





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
হামনা বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রচুর পরিমাণ হায়েযের রক্ত আসে। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি জানাতে এবং জানতে আসলাম। তাঁকে আমি আমার বোন যয়নব বিনতে জাহাশের গৃহে পেলাম। আমি তাকে বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর পরিমাণ হায়েযের রক্ত আসে। আপনি এ ব্যাপারে কী মতামত দেন? তা আমাকে সালাত ও সাওম থেকে বিরত রাখছে। তখন তিনি বললেন, তুমি তুলার পট্টি ব্যবহার করো, সেটাই রক্ত দূর করে দিবে। হামনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বললেন, রক্ত তার চেয়েও অধিক। তিনি বললেন তাহলে একটি কাপড় গ্রহণ কর। তিনি বললেন, রক্ত তার চেয়েও অধিক। আমার সারাক্ষণই রক্ত স্রাব হতে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাকে দু’টি বিষয়ে নির্দেশ দিব, যেকোনো একটি করলেই অপরটি করার প্রয়োজন হবে না। আর যদি তুমি দু’টিই করতে সক্ষম হও, সে বিষয়ে তুমিই ভালো জান। এটি শয়তানের পদাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়। আল্লাহর ইলমে তুমি প্রতি মাসের ছয় বা সাত দিন হায়েযের মেয়াদ গণ্য করো। অতঃপর তুমি গোসল কর। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পবিত্র হয়ে গেছো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছো তখন মাসে তেইশ অথবা চব্বিশ রাত এবং তার সমপরিমাণ দিনে সালাত আদায় কর, এবং (সময় হলে) সিয়াম রাখ। এটি তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। এভাবে তুমি প্রতি মাসে করতে থাক, যেমনিভাবে মহিলাদের মাসিক হয় এবং যেমনিভাবে তারা তাদের মাসিকের সময় ও পবিত্রতার সময় পবিত্র হয়। আর যদি তোমার সামর্থ্য থাকে তুমি যোহরের সালাত বিলম্বে ও আসরের সালাত তাড়াতাড়ি পড়ো এবং এই সালাতদ্বয়ের জন্য একবার গোসল করো এবং দুই সালাত যোহর ও আসর একত্র কর। আর অনুরূপভাবে মাগরিবের সালাত বিলম্বে ও এশার সালাত তাড়াতাড়ি পড়ো এবং এই দু’ সালাতের জন্য একবার গোসল করো এবং দুই সালাতকে একত্র করলে এটিও করতে পার। আর ফজরের সালাতের সাথে গোসল কর। আর যদি তুমি সাওম পালন করতে সক্ষম হও তবে তা পালন কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেন, “এ পন্থাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।”
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হামনা রাদিয়াল্লাহা ‘আনহার হাদীসের অর্থ: “আমি প্রচুর পরিমাণে ও কঠিনভাবে ঋতুবতী হতাম।” অর্থাৎ তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হত এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হত, আর বের হওয়ার সময় খুব প্রবলভাবে বের হতো। অতঃপর তিনি শর‘ঈ বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এবং তার ওপর করনীয় কী জানতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। “আমি তাকে বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর পরিমাণ হায়েযের রক্ত আসে। আপনি এ ব্যাপারে কী মতামত দেন? তা আমাকে সালাত ও সাওম থেকে বিরত রাখছে।” অর্থাৎ মাসিকের রক্ত হিসেবে এটি তাকে সালাত ও সাওম পালন থেকে বিরত রাখছে। প্রথম অবস্থায় তার কাছে এমনই মনে হয়েছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেন যে, এভাবে নির্গত রক্ত শয়তানের পদাঘাত; এটি মাসিকের রক্ত নয়। তখন তিনি বললেন, তুমি তুলা ব্যবহার করো। যেমন, তুমি লজ্জাস্থানের উপর তুলা রাখবে এবং মজবুত করে বেঁধে দিবে যাতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। “তিনি বললেন, রক্ত তার চেয়েও অধিক” অর্থাৎ প্রবাহিত রক্ত অনেক বেশি ও কঠিন। তুলা দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। তিনি বললেন, “তাহলে একটি কাপড় গ্রহণ করো” অর্থাৎ তুলার সাথে একটি কাপড় যোগ কর যাতে মোটা হয় রক্ত আঁটকে রাখে। “তিনি বললেন, রক্ত তার চেয়েও অধিক। আমার সারাক্ষণই রক্ত স্রাব হতে থাকে”। অর্থাৎ তার থেকে রক্ত খুব বেশি ও প্রবল বেগে বের হয় তুলা ও কাপড় দ্বারা বন্ধ হবে না, কারণ তা ভারী ও বেশী আকারে বের হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমি তোমাকে দু’টি বিষয়ে নির্দেশ দিব” অর্থাৎ দু’টি হুকুম থেকে একটি হুকুম করব, যা নিম্নরূপ: প্রথমত: প্রতি সালাতের জন্য গোসল করা। দ্বিতীয়ত: যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্র করা; গোসল তিনবার করা। যোহর ও আসরের জন্য একবার, মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের সালাতের জন্য একবার গোসল করা। “যেকোনো একটি করলেই অপরটি করার প্রয়োজন হবে না” অর্থাৎ তুমি এ দু’টি বিধানের ক্ষেত্রে স্বাধীন। “আর যদি তুমি দু’টিই করতে সক্ষম হও, সে বিষয়ে তুমিই ভালো জান” অর্থাৎ যদি উভয়টি পালনে সক্ষম হও, তুমিই তোমার অবস্থা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। এ দু’টি থেকে তুমি যে কোনোটিই অবলম্বন করতে পার। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, “এটি শয়তানের পদাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়” অর্থাৎ তার দীন, পবিত্রতা ও সালাত এলোমেলো করার জন্য শয়তান একটি উপায় খুঁজে পেয়েছে যে, তাকে তার অভ্যাসটি ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই এটি একটি শয়তানের পদাঘাতে পরিণত হয়েছে। আর এটিকে ফাতেমা বিনতে আবী হুবাইশের হাদীসে ঘাম বলা এ হাদীসের পরিপন্থী নয়। যেমন, তিনি বলেছেন, “আমি একজন মুস্তাহাযা নারী; কখনোই পবিত্র হই না, আমি কি সালাত ছেড়ে দিব? তিনি বললেন, না। এতো ঘাম হায়েয নয়। সুতরাং হাদীসটি এ অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে যে, শয়তান তাকে পা দিয়ে আঘাত করেছে ফলে তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। স্পষ্ট হলো এটি শয়তানের পক্ষ থেকে সত্যিকার পদাঘাত। এ অর্থের ওপর প্রয়োগ করতে কোনো বাঁধা নেই। সুতরাং তুমি প্রতি মাসে ছয় বা সাত দিন হায়েযের মেয়াদ গণ্য করো।” অর্থাৎ ছয় দিন বা সাত দিন সালাত ও সাওম ছেড়ে দাও এবং একে তুমি মাসিক ধর। কারণ, অধিকাংশ নারীর মাসিক ছয় দিন বা সাত দিন হয়ে থাকে। " في عِلْم الله " আল্লাহর বিধান ও তার শরী‘আত মোতাবেক। আর তার বাণী: সাত দিন বা ছয় দিন এখানে (বা) কথাটি সন্দেহের জন্য নয় বরং এটি ধরণ বর্ণনার জন্য। কারণ, অনেক নারীর মাসিক ছয় দিন বা সাত দিন হয়। সুতরাং তার সমবয়সী এবং একই স্বভাবের আত্মীয়দের দিকে দেখেই সিদ্ধান্ত নিবে। “অতঃপর তুমি গোসল কর। যখন তুমি দেখবে যে, তুমি পবিত্র হয়ে গেছো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছো তখন মাসে তেইশ অথবা চব্বিশ রাত এবং তার সমপরিমাণ দিনে সালাত আদায় কর, এবং (সময় হলে) সিয়াম রাখ। এটি তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।” অর্থাৎ যখন ছয় বা সাত দিন অতিবাহিত হবে, তোমাকে গোসল করতে হবে। এরপর তার অতিরিক্ত দিনগুলো তেইশ বা চব্বিশ দিন এগুলো তোমার পবিত্রতার দিন। এ দিনগুলোতে তুমি পবিত্র নারীরা যেমনিভাবে সালাত ও সাওম পালন করে তুমিও তা করতে থাকবে। এটিই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। “এভাবে তুমি প্রতি মাসে করতে থাক, যেমনিভাবে মহিলাদের মাসিক হয় এবং যেমনিভাবে তারা তাদের মাসিকের সময় ও পবিত্রতার সময় পবিত্র হয়।” অর্থাৎ সাধারণ নারীদের মতো প্রতি মাসে ছয় বা সাত দিন মাসিক ধরে নাও। তারপর তুমি গোসল কর এবং সালাত আদায়। অনুরূপভাবে তোমার পবিত্রতা অধিকাংশ নারীর অভ্যাস অনুযায়ী তেইশ বা চব্বিশ দিন। “আর যদি তোমার সামর্থ্য থাকে তুমি যোহরের সালাত বিলম্বে ও আসরের সালাত তাড়াতাড়ি পড়ো এবং এই সালাতদ্বয়ের জন্য একবার গোসল করো এবং দুই সালাত যোহর ও আসর একত্র কর। আর অনুরূপভাবে মাগরিবের সালাত বিলম্বে ও এশার সালাত তাড়াতাড়ি পড়ো এবং এই দু’ সালাতের জন্য একবার গোসল করো এবং দুই সালাতকে একত্র করলে এটিও করতে পার। আর ফজরের সালাতের সাথে গোসল কর। আর যদি তুমি সাওম পালন করতে সক্ষম হও তবে তা পালন কর।” অর্থাৎ যদি তুমি পার যোহরকে শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করবে আর আসরের সালাতকে প্রথম ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করবে। অনুরূপভাবে মাগরিবকে এশা পর্যন্ত বিলম্ব করবে এবং এশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করবে। একে আলেমদের নিকট জাম‘য়ে সূরী (বা বাহ্যিকভাবে একত্র করণ) বলা হয়। আর ফজরের জন্য একবার গোসল করবে। যদি এটি করতে পার তবে কর। সুতরাং মুস্তাহাযাহ নারী তিনবার গোসল করবে। যোহর ও আসবের জন্য একবার মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার। আর দুটি সালাতের মাঝে জাম‘য়ে সুরী করবে। “এ পন্থাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।” অর্থাৎ এটি আমার কাছে বেশি প্রিয়। আর তা হলো, যোহর আসর ও মাগরীব এশার মাঝে একত্র করা। আর গোসল করবে তিনবার। যোহর ও আসরের জন্য একবার আর মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার। আর প্রথম নির্দেশনাটি হলো প্রত্যেক সালাতের জন্য একবার গোসল করা। কিন্তু এ হাদীসটিতে প্রত্যেক সালাতের জন্য একাবার গোসল করার কথাটি উল্লেখ করা হয় নি। তবে আবূ দাউদের অপর একটি বর্ণনায় এসেছে যে, সে প্রতিটি সালাতের জন্য একবার গোসল করবে। আর তাই হলো তার বাণী: " إن قَوِيت فاغتسلي لكل صلاة وإلا فاجْمَعي بين الصلاتين بغسل واحد" সন্দেহ নেই যে, প্রতি সালাতের জন্য গোসল করা স্পষ্টত কষ্টকর। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিতীয় নির্দেশনা সম্পর্কে বলেছেন। “এ পন্থাই আমার নিকট অধিক প্রিয়।” অর্থাৎ দু’টির মধ্যে একটি প্রিয়। কারণ, এটি প্রথমটি অপেক্ষা সহজ ও হালকা।
আসমা বিনতে উমাইস বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! ফাতেমা বিনতে আবূ হুবাইশের এতো এতো দিন থেকে ইস্তেহাযা (রক্তপ্রদর) হয়েছে। ফলে সে সালাত আদায় করে নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয় এটি শয়তানের পক্ষ থেকে। সে গোসলের পাত্রে বসুক। যখন পানির উপর হলদে বর্ণ দেখবে, তখন যোহর ও আসরের জন্য একবার, মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার গোসল করবে। আর তার মাঝখানে সে অযু করবে।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।আসমা বিনতে উমাইস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ফাতেমা বিনতে আবূ হুবাইশের যে ইস্তেহাযা (রক্তপ্রদর) হয়েছে এবং যা তাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত রাখছে সে সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহানাল্লাহ! এটি বিস্ময় প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাত থেকে বিরত থাকার কারণে আশ্চর্য হলেন, অথচ রক্তটি ঋতুর রক্ত নয়, বরং তা ছিল শয়তানের পদাঘাত। যেমনটি অপর হাদীসে বর্ণিত এসেছে “তার করণীয় হচ্ছে গোসল করার পাত্রে বসা, যখন পানির উপর হলদে বর্ণ দেখবে।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ঋতুস্রাব ও ইস্তেহাযার মধ্যে প্রার্থক্য করা জন্য দিকনির্দেশনা দেন, যে পাত্রে কাপড় ধোয়া হয় তাতে যেন সে বসে। যখন দেখবে, যে পানিতে সে বসেছে তার উপর হলদে বর্ণ রয়েছে, এটাই দলীল যে, সে তার মাসিক থেকে পবিত্র হয়েছে। কারণ, মাসিকের রক্ত কালো ও গাঢ়। এ ছাড়া বাকী সব হলো মেয়েদের ইস্তেহাযার রক্ত। “তখন যোহর ও আসরের জন্য একবার, মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার গোসল করবে।” অর্থাৎ যখন দেখবে হলদে বর্ণ পানির উপর বেশি, তখন দিনে ও রাতে তিনবার গোসল করবে। যোহর ও আসরের জন্য একবার মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার। “আর তার মাঝখানে সে অযু করবে।” অর্থাৎ যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাঝখানে যদি সে অন্য কোনো সালাত আদায়ের ইচ্ছা করে, তখন তার জন্য প্রতি সালাতের জন্য অযু করতে হবে। কারণ, তার থেকে অযু ভঙ্গকারী পাওয়া গেছে, তবে সে গোসল করবে না। কারণ, গোসল করা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বৈশিষ্ট। আর এ গোসল হচ্ছে মুস্তাহাব ওয়াজিব নয়। যেমনটি অন্য হাদীসে বর্ণিত।
আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামে বলেছেন, আমাকে এমন কিছু দেওয়া হয়েছে যা আমার পূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয় নি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তা কী? তিনি বললেন, আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। যমীনের চাবিসমূহ আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমার নাম আহমদ রাখা হয়েছে। মাটিকে আমার জন্য পবিত্র করা হয়েছে এবং আমার উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ট উম্মত বানানো হয়েছে।
এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।তার বাণী, “আমাকে এমন কিছু দেওয়া হয়েছে যা আমার পূর্বে কোনো নবীকে দেওয়া হয় নি” এর বাহ্যিক অর্থ হলো, উল্লিখিত বিষয়গুলো তার পূর্বে আর কারো জন্য ছিল না। “আমাকে ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে” অর্থাৎ আমার প্রতি শত্রুদের অন্তরে ভয় ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এটিই তাঁর শত্রুদের অন্তরকে বিচুর্ণ করে দিত, তাদের অহংকারকে নিভিয়ে দিত এবং তাদের সংঘবদ্ধতাকে ভেঙ্গে দিত। তার বাণী: “চাবিসমূহ আমাকে দেওয়া হয়েছে” মিফতাহুন শব্দের বহুবচন। যে যন্ত্র দ্বারা খোলা হয়, তার নাম মিফতাহ। মূলত তা হলো, ঐ সব বিষয়সমূহ যা দ্বারা এমন কঠিনবস্তুসমূহকে বের করা যায়, যেগুলোর প্রতি পৌঁছা কঠিন। তার বাণী: “যমীনের খনিজ সম্পদসমূহ” শহরগুলো বিজিত হওয়ার আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটি খাযানাতুন-এর বহুবচন। শহরবাসী তাতে তাদের সম্পদ গচ্ছিত করে রাখে, কারো হাতে সেটি বিজিত হওয়ার পূর্বে। “আমার নাম আহমদ রাখা হয়েছে” আল্লাহর সংরক্ষণের ফলে ইতোপূর্বে এ দ্বারা কারো নাম রাখা হয় নি। যাতে দূর্বল অন্তরে কোনো প্রকার গড়মিল তৈরি না হয় অথবা পূর্বের কিতাবসমূহে আহমাদ দ্বারা যাকে উল্লেখ করা হয়েছে তার ব্যাপারে সন্দেহ দেখা না দেয়। তার বাণী: “মাটিকে আমার জন্য পবিত্র করা হয়েছে” পানি পাওয়া যখন কষ্টকর হয় তখন তা পবিত্রকারী।
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: মানুষের ওপর তিনটি বিষয় দ্বারা আমাদের সম্মানিত করা হয়েছে। আমাদের কাতারসমূহকে ফিরিশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে। আমাদের জন্য সমগ্র যমীনকে মাসজিদ বানানো হয়েছে এবং যমীনের মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্র করা হয়েছে যখন আমরা পানি না পাবো। অপর একটি বৈশিষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য উম্মতের ওপর এ উম্মতের মর্যাদা ও ফযীলত রয়েছে তার বর্ণনায় এ হাদীসটি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “মানুষের ওপর তিনটি বিষয় দ্বারা আমাদের সম্মানিত করা হয়েছে।” অর্থাৎ, পূর্বের সমস্ত উম্মতের ওপর তিনটি বৈশিষ্ট্য দ্বারা আমাদের সম্মানিত করা হয়েছে। তবে এ উম্মতের বৈশিষ্ট্য তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একের পর এক এ উম্মতের বৈশিষ্টসমূহ অবতীর্ণ হতে থাকত। তখন তিনি অবতীর্ণ হওয়ার পেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিটি সম্পর্কে সংবাদ দিতেন। “আমাদের কাতারসমূহকে ফিরিশতাদের কাতারের মতো করা হয়েছে।” আর তা হলো সালাতে আমাদের দাঁড়ানো ফিরিশতাগণ তাদের রবের সামনে দাঁড়ানোর মতো। তারা প্রথমে সামনের কাতার পূরণ করত, তারপর যে কাতারগুলো তার সাথে মিলিত হত, অতঃপর তারা কাতার ইস্পাতের মতো সোজা করত। যেমনটি আবূ দাউদ ও অন্যান্য হাদীসের কিতাবে বিষয়টি সম্পর্কে ম্পষ্ট বর্ণনা এসেছে: “তোমরা কি ফিরিশতাগন যেভাবে তাদের রবের সামনে কাতারবন্দী হয়, সেভাবে কাতারবন্দি হবে না? আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! ফিরিশতাগণ কীভাবে তাদের রবের সামনে কাতারবন্দি হয়? তিনি বললেন, তারা প্রথম কাতার পূর্ণ করে এবং কাতারের মধ্যে ইস্পাত দৃঢ় থাকে। এটি পূর্বের উম্মাতদের বৈশিষ্ট্যের বিপরীত। কারণ, তারা সালাতে যার যেখানে সুযোগ হয় সেখানে নিজ নিজ খেয়াল খুশি অনুযায়ী দাঁড়াত। “আর আমাদের জন্য সমগ্র যমীনকে মাসজিদ বানানো হয়েছে এবং যমীনের মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্র করা হয়েছে” অর্থাৎ, এ উম্মতের ইবাদতকে সহজ ও সহনীয় করার জন্য পুরো যমীনকে আল্লাহ তা‘আলা সালাত আদায়ের উপযোগী করে দিয়েছেন, যাতে যে কোন জায়গায় সালাতের সময় হয়, তাতে সে সালাত আদায় করতে পারে; কোন জায়গা খাস করেননি। পক্ষান্তরে পূর্বের উম্মতগণ এর বিপরীত। কারণ, তারা শুধু গীর্যা ও উপাসনালয়ে সালাত আদায় করতে পারত। এ কারণেই আমাদের নিকট হাদীসটির অন্যান্য বর্ণনা এসেছে: “আমার পূর্বে তারা তাদের গীর্যাসমূহে সালাত আদায় করত”। অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত: নবীদের কেউ তাদের মিহরাব ছাড়া সালাত আদায় করত না। তবে এ হাদীসটির ব্যাপকতা থেকে ঐসব স্থান খাস করা হয়েছে, যে গুলোতে সালাত আদায় করা সম্পর্কে শরী‘আত প্রণেতা নিষেধ করেছেন। যেমন, গোসল খানা, কবরের স্থান, উটের খোঁয়াড় এবং নাপাক স্থান। “আর তার মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্র করা হয়েছে যখন আমরা পানি না পাবো।” অর্থাৎ, মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করার জন্য পানি না পাওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর ওপর কুরআনের আয়াতও প্রমাণ। আল্লাহ বলেন, “অতঃপর তুমি পানি পেলে না, তবে তুমি পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর” [নিসা, আয়াত: ৪৩] এটি উলামার ঐকমতের স্থল। আর পানি না পাওয়ার সাথে যোগ করা হবে যার পানি ব্যবহার দ্বারা ক্ষতি হবে তাকেও। “আর তিনি অপর একটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন” উপরে দু’টি বৈশিষ্ট্যের আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। কারণ, যমীনকে মসজিদ ও পবিত্র করা একটি বৈশিষ্ট্য। আর তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি এখানে উহ্য। তার আলোচনা বর্ণনাকারী আবূ মালেকের সনদে নাসাঈতে এসেছে। তিনি বলেন, আমাকে আরশের নিচের খনিজ থেকে সূরা বাকারার শেষের আয়াতগুলো দেওয়া হয়েছে, তা থেকে আমার পূর্বে আর কাউকে দেওয়া হয়নি এবং তা থেকে আমার পরে আর কাউকে দেওয়া হবে না।
‘আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দু’জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো।” অন্য বর্ণনায় “মিলিত হয়।”
ইবন হিব্বান এটি বর্ণনা করেছেন। - মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আমাদের মাতা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বর্ণনা করেন যে, বড় নাপাকী দূর করার জন্য একই পাত্রের পানিতে তিনি রাসূলুল্লাহর সাথে একত্রে গোসল করতেন। সেই একত্রে গোসল করার ধরণ তার কথা থেকে অনুমিত হয়, তিনি বলেন, “তাতে আমাদের দু’জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকতো” অর্থাৎ পানি নেওয়ার জন্য পাত্রে একবার আমি হাত দিতাম আরেকবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিতেন। যেমনটি সহীহ বুখারীতে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, একই পাত্র থেকে আমরা উভয়েই পানি তুলতাম।” আর ইবন হিব্বানের দ্বিতীয় বর্ণনায় একত্রে গোসল করার ধরণটা আরেকটু বেশি করেই বলা হয়েছে, যেমন আয়েশার বাণী: “মিলিত হয়” অর্থাৎ এক হাত অপর হাতের সাথে মিশে যেত যখন পাত্র থেকে পানি নেওয়া হতো। আর এ বর্ণনার ভিত্তিতে বলা হয় যে, কোনো কোনো কোশে হাত আগ-পিছ হত, আবার কোনো কোনো কোশে হাত একত্র হত।
উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার চুলের খোপা খুব শক্ত করে বেঁধে থাকি। আমি নাপাকির গোসল করতে কি তা খুলে নিব? তিনি বললেন, না, তোমার হাতে করে তিনবার মাথায় পানি ঢাললেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে। অতঃপর তুমি তোমার সমস্ত দেহে পানি ঢেলে দিবে এবং তাতেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।উম্মে সালমাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা সংবাদ দেন যে, সে তার মাথার চুল দ্বারা খোপা বাঁধতো। অতঃপর বড় নাপাকী থেকে গোসল করার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন যে, চুলের ভিতরে পানি পৌঁছানোর জন্য তা খুলতে হবে নাকি খুলতে হবে না? তিনি বললেন, “না, তোমার হাতে করে তিনবার মাথায় পানি ঢাললেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।” অতঃপর তুমি তোমার সমস্ত দেহে পানি ঢেলে দিবে এবং তাতেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে। অর্থাৎ তুমি বাধ্য নয়, তালু ভর্তি পানি তিনবার ঢেলে দেওয়াই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে, যদি চুলের গোড়া ভিজে গেছে ধারণা হয়। চুলের অভ্যন্তরে পানি পৌঁছুক বা নাই পৌঁছুক। কারণ, যদি চুলের অভ্যন্তরে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব হয়, তবে খোপা খোলা জরুরী যাতে সে নিশ্চিত হয় যে, পানি পৌঁছেছে নাকি পৌঁছে নি। "ثلاث حَثَيَاتٍ" তিন তালু পানি দ্বারা উদ্দেশ্য তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধতা নয় বরং উদ্দেশ্য হলো, চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো। যদি প্রথমবারে পানি চুলের গোড়ায় পৌঁছে তখন তিনবার হবে সুন্নাত। আর যদি না পৌঁছে তখন হবে ওয়াজিব, যাতে চুলের গোড়ায় পৌঁছে। তারপর তোমার দেহের উপর পানি প্রবাহিত করবে। অর্থাৎ তোমার পুরো দেহে পানি প্রবাহিত করবে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার হাদীসে বর্ণিত, অতঃপর তুমি তোমার মাথায় পানি প্রবাহিত করবে। “তারপর তুমি পবিত্র হবে” আবূ দাউদ ও অন্যান্যের বর্ণনায় বর্ণিত, তখন তুমি পবিত্র হলে। অর্থাৎ তুমি বড় নাপাকী থেকে। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফাতওয়া দেন যে, বড় নাপাকী বা মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল করতে তাকে তার চুলের খোপা খুলতে হবে। তার জন্য যথেষ্ট হলো, তার মাথার উপর হাত দ্বারা তালু ভর্তি পানি তিনবার দেওয়াই যথেষ্ট এবং পুরো দেহকে পানি দ্বারা ধুয়ে নিবে। এ দ্বারা সে বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা লাভ করবে।
মায়মূনাহ্ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য গোসলের পানি ঢেলে রাখলাম। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত ধুলেন। অতঃপর তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করলেন এবং মাটিতে তাঁর হাত ঘষলেন। পরে তা ধুয়ে কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, তারপর তাঁর চেহারা ধুলেন এবং মাথার উপর পানি ঢাললেন। পরে ঐ স্থান হতে সরে গিয়ে দুই পা ধুলেন। অবশেষে তাঁকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীসের অর্থ: উম্মে হাবীবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা সংবাদ দেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য অপবিত্রতা থেকে গোসল করার জন্য পানি প্রস্তুত করেন। তিনি ডান হাত দিয়ে পানি নিয়ে বাম হাতের ওপর ঢালেন। অতঃপর তিনি উভয় হাত ধৌত করেন। কারণ, দুই হাত হলো পানি স্থানান্তর করার যন্ত্র। তাই তিনি দুই হাতের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে হাত ধোয়াকে পছন্দ করলেন। “তিনি দু’হাত ধুলেন” ইমাম বুখারীর নিকট মাইমুনাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে অপর একটি বর্ণনায় বর্ণিত: তিনি দুই হাত দুইবার অথবা তিনবার ধৌত করেন। দুই হাত ধোয়ার পর তিনি তার বাম হাত দিয়ে লজ্জা-স্থান ধৌত করেন যাতে বীর্য ইত্যাদি থেকে যে আবর্জনা লেগে আছে তা দূর করে নেন। এ লজ্জা-স্থান দ্বারা উদ্দেশ্য লিঙ্গ, যেটি বুখারীর বর্ণনা স্পষ্ট করেন: “অতঃপর বাম হাতের ওপর পানি ঢালেন এবং স্বীয় লিঙ্গকে ধৌত করেন”। অতঃপর মাটিতে তাঁর হাত ঘষলেন। এ দ্বারা উদ্দেশ্য মাটিতে হাত মারলেন। এখানে হাত দ্বারা বাম হাত উদ্দেশ্য। যেমনটি স্পষ্ট করে সহীহ বুখারীর বর্ণনা: “অতঃপর তিনি তার বাম হাতকে মাটি মারলেন এবং ভালোভাবে ঘষলেন” মাটিতে ঘষলেন যাতে হাতের মধ্যে ময়লা অথবা দুর্গন্ধ যা মিশে আছে তা দূর হয়ে যায়। অতঃপর তিনি পানি দিয়ে তার বাম হাত ধুয়ে নিলেন যাতে লেগে থাকা মাটি ও ময়লা ইত্যাদি দূর হয়ে যায়। আর দুই হাত ধোয়া ও পরিষ্কার করা কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া শুরু করার পূর্ব শর্ত। অতঃপর তিনি তার চেহারা ধুইলেন। এ বর্ণনাতে তিনি ওযূ করেছেন কথাটি নেই। তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিমের নিকট তার অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “তারপর তিনি সালাতের ওযূর মতো ওযূ করেন” অনুরূপভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকেও এ ধরনের বর্ণনা এসেছে। তারপর তিনি তার মাথার উপর পানি ঢাললেন। তার অপর বর্ণনায় বর্ণিত: “তারপর হাতের তালু ভর্তি তিন কোষ পানি তার মাথার ওপর দিলেন। অতঃপর সারা শরীর ধুলেন।” যদি সারা শরীরে পানি পৌঁছে যায় তাহলে একবারই যথেষ্ট। তারপর ওযূ ও গোসল সম্পন্ন করার গোসলের স্থান থেকে কিছুদূর সরে গিয়ে দ্বিতীয়বার দুই পা ধুলেন। অবশেষে তাঁকে একটি রুমাল দেয়া হল, কিন্তু তিনি তা দিয়ে শরীর মুছলেন না এবং পানির ভিজা দূর করা জন্য মাসেহ করলেন না। অপর একটি বর্ণনায় তারপর আমি একটি রুমাল নিয়ে এলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। অপর বর্ণনায় বর্ণিত: একটি রুমাল উপস্থিত করা হলে তিনি তা স্পর্শ করলেন না এবং বলতে আরম্ভ করলেন, “এভাবে পানি দ্বারা” অর্থাৎ তিনি পানি ঝাড়া দেন।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, উম্মে সুলাইম বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ঘুমে পুরুষ যা দেখে তাই দেখতে পায় (স্বপ্নদোষ হয়)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “মেয়ে লোক যখন এরূপ দেখবে তখন সে গোসল করবে।” উম্মে সুলাইম বলেন, এ কথায় আমি লজ্জাবোধ করলাম। তিনি বললেন, এ রকমও কি হয়? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, তা না হলে ছেলে মেয়ে তার সদৃশ কোথা থেকে হয়? পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা আর মেয়েলোকের বীর্য পাতলা হলুদ। উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তার মা উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে ঘুমে পুরুষ যা দেখে তাই দেখতে পায় (স্বপ্নদোষ হয়)। অর্থাৎ নারী ঘুমে তাই দেখে যা পুরুষ সহবাসের ফলে দেখে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “মেয়ে লোক যখন এরূপ দেখবে (স্বপ্নদোষ হবে) তখন সে গোসল করবে।” অর্থাৎ পুরুষ যা স্বপ্নে দেখে তা মহিলারাও দেখলে যদি বীর্যপাত হয় তবে সে গোসল করবে। যেমন বুখারীর বর্ণনায় এসেছে। হ্যাঁ সে যদি পানি বের হওয়া দেখে তবে গোসল করবে। ঘুম থেকে উঠে যদি বীর্যপাত হওয়া দেখে। পক্ষান্তরে ঘুমে যদি স্বপ্নদোষ দেখে কিন্তু বীর্যপাত না দেখে তবে তাকে গোসল করতে হবে না। কেননা বীর্যপাতের উপর ভিত্তি করে গোসলের হুকুম দেওয়া হয়। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে স্বপ্নদোষের কথা স্মরণ করতে পারল না কিন্তু ঘুম থেকে উঠে নিজের লজ্জাস্থান ভিজে দেখতে পেল। এর উত্তরে তিনি বললেন, সে গোসল করবে। আবার আরেক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞস করা হলো যে যে স্বপ্ন দেখেছে; কিন্তু লজ্জাস্থান (বা কাপড়) ভিজে পায় নি। তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন, সে ব্যক্তির গোসল করতে হবে না। উম্মে সুলাইম বলেন, কোন নারী এরূপ দেখলে তার কি গোসর করতে হবে? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, নিশ্চয় নারী পুরুষের সাদৃশ। বর্ণনায় আহমাদ ও আবূ দাউদ। উম্মে সুলাইম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একথা শুনো লজ্জাবোধ করলেন। এবং তিনি বললেন, এ রকমও কি হয়? অর্থাৎ পুরুষের মতো নারীরও স্বপ্নদোষ ও বীর্যপাত হয়? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হ্যাঁ, অর্থাৎ পুরুষের মতো নারীরও স্বপ্নদোষ ও বীর্যপাত হয়। এতে নারী পুরুষ কোন ভেদাভেদ নেই। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এর কারণ বর্ণনা করে বলেন, তা না হলে ছেলে মেয়ে তার সদৃশ কোথা থেকে হয়? বুখারী ও মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এসেছে, তা না হলে সন্তান কীভাবে তার মায়ের সাদৃশ হয়। অর্থাৎ নারীর বীর্য বের না হলে সন্তান কীভাবে মায়ের সাদৃশ হয়? অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও পুরুষের বীর্যের ধরণ বর্ণনা করে বলেন, “পুরুষের বীর্য গাঢ় সাদা আর মেয়েলোকের বীর্য পাতলা হলুদ।” এ গুণ প্রযোজ্য হবে অধিকাংশ লোকের ক্ষেত্রে ও বীর্য নিরাপদ ও ভালো থাকলে। কেননা পুরুষের বীর্য কখনও কখনও অসুস্থতার কারণে পাতলা হয়ে যায় এবং অধিক পরিমাণে সহবাসের কারণে লাল হয়। আবার নারী শক্তিশালী হলে কখনও কখনও তার বীর্য সাদা হয়। আলেমগণ আরো উল্লেখ করেছেন যে, পুরুষের বীর্য চেনায় আরো কিছু উপায় রয়েছ। তা হলো পুরুষের বীর্য সজোরে নির্গত হয়। এ দিকে ইঙ্গিত করে কুরআনে এসেছে, “তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে দ্রুতবেগে নির্গত পানি থেকে।” [সূরা আত-তারিক, আয়াত: 6] তাছাড়া পুরুষের বীর্যপাতের সময় উত্তেজনা ও যৌনসুখ অনুভব হয়। আর বীর্য বের হয়ে গেলে অনাসক্তি অনুভব হয়। বীর্যের গন্ধ খেজুরের শীষের গন্ধের মতো লাগে। আর খেজুরের শীষের গন্ধ অনেকটা ময়দার তালের গন্ধের মতো হয়। অন্যদিকে মেয়েদের বীর্য সম্পর্কে আলেমগণ বলেছেন, এর রয়েছে দু’টি বৈশিষ্ট্য। এর যে কোন একটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলে তা দ্বারা নারীর বীর্য চেনা যায়। প্রথমটি হলো, নারীর বীর্যের গন্ধও পুরুষের বীর্যের গন্ধের মতো। আর দ্বিতীয়ত বীর্য নির্গত হওয়ার সময় যৌনসুখ অনুভব হয় এবং বীর্যপাত শেষ হয়ে গেলে অনাসক্তির সৃষ্টি হয়। বীর্য হওয়ার জন্য উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী বিদ্যমান থাকা শর্ত নয়; বরং যে কোন একটি গুণ পাওয়া গেলেই তা বীর্য বলে গণ্য হবে। কিন্তু উপরোক্ত গুণাবলীর কোন একটিও যদি বিদ্যমান না থাকে তবে তা বীর্যের হুকুম দেওয়া যাবে না এবং প্রবল ধারণা করা হবে যে, এটি বীর্য ছিলো না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “উভয়ের মধ্য থেকে যার বীর্য ওপরে উঠে যায় অথবা আগে চলে যায় (সন্তান) তারই সদৃশ হয়।” অন্য বর্ণনায় সাবাকা শব্দের পরিবর্তে গালাবা অর্থাৎ নারী ও পুরুষের যার বীর্য আগে নির্গত হবে। সুতরাং যার শুক্র আগে নির্গত হবে তার আধিক্য ও শক্তির কারণে সন্তান তার অনুরূপ হবে। কতিপয় আলেম বলেছেন, হাদীসে বর্ণিত ‘আলা শব্দের অর্থ সাবাকা তথা আগে নির্গত হওয়া। সুতরাং পুরুষের শুক্র আগে নির্গত হলে সন্তান তার সদৃশ হবে আর নারীর শুক্র পুরুষের আগে নির্গত হলে সন্তান নারীর সদৃশ হবে। কেননা নারী ও পুরুষের শুক্র নারীর জরায়ুতে একত্রিত হয়। পুরুষ ও নারীর শুক্র নির্গত হয়ে জরায়ুতে মিলিত হয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। এ কারণে আল্লাহ বলেছেন, “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে।” [সূরা আল-ইনসান, আয়াত:2] অর্থাৎ নারী ও পুরুষ উভয়ের মিশ্রিত শুক্রবিন্দ থেকে আল্লাহ মানব সৃষ্টি করেছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোবর ও হাড্ডি দ্বারা ইসতিঞ্জা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এ দু’টি জিনিস পবিত্র করে না”।
এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্রাব বা মলত্যাগের মাধ্যমে মলত্যাগকারী কাউকে পশুর হাড়, গোবর বা শুকনো বর্জ্য ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বললেন: এটি অপবিত্রতা দূর করে না, আবার পবিত্রও করে না।