Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার সালাত ত্যাগ করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোন ওজর ছাড়াই অবহেলা ও অলসতার কারণে তিনবার জুমার সালাত পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তার পর্যন্ত কল্যাণ পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেবেন।
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা জানিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো জাতির সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেননি, যতক্ষণ না তিনি প্রথমে তাদের ইসলাম গ্রহণের দিকে আহ্বান করতেন। যদি তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া না দিত, তখন তিনি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানিয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিনে আমি নিজেই বাদী হব, আর যার বিরুদ্ধে আমি বাদী হব, আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ফয়সালা করব এবং তাকে পরাজিত করব। প্রথমত: যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করে এবং অঙ্গীকার করে, তারপর তা ভঙ্গ করে এবং বিশ্বাসঘাতকতা করে। দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে দাস হিসেবে বিক্রি করে, সে তার মূল্য ভোগ করে এবং তার মূল্য খরচ করে। তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি কাজের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করল এবং তার কাছ থেকে কাজটি সম্পন্ন বুঝে নিল, কিন্তু তার কাজের মূল্য দিল না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, মুমিন ব্যক্তি তার সৎকর্মের প্রশস্ততা ও স্বস্তির মধ্যে থাকে এবং আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং পাপ মোচনের আশায় থাকে, যতক্ষণ না সে কোন ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ উপায়ে হত্যা করে, তাহলে তার আমল তাকে সংকীর্ণ হয়ে যায়। কারণ এটি হত্যার বোঝা এবং এর মহাপাপের দায় বহন করতে পারে না।
উকল ও উরাইনা গোত্রের কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিল মুসলিম হিসেবে। তারা এমন একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছিল যার ফলে তাদের পেট ফুলে গিয়েছিল এবং তারা মদীনায় থাকতে অপছন্দ করল। কারণ সেখানকার খাবার এবং বাতাস তাদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সদকার উটের কাছে যেতে এবং তাদের প্রস্রাব ও দুধ পান করতে নির্দেশ দিলেন, তাই তারা রওনা হলেন। যখন তারা সুস্থ হয়ে উঠল এবং মোটা হয়ে গেল এবং তাদের রঙ ফিরে এলো, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালকে হত্যা করল এবং উটগুলিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। দিনের শুরুতেই খবরটা এসে পৌঁছাল, তাই তিনি তাদের ডেকে পাঠালেন আর তারা তাদের ধরে ফেলল। যখন সকাল হলো, তখন তাদেরকে বন্দী হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলো। তিনি তাদের হাত-পা কেটে ফেলার আদেশ দিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন, কারণ তারা রাখালের সাথে এমনটি করেছিল। তাদের খোলা মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তারা পানির জন্য প্রার্থনা করছিল কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হয়নি, যতক্ষণ না তারা মারা যায়। আবু কিলাবা বলেন: তারা চুরি করেছে, হত্যা করেছে এবং ঈমানের পর কুফরী করেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন, যে ব্যক্তি এমন পাপ করে যার জন্য শরয়ী শাস্তির প্রয়োজন হয়, যেমন ব্যভিচার এবং চুরি। আর তাকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং এই পৃথিবীতে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সেই শাস্তি তার পাপ মুছে ফেলবে এবং আখেরাতে তার শাস্তি দূর করবে। কারণ আল্লাহ এতটাই উদার ও করুণাময় যে তাঁর বান্দার জন্য দুটি শাস্তি একত্রিত করতে পারেন না। আর যাকে আল্লাহ এই পৃথিবীতে লুকিয়ে রাখেন এবং সেই পাপের জন্য শাস্তি না দেন, আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা এতটাই উদার এবং করুণাময় যে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং মাফ করে দিয়েছেন এমন পাপের জন্য পুনরায় তাকে শাস্তি দিবেন না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে একজন ব্যক্তি ছিলেন, যার নাম ছিল আবদুল্লাহ। তাঁকে “হিমার” (গাধা) নামে ডাকত লোকে। তিনি মাঝে মাঝে এমন কথা বলতেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে হাসাতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে মদ পান করার কারণে বেত্রাঘাত করেছেন। একদিন তাকে মদ্যপ অবস্থায় ধরে আনা হয়, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দেন, ফলে তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। তখন উপস্থিতদের একজন তাকে গালি দিয়ে বলল: আল্লাহ তাকে লানত করুন! কতবারই না তাকে মদ পান করা অবস্থায় আনা হয়েছে?! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হওয়ার বদদোয়া করো না। আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে এমনই জানি যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছুর কথা বলবো যা অধিক নফল সিয়াম, সালাত এবং সদকার সাওয়াবের চেয়েও উত্তম? তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: বিবাদকারীদের মধ্যে পুনর্মিলন, কারণ বিবাদ মানুষের মধ্যে বিভেদ, শত্রুতা, ঘৃণা এবং বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে। মানুষের মধ্যে সম্পর্কের অবনিতর ফলে যে ঘৃণা তৈরি হয় তা হল এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা দীন ও দুনিয়া ধ্বংস করে ও উপড়ে ফেলে, যেমন ক্ষুর চুল উপড়ে ফেলে।
সায়িব ইবন ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ছোট সাহাবী। তার পরিবার তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হজ করে এবং সে বিদায়ী হজ পায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে বাচ্চাদের নিয়ে হজ করার অনুমতি দেন। আর এটা তার নফল হজ হিসেবে গণ্য হবে। যখন সে বালেগ হবে তাকে পুণরায় ফরয হজ করতে হবে। হজে বাচ্চারাও বড়দের মতো ইহরাম বাঁধবে, তালবিয়া পাঠ করবে, সিলাই করা কাপড় পরা থেকে বিরত থাকবে এবং অন্যান্য সব কাজই করবে। যদি কোনো কর্ম করতে অক্ষম হয় তবে তার অভিভাবক যেমন মাতা ও পিতা তার পক্ষ থেকে সেটা আদায় করবে। আত-তাওযীহ শরহু জামে আস-সহীহ ১২/৪৭৩, উমদাতুল কারী, ১০/২১৮, ইবন উসাইমীন এর শরহু রিয়াদুস সালেহীন ৫/৩২৬-৩২৭।