





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، الطِّيَرَةُ شِرْكٌ، -ثلاثًا-»، وَمَا مِنَّا إِلَّا، وَلَكِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ ‘ শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক। শুভাশুভ নির্ণয় করা শির্ক।” একথা তিনি তিনবার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন) এমন কিছু আমাদের অনেকের মনে সৃষ্টি হতেই পারে, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুল-ভরসা দ্বারা দূর করে দিবেন।’
এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভাশুভ নির্ণয় করা থেকে সাবধান করেছেন। আর তা হলো শ্রুত বা দৃশ্যমান কোন কিছু দ্বারা অশুভকর মনে করা। যেমন: পাখি, পশু, বিকলাঙ্গ ব্যক্তি বা সংখ্যা বা দিন বা অন্য কিছুর মাধ্যমে অশুভ নির্ণয় করা। হাদীসে পাখির দ্বারা শুভাশুভ নির্ণয় করার ব্যাপারে বলা হয়েছে; কেননা এটি দ্বারা শুভাশুভ নির্ণয় করা জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিলো। এর পদ্ধতি হলো: কোন সফর বা ব্যবসা বা অন্য কোন কাজ শুরু করার আগে একটি পাখি উড়িয়ে দেওয়া হতো। পাখিটি যদি ডান দিকে উড়ে যেতো তবে তারা সেটিকে শুভ মনে করতো এবং তাদের ইচ্ছাকৃত কাজটি সম্পন্ন করতো। আর পাখিটি যদি বাম দিকে উড়ে যেতো তবে সেটিকে তারা অশুভ মনে করতো এবং ইচ্ছাকৃত কাজটি করা থেকে বিরত থাকত। তিনি খবর দিয়েছেন যে, এটি সম্পূর্ণ শির্ক। অশুভ নির্ণয় শির্ক হওয়ার কারণ হলো, আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কোন কল্যাণ দিতে পারে না। অন্যদিকে অকল্যাণ ও ক্ষতিও একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ প্রতিহত করতে পারে না। ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু উল্লেখ করেন যে, কখনো কখনো মুসলিমের অন্তরে অশুভ হওয়ার ব্যাপারে কিছু উদয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে কাজের উপকরণ গ্রহণ করে আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তার প্রতিহত করা উচিত।
আব্দুল্লাহ ইবন শিখখির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: انْطَلَقْتُ في وَفدِ بَنِي عَامِرٍ إِلى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، فَقُلنا: أَنتَ سيّدُنَا، فقال: «السَّيدُ اللهُ»، قُلنا: وَأَفْضَلُنا فَضْلاً، وأعظَمُنا طَوْلاً، فقال: «قُولُوا بِقَولِكُم، أَو بَعضِ قولِكُم، وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُم الشَّيطَانُ». একদা আমি বনু আমিরের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে বললাম: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি বললেন: “মনিব হলেন আল্লাহ তা‘আলা।” আমরা বললাম: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি। তখন তিনি বললেন: “তোমরা এ কথা বলতে পারো বা এর কিছুটা। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হতে পারে।’’
এটি আবু দাউদ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলো। তাঁর কাছে এসে তারা –তাঁর প্রশংসা সূচক- কিছু কথা বলল, যা তিনি অপছন্দ করলেন। তারা বলল: আপনি হলেন আমাদের মনিব। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “মনিব হলেন একমাত্র আল্লাহ।” সৃষ্টির উপর তাঁর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব রয়েছে এবং তারা তাঁর বান্দা। তারা আরো বলল: আপনি হলেন আমাদের মধ্যকার শ্রেষ্ঠ ও মহান ব্যক্তি এবং মর্যাদা, সম্মান ও যোগ্যতায় সর্বোচ্চ। আপনি "আমাদের মধ্যে মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ" এবং সর্বাপেক্ষা উদার, আপনি সুউচ্চ মর্যাদা এবং সম্মানের অধিকারী। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন সাধারণত প্রশংসায় যা বলে তা-ই বলে এবং শব্দচয়নে যেন কৃত্রিমতার আশ্রয় না নেয়। শয়তান যেন তাদেরকে টেনে অতিরঞ্জন ও বাড়া বাড়ি তে না নিয়ে যায়, যা তাদেরকে নিষিদ্ধ শিরক এবং এর মাধ্যমসমূহের মধ্যে ফেলবে।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, তিনি উপস্থিত হবেন। তারপর তার রবের জন্য সেজদা করবেন এবং তার প্রশংসা করবেন। [তিনি প্রথমেই সুপারিশ করা আরম্ভ করবেন না] অতঃপর তাকে বলা হবে: তুমি মাথা উঠাও এবং বল, তোমার কথা শোন হবে। আর তুমি চাও, তোমাকে দেওয়া হবে। আর তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবুল করা হবে।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামাতের দিন উপস্থিত হবেন তারপর আল্লাহর জন্য সেজদা করবেন ও তার নিকট দো‘আ করবেন। তারপর আল্লাহ তাকে মহান সুপারিশের অনুমতি দেবেন। তখন তার রব তাকে বলবেন, তুমি চাও তোমাকে দেওয়া হবে। তুমি সুপারিশ কর তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ তোমার চাওয়া গ্রহণ করা হলো এবং তোমার সুপারিশ গ্রহণ করা হলো।
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ الْعَقَبَةِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ: «الْقُطْ لِي حَصًى» فَلَقَطْتُ لَهُ سَبْعَ حَصَيَاتٍ، هُنَّ حَصَى الْخَذْفِ، فَجَعَلَ يَنْفُضُهُنَّ فِي كَفِّهِ وَيَقُولُ: «أَمْثَالَ هَؤُلَاءِ فَارْمُوا» ثُمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ، فَإِنَّما أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ». রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরাতুল ’আকাবার ভোরে তাঁর উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় বলেন: “আমার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করে আন।” আমি তাঁর জন্য সাতটি কঙ্কর সংগ্রহ করলাম। তা ছিল আকারে ক্ষুদ্র। তিনি তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন: “এই আকারের ক্ষুদ্র কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।” অতঃপর তিনি বলেন: “হে মানব সকল! দীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকেদেরকে দীনের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে।”
এটি ইবনে মাজাহ, নাসায়ী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বর্ণনা করেন যে, তিনি বিদায় হজ্জের সময় কোরবানির দিন জামারাত আল-‘আক্বাবা তে পাথর মারার সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন। তিনি তাকে তার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলে তিনি (ইবনু আব্বাস) তাঁর জন্য সাতটি কঙ্কর সংগ্রহ করলেন, যার মধ্যে প্রতিটি ছিল ছোলা বা হেজেলনাটের আকার, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বলেন: “এই আকারের ক্ষুদ্র কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।” অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি, চরমপন্থা এবং সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, কারণ পূর্ববর্তী জাতিগুলো দ্বীনের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন, বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ، وَلاَ هَامَةَ وَلاَ صَفَرَ، وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ : “কোন সংক্রামণ নেই, কোন পাখির গণনা নেই, কোন পেঁচার কুলক্ষণ নেই, সফর মাসের কোন অকল্যাণ নেই। আর কুষ্ঠ রোগী থেকে পালিয়ে যাও, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে পালিয়ে যাও।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় জাহেলী যুগের কাজের বর্ণনা করেছেন এগুলো থেকে সতর্ক করার জন্য এবং এটা জানানোর জন্য যে, সব কিছুই আল্লাহর হাতে আর আল্লাহর আদেশ এবং তাকদীর ছাড়া কোন কিছুই হয় না, আর এগুলো হচ্ছে: প্রথমত: জাহেলী যুগের লোকেরা ধারণা করত যে, রোগ নিজ থেকেই অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়, এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম তাদেরকে এ বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছেন যে, রোগ এক রোগী থেকে অন্য রোগীর মধ্যে নিজে থেকেই স্থানান্তর হয়, বরং আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন সমগ্র জগতের মহাপরিচালক; আর তিনিই রোগ দিয়ে থাকেন এবং তিনি এটাকে তুলে নেন, তাঁর লেখা এবং ইচ্ছা ব্যতীত কোন কিছুই ঘটে না। দ্বিতীয়ত: জাহেলী যুগের মানুষেরা যখন কোন সফর অথবা ব্যবসার উদ্দেশ্যে বের হত তখন তারা পাখি উড়িয়ে দিত, যদি সেটি ডানে উড়ে যেত, তাহলে তারা সুসংবাদ মনে করত, আর যদি সেটি বামে উড়ে যেত, তাহলে তারা তাকে কুলক্ষণ মনে করত এবং ফিরে যেত, এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাখির মাধ্যমে কুলক্ষণ বিচার করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এটি একটি বাতিল বিশ্বাস। তৃতীয়ত: জাহেলী যুগের লোকেরা বলত: যখন কোন পেঁচা কারো বাড়িতে উড়ে আসে, তখন তা ঐ বাড়ির জন্য মুসীবত নিয়ে আসে। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেঁচার মাধ্যমে অমঙ্গল নির্ণয় নিষিদ্ধ করেছেন। চতুর্থত: সফর মাসে অকল্যাণ রয়েছে এমন বিশ্বাস থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, সফর হচ্ছে চন্দ্র মাসের দ্বিতীয় মাস। বলা হত যে, সফর হচ্ছে পেটে থাকা এক ধরণের সাপ, যা মানুষ ও গবাদি পশুকে আক্রান্ত করে, তারা ধারণা করত যে, এটি খোস-পাঁচড়া থেকেও অধিক সংক্রামক; এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিশ্বাসকে নাকচ করেছেন। পঞ্চমত: তিনি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যেভাবে একজন ব্যক্তি সিংহ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। আর এটি হচ্ছে মানুষের জন্য সতর্কতা অবলম্বন, উক্ত রোগ থেকে রক্ষা চাওয়া এবং আল্লাহ উপকরণগত যেসব বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন, সেই কাজ সম্পাদন করা। কুষ্ঠ রোগ হচ্ছে: এমন একটি রোগ যাতে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়।
হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাদুকর ছাড়া কেউ যাদু খণ্ডন করতে পারে না।
এটি ইবন আবী শাইবাহ বর্ণনা করেছেন। - এটি খাত্তাবী বর্ণনা করেছেন।‘নুশরা’ হলো যাদু ভাঙ্গা। হাসান এর কথার বাহ্যিক অর্থ নুশরাহ নিষিদ্ধ প্রমাণ করে। কারণ, যাদুর চিকিৎসা কেবল সে ব্যক্তি করতে পারে যার কাছে যাদু বিদ্যার জ্ঞান রয়েছে। ফলে এটিই যাদুকে সমপর্যায়ের যাদু দ্বারা ভাঙ্গার নামান্তর। আর তা অবশ্যই শয়তানের কর্ম। ইবনুল কাইয়্যেম রহ. বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করেছেন, যার সারসংক্ষেপ হলো, যাদুর চিকিৎসা কোনো বৈধ ঔষধ ও কুরআনের তিলাওয়াতের দ্বারা করা বৈধ। আর যাদুর চিকিৎসা যাদু দ্বারা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, সাত আসমান ও সাত যমীন রহমানের হাতের তালুতে, তোমাদের কারো হাতে একটি শস্য দানার মতোই তুচ্ছ।
ইবন জারীর এটি বর্ণনা করেছেন। - এটি আয-যাহাবী “আল-উলু” কিতাবে বর্ণনা করেছেন - এটি আব্দুল্লাহ ইবনুল ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।এ আসরটিতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমাদের সংবাদ দেন যে, রহমানের হাতে সাত আসমান ও যমীনের তুলনা সু-বিশাল হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কারো হাতের তালুতে একটি ছোট শস্য দানার মতো। আর এটি একটি আপেক্ষিকতার উদাহরণ। অন্যথায় এখানে হাতের তালুকে হাতের তালুর সাথে তুলনা করা হয় নি। কারণ, কোনো কিছুই তার সিফাতের সদৃশ হতে পারে না যেমনিভাবে কোনো কিছু তার সত্ত্বার সদৃশ হতে পারে না।
আবূ যার গিফারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “কুরসী ‘আরশের তুলনায় যমীনের বিশাল মরুভুমির উপর একটি লোহার আংটির মতো।”
এটি ইবন আবী শাইবাহ ‘আল-আরশ’ নামী কিতাবে বর্ণনা করেছেন। - এটি আয-যাহাবী “আল-উলু” কিতাবে বর্ণনা করেছেনআবূ যার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, কুরসী প্রসস্থ ও মহান হওয়ার বিবেচনায় আরশের তুলনায় একটি লোহার আংটির মতো, যা জমিনের বিশাল মরুভুমির সামনে রাখা হয়। এটি তার স্রষ্টার মহত্ব ও তার পরিপূর্ণ কুদরতের প্রমাণ বহন করে।
আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সংক্রমণ বলতে কোন কিছু নেই এবং কুলক্ষণও নেই। তবে আমকে খুশি করে ফাল (শুভ লক্ষণ)। তারা বলল, ফাল কি? তিনি বললেন, ভালো কথা।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন, জাহেলি যুগের লোকেরা ধারণা পোষণ করত যে, রোগ নিজে থেকেই অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়াই, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এবং তিনি এও জানান যে, 'তিয়ারা' (কুলক্ষণ) অর্থাৎ কোন কিছু দেখা বা শোনা কে অশুভ লক্ষণ মনে করা ভিত্তিহীন। যেমন পাখি, প্রাণী, বিকলাঙ্গ ব্যক্তি, সংখ্যা, দিন বা অন্য কিছুকে কুলক্ষণ মনে করা। তিনি পাখির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এটি জাহেলি যুগে খুব প্রচলিত ছিল। এর মূল বিষয় ছিল কোনো কাজ শুরু করার সময়, যেমন ভ্রমণ, ব্যবসা বা অন্য কোনো কাজে যাওয়ার সময় পাখি উড়িয়ে দেওয়া। যদি পাখি ডান দিকে উড়ে যেত, তবে তারা শুভ লক্ষণ মনে করে তাদের কাজে এগিয়ে যেত। আর যদি পাখি বাম দিকে উড়ে যেত, তবে তারা অশুভ লক্ষণ মনে করে তাদের কাজ থেকে বিরত থাকত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানান যে, তিনি 'ফাল' (শুভ লক্ষণ) পছন্দ করেন। এটি হলো মানুষের মনে সৃষ্টি হওয়া আনন্দ ও খুশি, যা সে কোনো ভালো কথা শুনে অনুভব করে এবং এতে সে তার রবের প্রতি ভালো ধারণা পোষণ করে।