Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
এ হাদীসটিতে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাওম পালনকারী হতেন তখন মাগরিবের সালাতের পূর্বে কতিপয় টাটকা পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি টাটকা পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর যোগে ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুরও না হত, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা স্বাস্থ্য সম্মত। কারণ, সায়িমের পেট খালি থাকার কারণে প্রথমে চর্বি জাতীয় খাবার দ্বারা আরম্ভ করবে না। যাতে তার কোন ক্ষতি না হয়।
মুমিনদের মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তিনি কীভাবে আচরণ করতেন? সে বলল: তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ ছিলেন এবং সেও তাই করতেন যা পুরুষরা তাদের বাড়িতে করেন, নিজের এবং পরিবারের সেবা করতেন। সে তার ভেড়ার দুধ দোহন করত, কাপড় সেলাই করত, জুতা সেলাই করত এবং বালতিতে প্যাচ লাগাইত, যখন সালাতের সময় আসত, তখন তিনি বিলম্ব না করে তার জন্য বেরিয়ে যেতেন।
হাদীসটিতে মানুষের সেই জীবনকে সর্বোত্তম জীবন বলা হয়েছে যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, “যখন সে যুদ্ধের আওয়াজ অথবা অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনে অমনি তার পিঠে চড়ে উড়ে যায় এবং নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে শত্রুকে অথবা শাহাদতকে অনুসন্ধান করে।” অর্থাৎ সে যখনই শত্রুর আগমনের আওয়াজ শুনে তখনই ঘোড়ার পিঠে দ্রুত বেড়িয়ে পড়ে। ‘হাইআহ’ বলা হয়, শত্রুর উপস্থিত হওয়ার শব্দকে। আর ‘ফায‘আহ’ বলা হয় শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়াকে। ‘শাহাদাতের স্থানসমূহে শাহাদাত তালাশ করে’ এর অর্থ, শাহাদাতের প্রবল আকাঙ্খার কারণে সে শাহাদাতকে এমনসব স্থানে তালাশ করে যেখানে সেটা পাবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এ হাদীসে আরেকটি ব্যাপার সাব্যস্ত হয় যে, নির্জনে বাসবাস করাও উত্তম। যে ব্যক্তি জন-মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নির্জনে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করে, মানুষের মাঝে কেবল কল্যাণমূলক কাজেই মেলা-মেশা করে থাকে সে ব্যক্তিও উত্তম।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে এসেছে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী লাহয়ান গোত্রের নিকট একটি সৈন্য দল প্রেরণ করার ইচ্ছা করলেন। তারা ছিল হুযাইল বংশের প্রসিদ্ধ গোত্র। উলামাগণ এ বিষয়ে একমত যে, বনী লাহইয়ান ঐ সময় কাফির ছিল। তাদের নিকট একটি সৈন্যদল পাঠালো যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তারপর তাদেরকে বললেন, “যেন প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন লোক যোগদান করে, তার উদ্দেশ্য প্রত্যেক গোত্র থেকে তাদের সংখ্যার অর্ধেক। আর সওয়াব অর্থাৎ যা উপার্জিত হবে তা যোদ্ধা ও তার পশ্চাতে তার প্রতিনিধিত্বকারীর মধ্যে সমান হবে। এটিই পূর্বের হাদীদের অর্থ যাতে বলা হয়, “যে ব্যক্তি কোন যোদ্ধার প্রতিনিধিত্ব করল সে নিজেও যুদ্ধ করল।” সহীহ মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত: “তোমাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি যুদ্ধে বের হওয়া ব্যক্তির পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে কল্যাণের সাথে প্রতিনিধিত্ব করে, তার জন্য যোদ্ধার সাওয়াবের অর্ধেক সাওয়াব মিলবে।” অতএব হাদীসটির অর্থ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে একজনকে যুদ্ধে যেতে নির্দেশ দেন আর অপর জনকে যুদ্ধে না গিয়ে যিনি যুদ্ধে গেলেন তার পরিবার-পরিজনের সহযোগীতা করা, তাদের দায়িত্ব পালন করা এবং তাদের প্রয়োজন মেটানোর নির্দেশ দেন। ফলে তার জন্য অর্ধেক সাওয়াব লাভ হবে আর বাকী অর্ধেক যোদ্ধার জন্য।
জাহিলিয়্যাতের যুগের লোকেরা করত -এমন একটি কর্ম থেকে সতর্ক করার জন্য হাদীসটি বর্ণিত। আর তা হলো যে পিতা নয় তাকে পিতা বলে দাবী করা। একজন মানুষের জন্য ওয়াজিব হলো, সে যেন তার পিতা, দাদা ও বাপের দাদা ইত্যাদির দিকে বংশের সম্পর্ক বর্ণনা করে। তার পিতা নয় এমন ব্যক্তির দিকে জেনে শোনে বংশের দাবি করা কোনো ক্রমেই হালাল হবে না। যেমন, তার পিতা অমুক গোত্রের লোক যে গোত্রে অপর গোত্র অপেক্ষা কিছু দুর্বলতা আছে। তখন সে নিজের গোত্র বাদ দিয়ে দ্বিতীয় গোত্রের সন্তান দাবি করল যা উচ্চ বংশ, যাতে নিজের গোত্রের দূর্নাম তার থেকে দূর হয়। হাদীসে এ ধরনের কর্ম যে করে তার জন্য জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
যে ব্যক্তি জেনে শোনে ইচ্ছা করে স্বীয় পিতার বংশ থেকে বিমুখ হবে, সে ছোট কুফরি করবে। এখানে সত্যিকার কুফর যা একজন মানুষকে চির জাহান্নামী করে তা উদ্দেশ্য নয়। বরং এ হলো বড় কুফরীর চেয়ে ছোট আকারের কুফরী। এ কর্মটি যে হারাম ও ঘৃণিত তা বুঝানোর জন্য এ কথাটি দ্বারা জোর এবং ধমক দেওয়া হয়েছে।
হাদীসের দুটি সম্ভাব্য অর্থ রয়েছে। এক: যে যোদ্ধাদল বা সেনাবাহিনী দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করল অতঃপর তাদের থেকে মুক্ত হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরল এবং গনীমতের সম্পদ অর্জন করল, তার সাওয়াব ও বিনিময় কম হবে সে যোদ্ধা দল থেকে যারা নিরাপদে বাড়ি ফিরল না অথবা বাড়ি ফিরল কিন্তু গণীমত লাভ করল না। এ অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন ইমাম নাওয়াওয়ী রহ.। দুই: হাদীসটি গণীমতের সম্পদ হালাল হওয়ার প্রমাণ, সাওয়াব কম হওয়ার দলীল নয়। এখানে বরং কিছু সাওয়াব ও বিনিময় নগদ লাভের কথা আলোচনা করা হয়েছে; যাতে গণীমত লাভকারী বা লাভ না কারীর কোনো পার্থক্য করা হয় নি। তবে গণীমত লাভকারীকে তার বিনিময়ের এক তৃতীয়াংশ নগদে প্রদান করা হয়েছে, যদিও সামগ্রিক বিবেচনায় তারা উভয়ই বিনিময় লাভে সমান। আল্লাহ তা‘আলা যার গণীমত লাভ ছুটে গেছে তাকে আখিরাতে সে পরিমাণ সাওয়াব বৃদ্ধি করে দিবেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তার সাওয়াব বহু গুণ বাড়িয়ে দেন। এ মত ব্যক্ত করেছেন ইবন আব্দুল বার রহ.।
হাদীসটিতে মুসলিম ক্রীতদাসকে মুক্ত করার ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি কোনো ক্রীতদাস মুক্ত করবে, সে যেন তার পুরো দেহকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করলো। আর ক্রীতদাস অবস্থা থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে তাদের থেকে দাসত্বের অপমান দূর করে মুসলিমদের ইয্যত সংরক্ষণ করা হয়।
যে ব্যক্তি নিরেট আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন সাওম পালন করে তার ফযীলত সম্পর্কে হাদীসটি বর্ণিত। আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেবেন এবং তাকে জাহান্নাম থেকে আসমান ও যমীনের দূরত্বের সমপরিমাণ দূরে রাখবেন।