্লাহ্ বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, অতঃপর খুতবাহ দেন। অতঃপর যবেহ্ করেন এবং তিনি বলেন, সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ্ করবে তাকে তার স্থলে আরেকটি যবহ্ করতে হবে এবং যে যবেহ্ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ্ করা উচিত।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।কুরবানীর দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে সালাত তারপর খুতবা তারপর জবেহ করেন। ইসলামের নিদর্শনগুলো তুলে ধরা, উম্মতকে শেখানো এবং উপকারিতাকে সবার কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তিনি তার কুরবানির পশুকে ঈদগাহে নিয়ে যেতেন। আর তিনি কুরবানীর শর্ত ও বিধানকে স্পষ্ট করতে গিয়ে তাদের বলেন, যে ব্যক্তি সালাতের আগে জবেহ করে তার জবেহ করা যথেষ্ট হবে না। সে যেন তার জায়গায় আরেকটি পশু জবেহ করে। আর যে জবেহ করেনি সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে জবেহ করে যাতে জবেহ করা শুদ্ধ হয় এবং তা হালাল হয়। হাদীসটি উল্লিখিত ধারাবাহিকতার প্রমাণ স্বরূপ। এর বিপরীত গ্রহণ যোগ্য হবে না। আর হাদীসটি প্রমাণ করে যে, কুরবানীর সময় ঈদের সালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আরম্ভ হয় সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করার সাথে নয় এবং ইমামের কুরবানীর সাথেও নয়। তবে যার ওপর ঈদের সালাত ওয়াজিব নয় যেমন মুসাফির, তার বিষয়টি ভিন্ন। তাইসীরুল আল্লাম তাম্বীহুল আফহাম তা’সীসুল আহকাম।
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ পরিবারের কাছে তরকারি চাইলেন। তারা বলল, ‘আমাদের নিকট সিরকা ছাড়া আর কিছুই নেই।’ তিনি তাই চাইলেন এবং (তা দিয়ে) আহার করতে থাকলেন ও বলতে থাকলেন, “সিরকা কতই না চমৎকার তরকারি। সিরকা কতই না ভালো তরকারি।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পরিবারের নিকট রুটি দিয়ে খাওয়ার জন্য কোনো দরকারি চাইলেন। তারা বলল আমাদের নিকট সির্কা ছাড়া আর কিছুই নেই।’ তিনি তাই হাযির করতে বললেন, তারপর তা হাযির করা হলো। তখন তিনি তা খেতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন, “সিরকা কতই না চমৎকার তরকারি। সিরকা কতই না ভালো ব্যঞ্জন।’ এটি সিরকার প্রশংসা। যদিও সিরকা পানীয় যা পান করা হয় কিন্তু পানীয়কেও খাদ্য বলে নাম করণ করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে সে আমার উম্মত নয় আর যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে সে অবশ্যই আমার থেকে। তাকে খাদ্য বলে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তার একটি স্বাদ রয়েছে যা খাওয়া যায়।
আবু মূসা আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আশ‘আরীগণ যখন জিহাদের ময়দানে অবস্থান করত অথবা মদীনায় তাদের পরিবারের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত, তখন তারা তাদের কাছে যা থাকত তা একটি কাপড়ে একত্র করত। তারপর তারা একই প্লেটে তাদের নিজেদের মধ্যে সমহারে বণ্টন করত। তারা আমার থেকে আর আমি তাদের থেকে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আশ‘আরীগণ হলো, আবূ মূসা আল-আশ‘আরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সম্প্রদায়ের লোক। তাদের অবস্থা ছিল যখন তাদের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত অথবা যখন তারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে থাকতো, তখন তাদের খাদ্য সামগ্রীকে একত্র করত এবং তা তারা তাদের নিজেদের মধ্যে সমান হারে বণ্টন করত। এ কারণে তারা ইজ্জত, সম্মান ও ভালোবাসার দিক থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার অধিকারী হতে সক্ষম হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনিও তাদের এ মহান চরিত্রে তাদের অংশীদার; যাতে রয়েছে অপরকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ও সদা আনুগত্য অবলম্বন।
ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগমন করল। সে যিনার কারণে গর্ভবতী ছিল। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ (শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি) এর উপযোগী হয়েছি। অতএব, আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, তাকে ভালোভাবে দেখাশুনা কর। অতঃপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার শাস্তির নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।ইমরান ইবন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, এক নারী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। যিনি যিনার কারণে গর্ভবতী ছিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হদ্দ (শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি) এর উপযোগী হয়েছি। অতএব, আমার ওপর তা কার্যকর করুন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার ওপর হদ্দ কায়েম করতে অনুরোধ করলেন। এখানে হদ্দ বলতে রজমকে বুঝানো হয়েছে; কেননা উক্ত নারী বিবাহিতা ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, “তাকে ভালোভাবে দেখাশুনা কর। অতঃপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।” রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভালোভাবে দেখাশুনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ তার ওপর অভিভাবক থেকে ক্ষতির আশংকা ছিল। কারণ, তার জন্যে তাদের কলঙ্ক লেগেছে, ফলে তারা নিজেদের আত্মসম্মানবোধ ও লাঞ্ছিত হওয়ার কারণে তাকে কষ্ট দিতে পারত। তাই এরূপ আচরণ থেকে সতর্ক করে তার ব্যাপারে সদাচারণ করতে নির্দেশ দিলেন, বরং তার প্রতি অধিক দয়াপরবশ হতে বললেন, কেননা তিনি তাওবা করেছেন। তার প্রতি ইহসান করতে গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি কারণ ছিলো এ ধরণের কাজের কারণে মানুষের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা জন্মায় এবং তারা তাকে কষ্টদায়ক কথাবার্তা বলে। অতঃপর তার সন্তান ভূমিষ্ট হলে তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি তাকে বাচ্চার দুগ্ধপান শেষ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে আদেশ করলেন। বাচ্চা যখন দুগ্ধপান ছেড়ে দিলো আবার তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। অতঃপর তিনি তার শাস্তির নির্দেশ দিলেন। তিনি তার কাপড় শক্ত করে বাঁধতে নির্দেশ দিলেন। যাতে রজমের সময় তার সতর খুলে না যায়। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন।