





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
জাবির ইবন সামুরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াযযিন (তাঁর জন্য) অপেক্ষা করতেন— ইক্বামাত দিতেন না। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বেরিয়ে আসতে দেখতেন তখন সালাতের ইক্বামাত দিতেন।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে বর্ণিত, ইক্বামতের সময় নির্ধারণ করা একমাত্র ইমামেরই অধিকার। কেননা মুয়াযযিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাললাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের না হওয়া পর্যন্ত ইক্বামত দিতেন না।
আমের ইবন রাবী‘আহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অন্ধকার রাতে একটি সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। আমরা জানলাম না যে কিবলা কোন দিকে? ফলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ধারণা অনুযায়ী সালাত আদায় করেন। তারপর যখন সকাল হলো বিষয়টি আমরা রাসূলুল্লাহর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন আয়াত নাযিল হলো, “তোমরা যেদিকে ফিলো সেদিকেই আল্লাহর চেহারা”। [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১১৫]
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।কোন একটি সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথীদের সাথে ছিলেন। তারা কিবলার দিক সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। ফলে তারা তাদের ইজতিহাদ অনুযায়ী সালাত আদায় করেন। তারপর যখন সকাল করল তারা জানতে পারলো যে, তারা কিবলা বাদ দিয়ে অন্য দিকে সালাত আদায় করেছেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানালেন। তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন। “পশ্চিম ও পূর্ব আল্লাহর জন্যই। তোমরা যেদিকে ফিরো সেদিকেই আল্লাহর চেহারা”। [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১১৫]
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে কিবলা অবস্থিত।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি মালেক বর্ণনা করেছেন।“পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে কিবলা অবস্থিত।" হাদীসটির অর্থ: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বর্ণনা যে, পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে সালাত আদায়কারীদের জন্য কিবলা রয়েছে। এটি মদীনাবাসী এবং আরও যাদের দিক তাদের সাথে মিলে। কারণ, তারা কিবলার উত্তর দিকে অবস্থান করে। মদীনাবাসী এবং আরও যারা তাদের বরাবর উত্তরে অবস্থান করে, যেমন শাম ও উত্তরের জনপদবাসী, তারা পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে কিবলা মুখ হবে। অর্থাৎ দক্ষিনে কা‘বার দিকে মুখ ফিরাবে। আর ইয়ামান ও তাদের পাশে যারা দক্ষিণে থাকবে তারা পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে উত্তর দিকে মুখ করবে। আর যারা পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থান করেন তাদের কিবলা হবে উত্তর ও দক্ষিণের মাঝে। কারণ, মুলত দিক হলো চারটি। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম। যখন মুসল্লী কা‘বা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে হবে তখন তার কিবলা হবে উত্তর ও দক্ষিণের মাঝখানে। আর যখন কাবা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণের অবস্থান করবে তখন তার কিবলা হবে পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের ওপর সহজীকরণ। কারণ, যদি তাদের থেকে সরাসরি কা‘বা সামনে রাখা দাবি করা হতো তাহলে কারো সালাতই সহীহ হতো না। অতএব যে ব্যক্তি কা‘বা থেকে দূরে অবস্থান করছে বা যে কা‘বাকে দেখছে না তার ক্ষেত্রে সামান্য দিকবেদিক হওয়াতে সালাতে কোন প্রভাব পড়বে না যতক্ষণ না সে কা‘বা থেকে ঘুরে যাবে বা তাকে এক পাশে ফেলে দিবে। এমতাবস্থায় তার সালাত শুদ্ধ হবে না। কারণ, সে কিবলামুখী হয়নি।
আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। হঠাৎ তিনি তার জুতাদ্বয় খুলে বাম পাশে রাখলেন। সাহাবীগণ তা দেখে তাদের জুতাগুলো খুলে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শেষ করে বললেন, কী কারণে তোমরা তোমাদের জুতা খুলে ফেললে?। তারা বলল, আপনাকে জুতা খুলতে দেখে আমরাও খুলে ফেলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জিবরীল আমার নিকট এসে বলেছে, আমার জুতাদ্বয়ে নাপাকী বা ময়লা রয়েছে। আর তিনি বললেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসে তখন সে যেন তার জুতাদ্বয় দেখে নেয়। সে যদি তার জুতাদ্বয়ে নাপাকী বা ময়লা দেখে তাহলে তা যেন মুছে নেয় এবং তাতে সালাত আদায় করে।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারিমী বর্ণনা করেছেনএকদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ তিনি তার জুতাদ্বয় খুলে বাম পাশে রাখেন। সাহাবীগণ যখন তা দেখলেন তখন তারাও রাসূলের অনুকরণ ও অনুসরণ তাদের জুতাগুলো খুলে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শেষ করে তাদের দিক মুখ ফিরালেন তখন সালাতে প্রবেশের সময়ের অবস্থার ব্যতিক্রম দেখতে পেলেন। তাই তাদের জুতা খোলার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল, আপনাকে জুতা খুলতে দেখে আমরাও খুলে ফেলেছি। অর্থাৎ আপনার অনুসরণে। কারণ, তারা ধারণা করেছিল যে, জুতা পরিধান করে সালাত আদায়ের বৈধতা রহিত করা হয়েছে। তাই তিনি তার নিজের জুতা খোলার কারণ সম্পর্কে এ বলে অবহিত করলেন যে, জিবরীল আমার নিকট এসে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমার জুতাদ্বয়ে নাপাকী বা ময়লা রয়েছে। এটি বর্ণনাকারীর সংশয়। তাপরর তিনি বললেন, তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে তখন সে যেন তার জুতাদ্বয় দেখে নেয়। সে যদি তার জুতাদ্বয়ে নাপাকী বা ময়লা দেখে তাহলে তা যেন মুছে নেয় এবং তাতে সালাত আদায় করে। যখন কোন ব্যক্তি জুতাদ্বয় নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা এবং তা নিয়ে সালাত আদায়ের ইচ্ছা করে, তখন তার উপর ওয়াজিব হলো তা দেখে নেওয়া। যদি তাতে কোন ময়লা বা নাপাকী দেখতে পায় তাহলে তা দূর করার জন্য তা যেন জমিনে বা অন্য কিছু দ্বারা মুছে নেয়। তারপর যেন তাতে সালাত আদায় করে। এর অর্থ এ নয় যে, মানুষের জন্য জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা জরুরী। ইচ্ছা করলে তাতে সালাত আদায় করতে পারে আবার নাও আদায় করতে পারে। তবে যখন তাতে সালাত আদায়ের ইচ্ছা করবে তখন তার উপর জুতাদ্বয় পরিস্কার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া তার উপর ওয়াজিব। তারপর ইচ্ছা করলে তাতে সালাত আদায় করতে পারে। যে ব্যক্তি সালাত আরম্ভ করল অথচ নাপাকী সম্পর্কে সতর্ক হলো না, তা চাই জুতায় হোক বা রুমালে হোক বা কাপড়ে বা টুপিতে হোক। অতঃপর সালাতের মাঝখানে সে জানতে পারল, তাহলে সে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুলে ফেলেবে। আর যদি কাপড় বা পায়জামায় নাপাকী আছে বলে প্রকাশ পায়, তখন যদি সতর ডাকা পরিমাণ কাপড় অবশিষ্ট রেখে নাপাকীযুক্ত কাপড় খুলে ফেলা সম্ভব হয় তবে তা খুলে ফেলবে এবং সালাত চালিয়ে যাবে। তাকে পুণরায় সালাত আদায় করতে হবে না। আর যদি সতর খোলা ছাড়া নাপাকী থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সালাত ছেড়ে দিবে। তারপর সতর ডাকবে এবং সালাত পুণরায় আদায় করবে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,“যখন মোজাদ্বয় দ্বারা নাপাকী পাড়ানো হয়, তখন তার পবিত্রতা হলো মাটি।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।যখন কোন মানুষ মোজা, জুতা বা এ ধরনের কোন কিছু যা দ্বারা পা ডাকা হয়, পরিধান করল এবং সে নাপাকী পাড়ালো, অতঃপর নাপাক জুতা বা মোজা নিয়ে পবিত্র স্থানে চলাচল করল অথবা মাটি দ্বারা তা ঘষা দিল, তখন তার মোজাদ্বয় পাক হয়ে যাবে এবং তাতে সালাত বৈধ হবে।
আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমতাবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি যে, কান্নার কারণে তার বুকের মধ্যে চাক্কির আওয়াজের মতো আওয়াজ ছিল”।
এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায় করতে দেখেন এমতাবস্থায় যে তার থেকে চাক্কির (যাঁতার) আওয়াজের মতো আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। কারণ, চাক্কি দিয়ে যখন আটা ইত্যাদি পিষা হয় তখন তার থেকে একটি আওয়াজ বের হয়। সাহাবী—রাদিয়াল্লাহু আনহু— সালাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কান্নার আওয়াজকে চাক্কির আওয়াজের সাথে তুলনা করেন। এ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা তার রবের সাথে। অথচ আল্লাহ তার অতীত ও ভবিষ্যতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তারপরও তিনি তার রবকে পরিপূর্ণভাবে চেনার কারণে সব মানুষের চেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করেন এবং তার তাকওয়া অবলম্বন করেন।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবাতে সালাত আদায় করতে বের হলেন। তিনি বলেন, তখন আনসারগণ এসে তাকে সালাতরত অবস্থায় সালাম দিল। তিনি বললেন, আমি বিলালকে বললাম, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামকে সালাত অবস্থায় সালামের উত্তর কীভাবে দিতে দেখেছ? তিনি বলেন, এভাবে বলেছেন, স্বীয় কব্জিকে প্রশস্ত করেন এবং তার পেটকে নিচে ও পিটকে উপরে রাখেন।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।হাদীসটি বর্ণনা করে যে, সালাত অবস্থায় ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া বৈধ। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সালামের উত্তর দিয়েছেন যখন তারা তাকে মসজিদে কুবাতে সালাত আদায় করা অবস্থায় সালাত দেন। আর তার পদ্ধতি হলো, শুধু কব্জিকে প্রসারিত করা দ্বারা।
আবূ কাতাদাহ আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিছি তিনি মানুষের সালাতের ইমামতি করছেন অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেয়ের মেয়ে উমামাহ বিনত আবীল আস তার কাঁধে ছিল। যখন তিনি রুকূ‘ করেন তখন তাকে নীচে রাখেন আর যখন সেজদা থেকে উঠেন তখন তাকে আবার তুলে নেন”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।হাদীস শরীফটি বর্ণনা করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়ের মেয়ে উমামাহ বিনত আবীল আসকে কাঁধে নিয়ে মানুষের ইমামতি করেন। এমনকি যখন তিনি রুকূ‘ ও সেজদা করতেন তখন তাকে নীচে রাখতেন আর যখন দাঁড়াতেন তখন তাকে আবার তুলে নেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, সালাত অবস্থায় বাচ্চাদের বহন করাতে কোন অসুবিধা নেই।
আবূ বকরা নুফাই ইবন হারেস আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মুসাফিরের জন্য তিন দিন এবং তিন রাত এবং মুকীমের জন্য এক রাত একদিন মুজাদ্বয়ের উপর মাসেহ করার অনুমতি দিয়েছেন যদি সে পবিত্র হওয়ার পর মুজাদ্বয় পরিধান করে থাকেন।
এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন।তিনি মুসাফিরের জন্য তিনদিন এবং তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একরাত একদিন মুজাদ্বয়ের উপর মাসেহ করার অনুমতি দিয়েছেন; যদি সে পবিত্র হওয়ার পর মুজাদ্বয় পরিধান করে থাকেন। আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, মুজার ওপর মাসেহ করতে মুসাফিরের জন্য তিনদিন এবং তিনরাত এবং মুকীমের জন্য একরাত একদিন অনুমতি দিয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, মুসাফিরের জন্য মাসেহ করার নির্ধারিত সময় তিনদিন তিনরাত। আর মুকীমের জন্য একদিন একরাত। এ ভাবে সময় নির্ধারণ করা সম্পর্কে দশের বেশি সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে মুসাফিরের ক্ষেত্রে সময় বেশি দেওয়া কারণ হলো সফরে কষ্ট হওয়ার কারণে সে মুকীমের তুলনায় সুযোগ পাওয়ার বেশি হকদার। আর মাসেহ করার ওয়াক্ত শুরু হয়, ওযূ ভঙ্গের পর থেকে। তার বাণী: যখন সে পবিত্র অবস্থায় মুজাদ্বয় পরিধান করে। মুসাফির ও মুকীম যখন ছোট নাপাকী থেকে পবিত্র হবে, তখন তারা মুজার ওপর মাসেহ করবে। মুজা হলো জামড়ার জুতা যা টাখনুকে ডেকে ফেলে। আর জাওরাব হলো, পুরুষের পরিধেয়। তা যে কোন বস্তু পশম বা সূতা বা চামড়া হতে পারে। আর মোটা বা চিকন উভয় হতে পারে। এটি টাখনুর উপর থেকে পরিধান করে ঠান্ডার কারণে। হাদীসে এ বাক্যটির অর্থ হলো, মুজার পরিধান করা হয়েছে পবিত্রতার পর। সুতরাং শর্ত হলো পবিত্র অবস্থায় মুজা পরিধান করা। যদিও মুজা পরিধান ও পবিত্রতা অর্জনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয়ে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় পরিধাণ করছে বলে সাব্যস্ত হবে, তার জন্য মাসেহ করা বৈধ হবে। মাসেহ বলা হয়, ভিজা হাতকে অঙ্গের ওপর বুলিয়ে দেওয়া। আর হাদীসের বর্ণনানুযায়ী মাসেহ মুজার উপরিভাগে তার ভিতরে বা নিচে নয়।