





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি দেখিনি সা‘দ ব্যতীত অন্য কোন মানুষকে উৎসর্গ করেছেন। আমি তাকে বলতে শুনেছি, “(হে সা‘দ) তুমি তীর নিক্ষেপ কর আমার মাতা পিতা তোমার জন্য কুরবান হোক”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সংবাদ দেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেননি সা‘আদ ইবন আবী ওয়াক্কাস ব্যতীত কোন মানুষকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি ওহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছেন, তিনি সা‘দকে বলছেন: তুমি তীর দ্বারা কাফিরদের ওপর আক্রমণ কর আমার মাতা পিতা তোমার জন্য উৎসর্গ করলাম। অর্থাৎ, আমি আমার মাতা পিতাকে পেশ করলাম যাতে তারা তোমার ফিদয়া হয় এবং তুমি নিরাপদ থাকো। সহীহ হাদীসে প্রমাণিত যে, খন্দকের যুদ্ধে যুবাইরের জন্য তিনি তার মাতা পিতাকে উৎসর্গ করেন। উভয়ের মধ্যে এভাবে সামঞ্জস্য স্থাপন করা হবে যে, হতে পারে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এ বিষয়টি জানতেন না অথবা তার উদ্দেশ্য উহুদের যুদ্ধের বিষয়টি আলোচনা করা।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্নিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, তোমাদের বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা আমার পর আমাকে চিন্তায় ফেলবে। তোমাদের ওপর কেবল ধৈর্যশীলগণই ধৈর্য ধারণ করবেন। তিনি বললেন, অতঃপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন, আল্লাহ তা‘আলা তোমার পিতাকে সালসাবীল জান্নাত থেকে পান করিয়েছেন অর্থাৎ, আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি রাসূলের স্ত্রীদের একটি মুল্যবান সম্পদ প্রদান করেন। বলা হয় চল্লিশ হাজারে তা বিক্রি করা হয়েছিল।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।আবূ সালমাহ ইবন আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, উম্মুল মু‘মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীদের সম্বোধন করে বলেন, যেহেতু আমি তোমাদের জন্য কোন উত্তরাধিকারী সম্পদ রেখে যাইনি তাই আমার মৃত্যুর পর তোমাদের জীবন যাপন ও অবস্থা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। তোমাদের ওপর খরচ করার কষ্ট একমাত্র তারাই বহন করবে যারা ধৈর্যশীল। অতঃপর আয়েশা রাদিয়াল্লাহ আনহা আবূ সালমাকে বললেন, আল্লাহ তোমার পিতা আব্দুুর রহমান ইবন আওফকে জান্নাতের কুপ থেকে পান করিয়েছেন যে জান্নাতকে সালসাবীল বলা হয়। আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাসূলের স্ত্রীদের জন্য একটি বাগান দান করেন যেটি চল্লিশ হাজার দীনারে বিক্রি করা হয়েছিল।
আব্দুর রহমান ইবন আবূ উমাইরাহ যিনি রাসূলের সাহাবীদের একজন ছিলেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আবিয়াহকে বলেছেন, হে আল্লাহ তুমি তাকে পথ পদর্শক, হিদায়াত প্রাপ্ত বানাও এবং তার দ্বারা হিদায়াত দাও।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আবিয়্যাহ ইবন আবূ সূফীয়ানের জন্য দো‘আ করেছিলেন। যাতে আল্লাহ তাকে কল্যাণের পথ পদর্শক বানান। আর তাকে যেন হিদায়াত প্রাপ্ত বানান এবং তার দ্বারা মানুষকে হিদায়াত দান করেন।
আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) দাঁড়িয়ে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি ক্ববরে মানুষ যে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তার বর্ণনা দিলেন। যথন তিনি তা আলোচনা করতেছেন মুসলমানগণ ভয়ার্ত হয়ে এত বেশি চিৎকার করতে লাগলেন, তা আমার মাঝে এবং রাসূলের কথা বুঝার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। তাদের চিৎকার থামছিল না। আমি আমার পাশের এক লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তোমাকে বরকতময় করুক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তার কথার শেষাংশে কি বলেছেন? সে বলল, তিনি বলেছেন, আমার কাছে ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, “দাজ্জালের ফিতনার মতো কাছাকাছি ফিতনা দ্বারা তোমাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।আসমা বিনত আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা-বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক দিন দাঁড়িয়ে মানুষের মধ্যে খুৎবাহ দিচ্ছিলেন তাতে তিনি তাদের ওয়ায করছিলেন এবং আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। এমনকি তিনি কবর ও কবরের অবস্থা তুলে ধরেন এবং কবরের ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এখানে কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য মুনকার ও নকীর দুই ফিরিশতার রব, দীন ও নবী সম্পর্কে প্রশ্ন করা। একে ফিতনা বলে নামকরণ করা হয়, কারণ এটি একটি মহা ফিতনা যা দ্বারা একজন বান্দার ঈমান ও বিশ্বাস সম্পর্কে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যাকে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার তাওফীক দেওয়া হবে সে কামিয়াব। আর যে ফেল করবে সে ধ্বংস হবে। যখন তিনি তা আলোচনা করলেন মুসলিমগণ কবরের ফিতনা থেকে ভয়ার্ত হয়ে খুব বেশি চিৎকার করতে লাগলেন। তাদের এ চিৎকার আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে রাসূলের কথা বুঝাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। তারপর যখন চিৎকার থামল, আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার পাশের এক লোককে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তোমাকে বরকতময় করুক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাহ তার কথার শেষাংশে কি বলেছেন? সে বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তার কাছে ওহী প্রেরণ করেছেন যে, “মানুষকে দাজ্জালের ফিতনার মতো কাছাকাছি ফিতনা দ্বারা কবরে পরীক্ষা করা হবে। কারণ, দাজ্জালের ফিতনা খুব মারাত্মক ও কঠিন। অনুরূপভাবে কবরের ফিতনা।
আবূ আইউব—রাদিয়াল্লাহু আনহু—থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন, তখন সূর্য্য ডুবে গিয়েছিল। তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহুদীদেরকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর থেকে বের হলেন যখন সূর্য্য ডুবে গিয়েছিল। তিনি ইহুদীদের আওয়াজ শুনতে পেলেন যখন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল, ফলে তিনি বললেন: ইয়াহুদীদেরকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।
আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন মৃতকে কবর দেওয়া হয়, অথবা বললেন, তোমাদের কাউকে। দুইজন কালো বর্ণের ফিরিশতা আসে তাদের একজনকে মুনকার এবং অপরজনকে নকীর বলা হয়। তারা দুইজন বলবেন এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বল? তখন সে তাই বলবে যা সে বলত: আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তখন তারা বলবে, আমরা জানতাম তুমি এ কথাই বলবে। তারপর তার জন্য সত্তুরের মধ্যে সত্তুর বাহু পরিমাণ কবরকে প্রসস্থ করা হয় অতঃপর তা আলোকিত করা হয়। তারপর তাকে বলা হবে, ঘুমাও। তখন সে বলবে আমি আমার পরিবারের নিকট যাব এবং তাদের সংবাদ দিব। তারা বলবে তুমি নতুন দুলার মতো ঘুমাও যাকে একমাত্র তার সবচেয়ে প্রিয় লোকটি ছাড়া আর কেউ জাগায় না। অতঃপর আল্লাহ তাকে তার এ ঘুমের বিছানা থেকে প্রেরণ করেবেন। আর যদি সে মুনাফিক হয়, তখন সে বলে, আমি মানুষকে বলতে শুনেছি তাই আমিও তাদের মতো বলেছি। আমি জানি না। তখন তারা দুইজন বলবেন, আমরা জানতাম তুমি এ কথা বলবে। তখন যমীনকে বলাবে তার ওপর মিলে যাও তখন যমীন মিলে যাবে। তার হাঁড় চুর্ণবিচুর্ণ হবে। তখন সে যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে তার বিছানা থেকে না উঠাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত সে শাস্তি পেতে থাকবে।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।যখন মৃতকে কবর দেওয়া হয়, তখন দুইজন কালো বর্ণের ফিরিশতা আসে তাদের একজনের নাম মুনকার এবং অপরজনের নাম নকীর। তারা দুইজন তাকে বলে, এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করেন। তখন সে বলে তিনি আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। আর মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল। তখন তারা বলবে, আমরা জানতাম তুমি এ কথাই বলবে। তারপর তার জন্য সত্তুরের মধ্যে সত্তুর বাহু পরিমাণ কবরকে প্রসস্থ করা হয়। তারপর তার জন্য কবর আলোকিত করা হয়। তারপর তাকে বলা হবে ঘুমাও। তখন সে বলবে আমি আমার পরিবারে নিকট যেতে চাই। তারপর তাদের সংবাদ দেব যে, আমি ভালো আছি যাতে তারা শোনে খুশি হয় এবং আমার জন্য দুশ্চিন্তা না করে। তারা বলবে, তুমি নতুন দুলার মতো ঘুমাও যাকে একমাত্র তার সবচেয়ে প্রিয় লোকটি ছাড়া আর কেউ জাগায় না। তারপর সে খুব আরামের ঘুম ঘুমাবে যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করেবেন। আর যদি সে মুনাফিক হয়, তখন সে বলে, আমি মানুষকে বলতে শুনেছি তারা একটি কথা বলত, আর তা হলো তিনি হলে আল্লাহর রাসূল। তাই আমিও তাদের মতো বলেছি। আমি জানি না তিনি বাস্তবে নবী কি নবী নয়। তখন তারা দুইজন বলবেন, আমরা জানতাম তুমি এ কথা বলবে। তখন যমীনকে বলা হবে, তার ওপর মিলে যাও ও একত্র হও এবং তার ওপর সংকীর্ণ হও। তখন তার অঙ্গগুলো একত্র হয়ে যাবে। এমনকি তার ওপর কঠিন চাপ, শক্তি প্রয়োগ ও তার অঙ্গগুলোকে সংকীর্ণ করার ফলে হাঁড়গুলো সঠিক অবস্থা থেকে সরে যাবে যে সঠিক অবস্থার ওপর ইতিপূর্বে ছিল এবং তার এক পাশ অপর পাশের মধ্যে ঢুকে যাবে। সে এ অবস্থায় শাস্তি পেতে থাকবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যেদিন আল্লাহ তাকে উত্থিত করবেন।
আওফ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাবূক যুদ্ধকালে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুর ভেতরে ছিলেন। তিনি বললেন, “কিয়ামতের পূর্বেকার ছয়টি আলামত গণনা কর। একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু। অতঃপর বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়। অতঃপর দু’টি মৃত্যু তোমাদের মধ্যে থেকে মেষপালের ন্যায় (অধিকহারে লোক) গ্রহণ করবে। তারপর সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি মাথাপিছু শত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পেয়েও মানুষ সন্তুষ্ট হবে না। তারপর তোমাদের মধ্যে এমন বিপর্যয় সৃষ্টি হবে, যা থেকে আরবের কোন ঘর রেহাই পাবে না। এরপর বনু আসফার (রোমক খৃস্টান)-এর সাথে তোমাদের সন্ধি হবে। কিন্তু তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা তলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। প্রতিটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য”।
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।আওফ ইবনে মালেক তাবূক যুদ্ধকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হল। তখন তিনি একটি চামড়ার তাঁবুর ভেতরে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, “কিয়ামতে পূর্বেকার আলামতসমূহ হতে ছয়টি আলামত গণনা কর। একটি হচ্ছে আমার মৃত্যু। অতঃপর বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়। এটি উমার রাদিয়াল্লাহু খিলাফত যুগে সংঘটিত হয়। অতঃপর তোমাদের মধ্যে একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়বে। তখন তোমাদের মধ্যে কতক মানুষ খুব দ্রুত মারা যাবে যেমনিভাবে বকরির মধ্যে এ ধরনের মহাবারি ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো খুব দ্রুত মারা যায়। তারপর তোমাদের সম্পদের প্রাচুর্য হবে, এমনকি মাথাপিছু শত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পেয়েও মানুষ সন্তুষ্ট হবে না। সে ক্ষুব্ধ হবে। কারণ, তার দৃষ্টিতে তার পরিমাণ কম। কেউ কেউ বলেছেন, এ ধরনের অবস্থা উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফত আমলে বিজয়সমূহের সময় দেখা গিয়েছিল। তারপর তোমাদের মধ্যে এমন মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হবে, যা থেকে আরবের কোন ঘরই রেহাই পাবে না। কেউ কেউ বলেছেন, তা হলো উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হত্যা এবং তারপর তাকে কেন্দ্র করে যে সব ফিতনা দেখা দিয়েছেল। এরপর মুসলিমদের মাঝে এবং বনু আসফার (রোমক খৃস্টান)-এর সাথে তোমাদের সন্ধি হবে। কিন্তু তারা চুক্তি ভঙ্গ করবে এবং মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। ফলে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আশিটি পতাকা তলে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হবে। প্রতিটি পতাকার অধীনে থাকবে বারো হাজার সৈন্য। যার সমষ্টি হবে নয় লক্ষ ষাট হাজার।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফু‘ হিসেবে বর্ণিত, “ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না হিজাযের জমিন থেকে আগুন বের হবে, যা বুসরার উটগুলোর গর্দান আলোকিত করে দিবে।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মক্কা-মদীনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জমিন থেকে আগুন বের হবে, যা শামের (সিরিয়া) বুসরা শহরের উটগুলোর গর্দান আলোকিত করে দিবে। এ ধরণের আগুন ছয়শ চুয়ান্ন হিজরীতে মদীনায় দেখা দিয়েছিল। সে অগ্নি অনেক বড় আকারের ছিলো যা মদীনার পূর্বাঞ্চলের প্রস্তরময় পাহাড় থেকে বের হয়েছিল এবং এ সংবাদ সিরিয়াবাসী ও অন্যান্যদের কাছে অবগত ছিলো। সমকালীন আলেমগণ বিশেষ করে ইমাম নাওয়াওয়ী, কুরত্ববী ও আবূ শামাহ রহ. প্রমুখ তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন।
আবূ নাধরাহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমরা জাবের ইবন আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, অচীরেই ইরাকীদের নিকট কাফীয ও দিরহাম একত্র করা হবে না। আমরা বললাম, তা কোথা বাধা প্রাপ্ত হবে? তিনি বললেন, অনারবদের পক্ষ হতে তারা তা বারণ করবে। তারপর তিনি বলেন, অচীরেই সিরিয়াবাসীর কাছে কোন দীনার ও মুদ একত্র করা হবে না। আমরা বললাম, তা কোথা থেকে? বললেন, রুমের পক্ষ হতে। তারপর তিনি কিছু সময় চুপ রইলেন। তারপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শেষ যামানায় আমার উম্মতের মধ্যে একজন খলীফা হবেন যিনি সম্পদকে দুই হাত দ্বারা ছিটাতে থাকবে হিসাব করবে না”। তিনি বলেন, আমি আবূ নাধরাহ ও আবূল ‘আলাকে বললাম, তোমরা কি বিশ্বাস কর যে, তিনি উমার ইবনে আব্দুল আযীয? তারা বললেন, না।
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দেন যে, অচীরেই মুসলিমগণ ইরাক জয় করবেন। আর মুসলিমরা তাদের ওপর এমন কিছু জিনিস কর হিসেবে নির্ধারণ করবে যা তারা মুসলিমদেরকে মেপে ও ওজন করে পরিশোধ করবে, কিন্তু শেষ যামানায় তা পরিশোধ করা হবে না। কারণ অনারব কাফিরগণ এ শহরসমূহের ওপর বিজয় লাভ করবে, তখন তারা এসব সম্পদ মুসলিমদের নিকট পৌঁছতে বাঁধা দিবে। তিনি আরও সংবাদ দেন যে, মুসলিমগণ অচীরেই সিরিয়া জয় করবে, আর মুসলিমরা তাদের ওপর এমন কিছু জিনিস কর হিসেবে নির্ধারণ করবে যা তারা মুসলিমদেরকে মেপে ও ওজন করে পরিশোধ করবে, কিন্তু শেষ যামানায় তা পরিশোধ করা হবে না। কারণ রোম এ শহরসমূহের ওপর বিজয় লাভ করবে, তখন তারা এসব সম্পদ মুসলিমদের নিকট পৌঁছতে বাঁধা দিবে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও সংবাদ দেন যে, এ উম্মতের শেষাংশে এমন একজন খলীফা হবেন যিনি সম্পদ এবং বিজয় তার হাতে অধিক হওয়ার কারণে সম্পদকে দুই হাত দ্বারা ছিটাতে থাকবেন গণনা করবেন না। তিনি সম্পদকে মানুষের জন্য নিজ হাতে ডালবেন যেমনিভাবে মাটিকে দুই হাত দ্বারা নিক্ষেপ করা হয়। বর্ণনাকারী সংবাদ দেন যে, তিনি তাবেঈদের থেকে কতক আহলে ইলমকে জিজ্ঞাসা করেন, সে খলীফা কি উমার ইবন আব্দুল আযীয? তারা বলল, না।