





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
নাওয়াস ইবনু সাম‘আন আল-আনসারী রদিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “পুণ্য হলো সৎ স্বভাবের নাম। আর পাপ হলো তাই, যা তোমার অন্তরে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং তা লোকে জেনে ফেলুক এ কথা তুমি পছন্দ কর না”। ওয়াবিসা ইবনু মা'বাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলাম। তখন তিনি বললেন: “তুমি পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে জানতে এসেছো, তাই তো?” আমি বললাম: জি হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: “তোমার হৃদয় থেকে ফতোয়া নাও। পুণ্য (البِرّ) হলো— যা তোমার আত্মা স্বস্তিতে গ্রহণ করে, আর তোমার অন্তর যাতে প্রশান্ত হয়। আর পাপ (الإثم) হলো— যা তোমার অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে এবং তোমার বুকের ভেতরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে, যদিও লোকেরা তোমাকে তা করার ফতোয়া দিক বা উৎসাহ দিক।”
প্রথম হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আর দ্বিতীয় হাদীসটি আহমাদ ও দারিমী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুণ্য (বির) এবং পাপ (ইসম) সম্পর্কে বলেছেন: পুণ্যের সর্বোত্তম গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো — আল্লাহর প্রতি সদাচরণ, যা তাকওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়; এবং সৃষ্টির প্রতি সদাচরণ, যা মানুষের কষ্ট সহ্য করা, রাগ কমানো, মুখে হাসি রাখা, মিষ্টভাষী হওয়া, সম্পর্ক রক্ষা করা, আনুগত্য, নম্রতা, দয়া এবং সুন্দর সহবত ও সঙ্গ দানের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বস্তুত পুণ্য হচ্ছে সেই জিনিস, যা অন্তর ও আত্মাকে শান্তি ও প্রশান্তি দেয়। আর পাপ হচ্ছে— সেই সব কাজ, যা নিয়ে তোমার মনে সন্দেহ জাগে, স্পষ্ট হওয়া ছাড়া দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে, অন্তরে সংশয় সৃষ্টি হয়, গুনাহ হওয়ার ভয় থাকে। এটি প্রকাশ হোক তুমি তা চাও না, কারণ এটা সম্মানিত, সৎ ও জ্ঞানী মানুষদের চোখে খারাপ। কারণ মানুষের স্বভাবই এমন যে, সে চায় সবাই তার ভালো কাজ জানুক। তাহলে যদি এমন কিছু করো যা তুমি মানুষকে দেখাতে চাও না, বুঝে নাও— ওটা ভালো কিছু না, বরং সেটা পাপ। এমনকি মানুষজন যদি তোমাকে সেটা হালাল বা ঠিক বলে ফতোয়া দিলেও, যতক্ষণ তোমার মনে সন্দেহ থাকে— সেই কাজ করো না। কারণ, যদি সন্দেহ সঠিক হয় এবং মুফতি না জেনে ফতোয়া দেয়, তাহলে সেই ফতোয়া সন্দেহ দূর করতে পারে না, তবে যদি সেই ফতোয়ার পেছনে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক প্রমাণ থাকে, প্রশ্নকারীর উপর ওয়াজিব সেটা মেনে নেওয়া—যদিও তোমার মন তখনও পুরোপুরি শান্ত না হয়।
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামের বিধানসমূহ আমার ওপর অনেক বেশি হয়ে গেছে। একটি পরিপূর্ণ অধ্যায় আছে কি যেটা আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি? তিনি বললেন: "তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে।" অন্য বর্ণনায় মু‘আয ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে আমি যখন বিদায় নেই, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম: ‘কোন আমল সর্বোত্তম এবং আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী?’ তিনি বললেন: “তুমি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করো— যখন তোমার জিহ্বা আল্লাহ তাআলার জিকিরে ভিজে থাকে”।
এটি আহমাদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান বর্ণনা করেছেন।একজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ করল যে, নফল ইবাদত তার ওপর এতো বেশী হয়ে গেছে যে তিনি তার দুর্বলতার কারণে সেগুলো পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অটল থাকা ও আঁকড়ে ধরার জন্য বেশী সাওয়াব আনয়নকারী কিছু অল্প আমলের নির্দেশ করলেন। তাই তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার যিকিরের দ্বারা তার জিহ্বা নরম এবং তাজা রাখতে নির্দেশ করেছেন; যেমন তাসবীহ পাঠ করা, তাহমীদ পাঠ করা, ইস্তেগফার করা, দোয়া করা প্রভৃতি।
আবূ বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না?” তিনবার বললেন, তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, “আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া”। তিনি হেলান দিয়েছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসলেন আর বললেন, “সাবধান! মিথ্যা কথা বলা”। তিনি বলেন, তিনি তা বারবার বলতে থাকলেন অবশেষে আমরা বললাম, যদি তিনি চুপ করতেন।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন, তার প্রেক্ষিতে এই তিনটি উল্লেখ করেছেন: ১- আল্লাহর সাথে শির্ক করা: আর তা হলো ইবাদতের প্রকারসমূহ থেকে কোনো প্রকার ইবাদত আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর ইবাদতের একত্বে, তাঁর একক প্রভুত্বে এবং নাম ও সিফাতসমূহে তাঁর সমকক্ষ করা। ২- পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া: পিতা-মাতার জন্য কষ্টদায়ক যাবতীয় আচরণ অবাধ্য হওয়ার অন্তর্ভুক্ত। সেটি কথা হোক বা কর্ম হোক এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা ছেড়ে দেওয়া। ৩- মিথ্যা কথা বলা; তার-ই প্রকার হলো মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া: আর তা হচ্ছে প্রত্যেক বানানো ও মিথ্যা কথা যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মিথ্যা যার বিপক্ষে যায় তার সম্পদ দখল করে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অথবা তার সম্মানের উপর সীমালঙ্ঘন করা অথবা তার মত কিছু করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা কথার অসারতা এবং সমাজে তার খারাপ প্রভাবের উপর সাবধান করে তার থেকে সতর্কীকরণ কে বারবার উচ্চারণ করেছেন, অবশেষে সাহাবীগণ বললেন: যদি তিনি চুপ করতেন, (তারা এটা বলেছেন) তার প্রতি করুনা করে এবং ওই জিনিসকে অপছন্দ করে যা তাকে বিরক্ত করছিল।
মিকদাম ইবনু মা’দীকারাব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন কোন ব্যক্তি তার কোন ভাইকে ভালোবাসে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে ভালোবাসে।”
সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও মুসনাদে আহমদনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে মুমিনদের মাঝে সম্পর্ক মজবুত করা ও তাদের মধ্যে পরস্পর ভালোবাসা বৃদ্ধির একটি উপায় বর্ণনা করেছেন। আর তা হলো: যখন সে তার ভাইকে ভালোবাসবে, তখন সে যেন তাকে জানিয়ে দেয়, সে তাকে ভালোবাসে।
’আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “কবীরা গুনাহ হলো: আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম করা।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে কবীরা গুনাহর বর্ণনা করেছেন, আর তা হলো সেসব গুনাহর কারণে তাতে ব্যক্তিকে দুনিয়া ও আখিরাতের কঠিন শাস্তির ধমক শোনানো হয়েছে। সর্বপ্রথম কবীরা গুনাহ হলো “আল্লাহর সাথে শরীক করা”: আর তা হলো কোনো প্রকার ইবাদতকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর ইবাদতের একত্বে, তাঁর একক প্রভুত্বে এবং নাম ও সিফাতসমূহে তাঁর সমকক্ষ করা। দ্বিতীয় কবীরা গুনাহ হলো “পিতা-মাতার নাফরমানী করা”: আর তা হলো প্রত্যেক এমন বিষয় যা পিতা-মাতার কষ্টের কারণ হয়। সেটা কথা হোক অথবা কর্ম হোক, এবং তাদের প্রতি অনুগ্রহ করা থেকে বিরত থাকা। তৃতীয় কবীরা গুনা হলো অন্যায়ভাবে “কাউকে হত্যা করা”, যেমন জুলম ও সীমালঙ্ঘন করে হত্যা করা। চতুর্থ কবীরা গুনাহ হলো “মিথ্যা কসম খাওয়া”: আর তা হলো নিজ থেকে মিথ্যা জানার পরও মিথ্যা কসম করা। মিথ্যা কসমকে গামুস (ডুবিয়ে দেওয়া) নামকরণ করার কারণ হলো: এই কসম ব্যক্তিকে পাপে অথবা আগুনে ডুবিয়ে দেয়।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বিধবা ও মিসকীন-এর জন্য (খাদ্য জোগাড়) চেষ্টারত ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদের মতো অথবা রাতে সালাত আদায়কারী ও দিনে সিয়াম পালকারীর মতো।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমএ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে সাওয়াব পাওয়ার আশায় এমন বিধবা নারীর অভাব অনটন মিটাতে সাহায্য করে, যার দেখভাল করার মতো কেউ নেই এবং অভাবী মিসকীনের জন্য খাদ্য জোগাড় ও অভাব পূরণের কাজে নিয়োজিত থাকে, সে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মুজাহিদের মতো অথবা রাতে ক্লান্তিহীনভাবে তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারী ও দিনে অবিরত সিয়াম পালকারীর মতো সাওয়াব পাবে।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে।” সাহাবীগণ বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন: “(১) আল্লাহর সাথে শিরক করা। (২) যাদু (৩) আল্লাহ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে সাতটি ধ্বংসাত্মক অপরাধ থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে সেগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করলেন: প্রথম: আল্লাহর সাথে শিরক করা: যে কোন দিক বিবেচনায় আল্লাহর সাথে তাঁর কোন সমকক্ষ বা অনুরূপ সমমর্যাদাবান সাব্যস্ত করা। যে কোন ইবাদাত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা। তিনি শিরক এর দ্বারা বর্ণনা শুরু করেছেন; কেননা এটি সবচেয়ে মারাত্মক গুনাহ। দ্বিতীয়: যাদু: গিরা লাগানো, মন্ত্র, অসমর্থিত চিকিৎসা এবং ধোঁয়া প্রয়োগ ইত্যাদি, যা হত্যা, রোগ-ব্যাধি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলাদা করার জন্য যাদুগ্রস্তের শরীরে প্রভাব ফেলে। এটি একটি শয়তানী কাজ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি শিরক এবং খবিশ আত্মা যা পছন্দ করে সেগুলোর মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়। তৃতীয়: আল্লাহ তা‘আলা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়তসম্মত কারণ ব্যতিরেকে যা বিচারক বাস্তবায়ন করে থাকে, এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা। চতুর্থ: সুদ খাওয়া: সুদ খাওয়া বা অন্য কোন উপায়ে সুদের দ্বারা উপকৃত হওয়া। পঞ্চম: যার নাবালেগ অবস্থায় পিতা মারা যায় এমন ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা। ষষ্ঠ: কাফিরদের বিরুদ্ধে চলমান রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া। সপ্তম: স্বাধীন (সরল প্রকৃতির) স্বচ্চরিত্রের অধিকারী নারীদেরকে যিনার অপবাদ দেওয়া, এমনিভাবে পুরুষদের বিরুদ্ধেও অপবাদ দেওয়া।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিজেদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না, আর আমার কবরকে ঈদ বা মেলায় পরিণত করো না এবং তোমরা আমার ওপর দুরূদ পড়। কারণ, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দুরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।”
আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরগুলোকে সালাত থেকে বিছিন্ন করে কবরের ন্যায় করতে নিষেধ করেছেন, যেখানে সালাত আদায় হয় না। তিনি তাঁর কবর বারবার যিয়ারত করতে এবং কবরে মেলার ন্যায় জমায়েত হতে নিষেধ করেছেন। কেননা এটি শিরকের উসিলা। বরং তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে তাঁর উপরে দরুদ ও সালাম পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা দূরের হোক বা কাছের, সকলের দরুদ ও সালাম সমানভাবে তাঁর কাছে পৌঁছানো হয়। সুতরাং বারবার তাঁর কবরের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সাহল ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন, যখন একজন মুসলিম দুটি জিনিস হেফাজতের জন্য আবশ্যক করবে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। প্রথম: যেসব কথায় আল্লাহ রাগান্বিত হয় সেগুলো থেকে জিহ্বা তথা যবানকে হেফাজত করা। দ্বিতীয়: অশ্লীল কাজ থেকে লজ্জাস্থানের হেফাজত করা। কেননা এ দুটি অঙ্গের দ্বারাই সাধারণত অধিকাংশ পাপের কাজ সংঘটিত হয়।