





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আবূ শুরাইহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না।” জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ! কে সে? তিনি বললেন: “যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার শপথ করে বললেন: আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়, আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়, আল্লাহর কসম, সে ঈমানদার নয়। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: কে, হে রাসুল আল্লাহ? তিনি বললেন: যে তার প্রতিবেশীকে তার প্রতারণা, অবিচার এবং খারাপ আচরণের থেকে নিরাপদ রাখে না।
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তিম মুহূর্তে তার অসিয়াত এই ছিল যে, “সালাত পড়বে এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে। সালাত পড়বে এবং তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে।” এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও তিনি বারবার একথা বলতে থাকেন। এভাবে শেষ পর্যন্ত যবান হেলে পড়তে লাগলো।
নাসায়ীর সুনানুল কুবরা ও সুনানে ইবনে মাজাহনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর সময় উম্মতকে সবচেয়ে বেশি যে উপদেশ দিয়েছিলেন, তা ছিল: «তোমরা সালাতকে আঁকড়ে ধরো এবং এর প্রতি যত্নবান হও, আর এ থেকে গাফেল হয়ো না।» এছাড়াও তিনি বলেছিলেন: «তোমরা তোমাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদের অধিকার আদায় করো এবং তাদের সাথে সদাচরণ করো।» তিনি এ কথাগুলো বারবার বলতে থাকেন, এমনকি তাঁর গলায় গড়গড় শব্দ হতে থাকে এবং তাঁর জিহ্বা এগুলো স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সক্ষম হচ্ছিল না।
উবাদাহ ইবন সামেত রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন, একই পরিমাণে, সমান সমানে, হাতে হাতে (নগদে) হতে হবে। আর যদি এ শ্রেণির মধ্যে পরিবর্তন আসে, তখন তোমরা হাতে হাতে (নগদে) হলে যেমন খুশি বিক্রয় করতে পারবে।”
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী (সা.) ছয়টি সূদভুক্ত পণ্যের (সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর এবং লবণ) সঠিক বিক্রয় পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। যদি একই ধরনের পণ্য বিক্রি হয়, যেমন সোনার বিনিময়ে সোনা বা রূপার বিনিময়ে রূপা, তবে দুইটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে: প্রথমত: সমতা থাকতে হবে: যদি পণ্য ওজনে নির্ধারিত হয়, যেমন সোনা বা রূপা, তবে ওজন সমান হতে হবে। যদি পণ্য পাত্রের মাপে নির্ধারিত হয়, যেমন গম, যব, খেজুর বা লবণ, তবে মাপে সমান হতে হবে।" দ্বিতীয়ত: পণ্য ও মূল্য তাৎক্ষণিক বিনিময় করতে হবে: বিক্রেতা পণ্যের মূল্য গ্রহণ করবেন এবং ক্রেতা পণ্য গ্রহণ করবেন, এবং এই লেনদেন একই বৈঠকে (লেনদেন সম্পাদনের মজলিসে) শেষ করতে হবে। যদি পণ্য ভিন্ন ধরনের হয়, যেমন সোনার বিনিময়ে রূপা বা খেজুরের বিনিময়ে গম, তাহলে বিক্রয় বৈধ হবে একটি শর্তে: ক্রয়- বিক্রয়ের বৈঠকেই পণ্য ও মূল্য বিনিময় করতে হবে। যদি এই শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ই হারাম সুদের লেনদেনে অংশগ্রহণ করবে।
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “লুঙ্গির (কাপড়ের) যে অংশ টাখনুর নিচে হবে তা জাহান্নামে যাবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদেরকে সতর্ক করেছেন, যেন তাদের নিচের শরীর ঢাকার জন্য পরিধেয় কাপড়, পাজামা বা অন্য কিছু গোড়ালির নিচে ঝুলিয়ে না রাখে। গোড়ালির নিচে যার কাপড় ঝুলবে, তার পা জাহান্নামের আগুনে যাবে, যা তার এই কাজের শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত।
আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস উমার ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “সব কাজ (এর প্রাপ্য) হবে নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।”
মুহাদ্দিসগণের ইমামদ্বয় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহীম ইবনুল মুগীরাহ ইবন বারদিযবাহ আল-বুখারী এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবন মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নাইসাপূরী তাদের উভয়ের সহীহ গ্এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ইবাদত ও লেনদেনসহ সকল কাজের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি তার আমলের দ্বারা শুধু পার্থিব উপকারিতা লাভের উদ্দেশ্য করবে সে শুধু উক্ত উপকারিতাই লাভ করবে, কোন সাওয়াব প্রাপ্ত হবে না। অপরদিকে যদি কেউ তার আমলের দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য উদ্দেশ্য করলে, সে উক্ত আমলের দ্বারা সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে; যদিও কাজটি সাধারণ কোন কাজ হয়, যেমন খাওয়া বা পান করা। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাজের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রভাব বুঝাতে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন; যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কাজ দুটি সমান। তিনি বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি স্বীয় দেশ ত্যাগ করে হিজরত করবে এবং সে উক্ত হিজরতের দ্বারা তার রবের সন্তুষ্টি তালাশ করবে, তাহলে তার হিজরত শরী‘য়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হিজরত বলে বিবেচিত হবে এবং তার নিয়াতের বিশুদ্ধতার কারণে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব সুযোগ-সবিধার জন্য যেমন, ধন-সম্পদ, সুনাম-সুখ্যাতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা স্ত্রী ইত্যাদি লাভের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, তবে সে উক্ত হিজরতের দ্বারা শুধু পার্থিব উদ্দেশ্যই হাসিল করবে, এতে তার কোন সাওয়াব এবং পুরস্কার প্রাপ্তি হবে না।
আবূ আব্দুল্লাহ নু’মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “নিশ্চই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয়, অধিকাংশ লোকই সেগুলো জানে না। যে ব্যক্তি এ সব অস্পষ্ট বিষয় থেকে দূরে থাকে, সে তার দীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে। আর যে লোক অস্পষ্ট বিষয়ে পতিত হবে, সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যেমন কোন রাখাল সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়, আশংকা রয়েছে যে, পশু তার অভ্যন্তরে যেয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তার হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখো, দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে। যখন তা সুস্থ থাকে, তখন সমস্ত শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। মনে রেখো, তা হল ’ক্বলব’ (হৃদয়)।”
ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বস্তু হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে সাধারণ মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। ইসলামী শরী‘আতে সকল বস্তু তিন প্রকারের হয়ে থাকে। ১। সুস্পষ্ট হালাল ২। সুস্পষ্ট হারাম ৩। হালাল-হারাম হওয়ার ব্যাপারে অস্পষ্ট , অধিকাংশ মানুষ যার হুকুম জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয়সমূহ পরিহার করে, সে ব্যক্তি হারামে পতিত হওয়া থেকে দূরে থেকে তার দীনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে। তাছাড়া সেসব সংশয় পূর্ণ জিনিসে পতিত হওয়ার কারণে মানুষের সমালোচনা থেকে মুক্ত থেকে তার মান-সম্মানও নিরাপদ থাকে। আর যে ব্যক্তি এসব সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকে না, সে হয় হারামে লিপ্ত হয়ে পড়ে অথবা মানুষ (তার সমালোচনা করে) তার সম্মানহানী করে। যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে একটি উপমা পেশ করেছেন যে, সে ব্যক্তি এমন একজন রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত (সরকারী) চারণভূমির আশ-পাশে পশু চরায়। এটি সংরক্ষিত চারণভূমির অতি নিকটে হওয়ায় আশংকা রয়েছে যে, তার পশুগুলো এর অভ্যন্তরে গিয়ে ঘাস খেয়ে ফেলবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি সংশয়পূর্ণ বস্তুতে লিপ্ত হয়, সেও উক্ত সন্দেহজনক কাজটির মাধ্যমে হারামের অতি নিকটবর্তী হয়ে পড়ে, হতে পারে যে, সে অচিরেই হারামে নিপতিত হয়ে পড়বে। এরপরে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষের দেহের মধ্যে এক টুকরা মাংস আছে, যার নাম ক্বলব (অন্তর)। শরীরের সুস্থতা এর সুস্থতার মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং এর অসুস্থতার মাধ্যমেই শরীর অসুস্থ হয়ে থাকে।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিম আবূ হামযাহ আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো মুসলিমের পূর্ণ ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না দীন ও দুনিয়ার ইবাদত ও কল্যাণসমূহে সে তার ভাইয়ের জন্য তা পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে এবং তার জন্য তা অপছন্দ করে যা সে তার নিজের জন্য অপছন্দ করে, যদি সে তার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে তার দীনের ঘাটতি দেখে তবে সে তা সংশোধন করার চেষ্টা করে এবং যদি সে তার মধ্যে কোনো ভাল দেখে, তাকে সঠিক কথা বলে ও তাকে সাহায্য করে এবং তাকে তার দীন ও দুনিয়ার বিষয়ে ভালো উপদেশ দেয়।
আবূ মাসউদ উকবাহ ইবনু আমর আল-আনসারী আল-বাদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: “পূর্বেকার নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে লোকেরা যা লাভ করেছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে: যখন তুমি লজ্জা করবে না তখন যা ইচ্ছা তাই কর।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন যে, পূর্ববর্তী নবীদের কাছ থেকে যা এসেছে এবং লোকেরা তাদের মধ্যে যা প্রচলন করেছে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রম করে এসে এই উম্মতের প্রথম যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে তা হল একটি উপদেশ: তুমি যা করতে চাও তার দিকে একটু দৃষ্টি দাও। যদি তা লজ্জার না হয় সম্পাদন কর আর যদি লজ্জার হয় পরিত্যাগ কর। কারণ, খারাপ কর্ম থেকে বাধা দানকারী হল কেবল লজ্জা। কাজেই যার লজ্জা নেই সে প্রত্যেক অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজে নিমজ্জিত হবে।
উমার ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তা'আলার ওপর তাওয়াক্কুল কর, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিযিক দেন সেভাবে তোমাদেরও রিযিক দেবেন। পাখিরা সকাল বেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে”।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে এবং হাকেম।এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়া ও দীনের ব্যাপারে উপকার সাধন ও ক্ষতি দূরীকরণে আমাদেরকে মহান আল্লাহর উপর যথাযোগ্য তাওয়াক্কুল (ভরসা) করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কেউ দিতে বা দেয়া থেকে বিরত রাখতে পারে না এবং তিনি ব্যতীত কেউ উপকার বা কোন ক্ষতিও করতে পারে না। মহান আল্লাহর উপর সত্যিকারে তাওয়াক্কুল রেখে যেসব উপায় উপকরণ উপকার সাধন করতে এবং ক্ষতি প্রতিহত করতে সাহায্য করে আমাদেরকে সেসব উপায় উপকরণ গ্রহণ করতে হবে। আমরা যখন এরূপ করব তখন আল্লাহ আমাদেরকে রিযিক দান করবেন যেভাবে তিনি পাখিদেরকে দান করে থাকেন। তারা সকালে ক্ষুধার্ত হয়ে (বাসা থেকে) বের হয়, অতপর সন্ধ্যায় উদর পূর্ণ করে (বাসায়) ফিরে আসে। উপায় অবলম্বন বর্জন ও অলসতা করে ঘরে বসে না থেকে রিযিকের সন্ধানে পাখিদের বাসা থেকে বের হওয়ার এ কাজটি একটি উপায় গ্রহণ মাত্র।