





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কাফির যখন দুনিয়াতে কোন পুণ্য কাজ করে, তখন বিনিময়ে তাকে দুনিয়াতেই (কিছু আনন্দ) উপভোগ করতে দেওয়া হয়। (আখেরাতে সে এর কিছুই প্রতিদান পাবে না)। কিন্তু মুমিন, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য আখেরাতে তার প্রতিদান সঞ্চিত করে রাখেন, তদুপরি দুনিয়াতে তিনি তাকে জীবিকা দেন তাঁর আনুগত্যের কারণে।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “মহান আল্লাহ কোনো মুমিনের উপর তার নেকীর ব্যাপারে যুলুম করেন না। তাকে তার প্রতিদান দুনিয়াতেও দেওয়া হয় এবং আখিরাতেও দেওয়া হবে। কিন্তু কাফিরকে তার সে সব ভালো কাজ যা সে দুনিয়াতে আল্লাহর জন্য করে তার বিনিময়ে দুনিয়াতেই রিযিক দেওয়া হয়। অবশেষে যখন সে আখেরাতে পাড়ি দেবে, তখন তার এমন কোনো পুণ্য থাকবে না যার বিনিময় তাকে দেওয়া হবে।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।কাফির যখন দুনিয়াতে কোনো পুণ্য কাজ করে, তখন বিনিময়ে তাকে দুনিয়ার (কিছু আনন্দ) উপভোগ করতে দেওয়া হয়। কিন্তু মুমিন যখন কোনো ভালো কাজ করেন, আল্লাহ তা‘আলা সেটাকে সংরক্ষণ করে রাখেন যাতে আখেরাতে তাকে সেটার প্রতিদান প্রদান করতে পারেন। আর দুনিয়াতেও তিনি তাকে আনুগত্যের কারণে জীবিকা প্রদান করেন। মহান আল্লাহ মুমিনের নেক আমলের ওপর বিনিময় প্রদান করা ছাড়েন না। তার প্রতিদান হিসেবে দুনিয়াতেও তাকে জীবিকা দেওয়া হয় এবং আখেরাতেও তাকে সাওয়াব দেওয়া হবে। কিন্তু কাফেরকে তার ভালো কাজের বিনিময়ে দুনিয়াতে জীবিকা দেওয়া হয়। এমনকি যখন সে আখেরাতে পাড়ি দিবে, তখন তার এমন কোনো পুণ্য থাকবে না যার বিনিময়ে তাকে পুরষ্কার দেওয়া যায়। আলেমগণ এ বিষয়ে একমত যে, যখন কোনো কাফির তার কুফরের ওপর মারা যাবে, আখিরাতে তার কোনো সাওয়াব অবশিষ্ট থাকবে না। দুনিয়াতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে সব আমল করেছে তার কোনো কিছুরই প্রতিদান তাকে দেওয়া হবে না। এ হাদীস এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাকে সে যে সব নেক আমল করেছে সেটার বিনিময়ে দুনিয়াতে রিযিক দেওয়া হবে। অর্থাৎ এমন সব নেক আমল, যা শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়তের প্রয়োজন হয় না, যেমন, আত্মীয়তা বজায় রাখা, দান করা, গোলাম আযাদ করা, মেহমানদারী করা, কল্যাণমূলক কাজ ইত্যাদি (এর কোনো বিনিময় আখেরাতে তাকে দেওয়া হবে না)। কিন্তু যদি কোনো কাফির এ ধরনের কাজ করার পর ইসলাম গ্রহণ করেন, তাহলে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আখেরাতে তাকে তার আমলের বিনিময় বা সাওয়াব দেওয়া হবে।
মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের ঘাড় সবচেয়ে লম্বা হবে।"
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, সালাতের জন্য আযান দেওয়া মুয়াজ্জিনদের ঘাড় কিয়ামতের দিন সবচেয়ে লম্বা হবে, তাদের কাজের মহত্ত্ব, তাদের কল্যাণের প্রাচুর্য এবং তাদের পুরস্কারের মহত্ত্ব স্বরূপ।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, ইসরা (মিরাজের রাতে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে শরাব ও দুধের দুটি পেয়ালা পেশ করা হয়েছিল। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন। এরপর দুধের পেয়ালাটি গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, “সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত জিনিসের দিকে পথ দেখিয়েছেন; অথচ যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মত গুমরাহ হয়ে যেত।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।ইসরা তথা মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম শারাব ও দুধের দুটি পেয়ালা পেশ করেছিলেন। অর্থাৎ পেয়ালা দুটির একটিতে মদ ও অন্যটিতে দুধ ভর্তি ছিল। তিনি উভয়টির দিকে তাকালেন অর্থাৎ তিনি কোনটি গ্রহণ করবেন সে ব্যাপারে তাকে পছন্দ করার ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুধের পাত্রটি গ্রহণ করার ইলহাম করা হয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধের পেয়ালাটি পছন্দ করেন ও তা গ্রহণ করেন। তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম বললেন, “সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আপনাকে স্বভাবজাত জিনিসের দিকে পথ দেখিয়েছেন; অর্থাৎ আপনি ইসলাম ও দৃঢ়তার চিহ্ন গ্রহণ করতে সমর্থ হয়েছেন। দুধকে এ জন্যই স্বভাবজাত দীনের চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়েছে কারণ তা উপাদেয়, পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও পান করার জন্য অধিক উপযোগী আর তা পরিণামেও নিরাপদ। “যদি আপনি শরাব গ্রহণ করতেন তাহলে আপনার উম্মত গুমরাহ হয়ে যেত।” দেখুন, দলীলুল ফালিহীন, (৭/২০৭); শরহে রিয়াদুস সালিহীন, (৫/৪৬)।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর তার পিঠ মাসেহ করলে তার পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যতটি জীবন তার প্রজন্ম থেকে তিনি সৃষ্টি করবেন তার প্রতিটি জীবন ঝরে পড়ল। প্রতিটি মানুষের দুই চোখের মাঝখানে নূরের তিলক পরিয়ে দেন। তারপর তাদেরকে আদমের সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, তারা কারা? তিনি বলেন, তারা হলো তোমার সন্তান। তিনি তাদের থেকে এক লোককে দেখেন যার চোখের মাঝখানের নূরের তিলকটি তাকে অবিভুত করল। তাই তিনি বললেন, আমার রব! এ লোকটি কে? তিনি বললেন, তোমার সন্তানদের থেকে শেষ উম্মাতসমূহের একজন লোক, যার নাম দাউদ। তিনি বললেন, হে রব, তুমি তার হায়াত কত বছল নির্ধারণ করেছে? বললেন, ষাট বছর। বলল, হে রব! তুমি আমার হায়াত থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দাও। তারপর যখন আদম আলাইহিস সালামের বয়স শেষ হলো তখন মালাকুল মাওত আসলে তিনি বলেন, আমার হায়াতের চল্লিশ বছর কি এখনো বাকী নয়? সে বলল, তুমি কি তোমার ছেলে দাউদকে তা দিয়ে দাওনি? তিনি বলেন, আদম অস্বীকার করল, তারপর তার সন্তারা অস্বীকার করল। আদম নিজে ভুলে গেল তারপর সন্তানরাও ভুলে গেল। আদম নিজে ভুল করল, তারপর সন্তানরাও ভুল করল।
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।আল্লাহ তা‘আলা যখন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করেন, তখন তিনি তার পিঠ মাসেহ করেন। তারপর তার পিঠ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যতটি জীবন তার প্রজন্ম থেকে তিনি সৃষ্টি করবেন, সবাই বের হয়ে আসে। এখান মাসেহ করা এবং বের হওয়া সবই বাস্তব। এমন কোন ব্যাখ্যা করা বৈধ নয় যা তার আসল অর্থ থেকে ফিরিয়ে দেয়। যেমনটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মাযহাব। তারপর যখন তিনি তাদেরকে তার পিঠ থেকে বের করেন, প্রতিটি মানুষের দুই চোখের মাঝখানে নূরের আলোতে আলোকিত ও চমকিত তিলক পরিয়ে দেন। তারপর তাদেরকে আদমের সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, হে রব! তারা কারা? তিনি বলেন, তারা হলো তোমার সন্তান। তিনি তাদের থেকে এক লোককে দেখেন যার চোখের মাঝখানের নূরের তিলকটি তাকে অবিভুত করল। তাই তিনি বললেন, হে আমার রব! এ লোকটি কে? তিনি বললেন, দাউদ। আদম বললেন, হে রব, তুমি তার হায়াত কত বছর নির্ধারণ করেছো? বললেন, ষাট বছর। বলল, হে রব! তুমি আমার হায়াত থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দাও। তারপর যখন আদম আলাইহিস সালামের বয়স চল্লিশ বছর বাদ দিয়ে বাকীটা শেষ হলো তখন মালাকুল মাওত তার রুহ কবজ করার জন্য আসলো। তখন আদম বললেন, আমার হায়াতের চল্লিশ বছর এখনো বাকী আছে। সে তাকে বলল, তুমি তা তোমার ছেলে দাউদকে দিয়ে দিয়েছো। তখন আদম তা অস্বীকার করল। কারণ, তিনি ছিলেন রূহ জগতে। মালাকুল মাওতের তার কাছে আসার সময় সে অবস্থাটি তার মনে ছিল না। ফলে তার সন্তানরা তা অস্বীকার করল। আদম নিজে ভুলে গেল তার সন্তানরাও ভুলে গেল। আদম নিজে অবাধ্য হলো, তার সন্তানরাও অবাধ্য হলো। কারণ, সন্তান সাধারণত পিতার মতোই হয়ে থাকে। দাউদ আলাইহিস সালামের বয়স চল্লিশ বছর নির্ধারিত ছিল। তারপর আল্লাহ তা ষাট বছর করেন। আল্লাহ যা হয়েছিল, যা হবে, যা হয় নাই এবং যদি হয় তা কীভাবে হবে সবই জানেন। তাই তিনিই জানেন যা তিনি তার জন্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং পরে যা তিনি তাকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফিরিশতাগণকে আল্লাহ যা জানান তা ছাড়া তাদের কোন ইলম নাই। কোন বস্তু অস্তিত্বে আসার আগে ও পরে তার সম্পর্কে কেবল আল্লাহই জানেন। এ কারণেই উলামাগণ বলেছেন, মুচে ফেলা এবং বহাল রাখা সবই হলো ফিরিশতাদের দফতরসমূহে। কিন্তু আল্লাহর ইলমের কোন পরিবর্তন হয় না। তার কাছে এমন কোন বিষয় প্রকাশ পায় না যার সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। তাই তার নিকট কোন রহিত করণ এবং বহাল রাখা নাই।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত: “ঈমান ইয়ামনী, হিকমত ইয়ামনী। আর আমি রহমানের নিঃস্বাশ ইয়ামানের দিক থেকে পাচ্ছি। তবে কুফর, নাফরমানী ও অন্তরের কাঠিন্যতা চিৎকারী উট ও গরু-ছাগলের মালিকদের ভেতর বেশি”।
এটি তাবরানী বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।তার বাণী, “ঈমান ইয়ামনী, হিকমত ইয়ামনী”। এ দ্বারা কি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে একাধিক মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন এর অর্থ হলো ঈমানের নিসবত মক্কার দিকে করা হয়েছে। কারণ ইয়ামনের শুরু তা থেকেই। আর মদীনার তুলনায় মক্কা ডানে। আর কেউ বলেন, এখানে ঈমানকে মক্কা ও মদীনার দিকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ, সিরিয়ার তুলনায় এ দুটি শহর ডানে অবস্থিত। বিশেষভাবে বাক্যটি রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন সময় প্রকাশ পায় যখন তিনি তাবুকে ছিলেন। আবার কেউ বলেন, এ দ্বারা উদ্দেশ্য আনসারীগন। কারণ, তাদের আসল হলো ইয়ামন থেকে। আর তাদের দিকে ঈমানের নিসবত এ জন্য করা হয়ে থাকে, কারণ রাসূলের সাহায্য করার ক্ষেত্রে তারাই ছিল আসল। আর বাক্যটি বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল রাখাতে কোন অসুবিধা নেই। তখন এ দ্বারা উদ্দেশ্য ইয়ামানের অধিবাসীদেরকে মাশরিকী অধিবাসীদের ওপর ফযীলত প্রদান করা। আর এর কারণ, তাদেরকে ঈমানের প্রতি নিয়ে আসতে মুসলিমদের অধিক কষ্ট করতে হয়নি। পক্ষান্তরে পূর্বের অধিবাসী ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যখন কোন ব্যক্তি কোন বিষয়ে গুণান্বিত হয় বা সেটি বাস্তবায়তে তার ভুমিকা শক্তিশালী হয় তখন সে বিষয়ে তার অবস্থার পরিপূর্ণতা বুঝানোর জন্য তাকে সেদিকে নিসবত বা সম্বোধন করা হয়। এ দ্বারা অন্যদের থেকে ঈমানকে না করা নয়। তারপর এখানে এ কথার প্রয়োগ শুধু মাত্র তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা ঐ সময় ছিলেন। এ দ্বারা সর্বকালে সব ইয়ামনী উদ্দেশ্য নয়। কারণ, শব্দ তা দাবি করে না। আর হিকমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন ইলম যা আল্লাহকে চেনার ওপর সামিল। আর তার বাণী : “আমি ইয়ামানের দিকে রহমানের নিঃশ্বাস অনুভব করছি”। তার অর্থ হচ্ছে: মক্কাবাসীদের তরফ থেকে আমি কাঠিন্য, চিন্তা ও দুঃখে ছিলাম আল্লাহ আমাকে আনসারদের দ্বারা মুক্ত করেছেন। অর্থাৎ তিনি আনসারীদের পক্ষ থেকে স্বস্তি লাভ করেছেন। আর তারা হলেন ইয়ামান থেকে। এ অর্থের ভিত্তিতে হাদীসটি আল্লাহর সিফাতকে প্রমাণ করে না। আর তার বাণী : “জেনে রোখে, কুফর, পাপ ও অন্তরের কাঠিন্য চিৎকারকারী উট ও গুরু-ছাগলের মালিকদের ভেতর বেশী”। অর্থাৎ কুফর, পাপ, অন্তরের কাঠিন্য ও তার শুষ্কতা অধিক উট ও গরু-ছাগলের মালিকদের ভেতর বেশী থাকে, চাষাবাদ ও রাখালির সময় যাদের আওয়াজ অনেক উঁচু হয়। এরা সাধারণত অসদাচারী ও অহঙ্কারী হয়।
আল-মিসওয়ার ইবন মাখরামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে মারফু‘ সনদে বর্ণিত, “ফাতিমা আমার অংশ। যে তাকে কষ্ট দেবে সে যেনো আমাকে কষ্ট দিল।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁর অংশ। সুতরাং যে তাকে রাগান্বিত করবে সে যেনো তাঁকে রাগান্বিত করল।
ইবন আবূ নু‘আম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবন উমারের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তার কাছে একলোক মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন, কোন দেশের লোক তুমি? সে বলল, আমি ইরাকের অধিবাসী। তিনি বললেন, তোমরা এর দিকে লক্ষ্য করো। সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে; অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান (হুসাইন রাদিয়াল্লাহু `আনহু) কে হত্যা করেছে। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “ওরা দু’জন (হাসান ও হুসাইন) পৃথিবীতে আমার দু’টি সুগন্ধি ফুল।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।ইরাকের একলোক ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু `আনহুমার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন, মুহরিম অবস্থায় কারো জন্য ক্ষতিকারক ছোট প্রাণি যেমন মশা হত্যা করা কি বৈধ? অতিশয় ক্ষুদ্র বিষয়ে লোকটির গুরুত্ব দেওয়ায় তিনি আশ্চর্য হলেন; যদিও এরচেয়ে মারাত্মক ব্যাপারে তারা জড়িত। তিনি বললেন, “তোমরা এ লোকটির দিকে লক্ষ্য করো। সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে; অথচ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানকে হত্যা করেছে।” অর্থাৎ তারা চির নিষিদ্ধ হারাম কাজে জড়িত, তারা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিত্রকে হত্যা করেছে। এরপরেও তারা হজের ব্যাপারে নিজেদের পরিপূর্ণ তাকওয়া ও আল্লাহভীতি দেখাতে চায়! ফলে তারা (ইহরাম অবস্থায়) মশা হত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “ওরা দু’জন (হাসান ও হুসাইন) পৃথিবীতে দু’টি সুগন্ধি ফুল।” অর্থাৎ তারা আমার সন্তান, আমি তাদের ঘ্রাণ নেই, তাদেরকে চুম্বন করি। তারা যেন পবিত্র সুগন্ধি, মানুষ যার সুঘ্রাণ গ্রহণ করে।
আবূ হুরাইরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মদিনার বাজারসমূহ হতে কোনো এক বাজারে উপস্থিত ছিলাম। তিনি চললেন আমিও চললাম। তারপর তিনি বললেন, খোকা কোথায়—তিনবার বললেন—হাসান ইবন আলীকে ডাক”। ফলে হাসান ইবন আলী ওঠে হেঁটে আসতে লাগল এমতাবস্থায় যে তার গর্দানে মালা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত দিয়ে এরূপ বললেন, হাসানাও হাত দিয়ে এরূপ করলেন। এবং তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ! আমি তাকে মহব্বত করি, অতএব তুমিও তাঁকে (হাসানকে) মহব্বত কর এবং তাকে যে মহব্বত করে তাকেও মহব্বত কর”। আর আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা বলার পর আমার কাছে হাসান ইবনে আলী থেকে আর কেউ অধিক প্রিয় ছিল না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।আবূ হুরায়রা রাদিয়ালাল্লাহ ‘আনহু নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদীনার বাজারসমূহের কোন এক বাজারে ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজার থেকে ফিরে এলেন আবূ হুরায়রাও তার সাথে ফিরে এলো। সেখান হতে ফিরে এসে তিনি ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর ঘরের সামনে আসলেন। তারপর তিনি হাসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, খোকা-ছোট বাচ্চা-কোথায়? তাকে আমার নিকট ডাক। তখন হাসান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পায়ে হেঁটে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তার গলায় ছিল একটি হার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জড়িয়ে ধরার জন্য সামনের দিকে হাত বাড়ালেন এবং হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুও হাত বাড়ালেন। তারপর উভয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলেন। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আমি হাসানকে মহব্বত করি, অতএব তুমিও তাঁকে মহব্বত কর এবং তাকে যে মহব্বত করে তাকেও মহব্বত কর”। আবূ হুরায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা বলার পর আমার কাছে হাসান ইবনে আলী থেকে আর কেউ অধিক প্রিয় ছিল না।
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: “প্রত্যেক উম্মতের একজন আমানতদার আছে। আর এ উম্মতের আমানতদার হলো আবূ উবাইদাহ ইবনুর জাররাহ”।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে একজন আমানতদার ব্যক্তি থাকে যিনি অন্যদের তুলনায় আমানতদারিতার সাথে বেশি প্রসিদ্ধ হন। আর এ উম্মতের মধ্যে আমানতদারিতার সাথে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন আবূ উবাইদাহ আমের ইবনু জাররাহ রাদিয়াল্লাহু। যদিও আমানতদারিতা এমন একটি গুণ যা তার মধ্যে এবং সাহাবীদের মধ্যে অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু হাদীসের বর্ণনার পেক্ষাপট ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তাদের তুলনায় এ বিষয়ে কিছুটা হলেও বেশি।