





























Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
All
শাকাল ইবন হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দো‘আ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, (বল, ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি সাম্য়ী, ওয়া মিন শার্রি বাসারী, ওয়া মিন শার্রি লিসানী, ওয়া মিন শার্রি ক্বালবী, ওয়া মিন শার্রি মানিইয়্যী।) “হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য (যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। - এটি নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। - এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন। - এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।শাকাল ইবন হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ খুঁজতে গেলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ধ্বংসশীল দুনিয়া, কিছু অর্থ এবং সা‘ পরিমাণ খাদ্যও চান নি। তিনি তাঁর কাছে দো‘আ শিখতে গেলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন কিছু দো‘আ শিখতে গেলেন যার মধ্যে তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে উপকার পাবেন। আর এটি হলো সাহাবায়ে কেরামের মূল বৈশিষ্ট্য, তারা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এই মহান দো‘আর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, “বল, আল্লাহুম্মা ইন্নী” অর্থাৎ তিনি আল্লাহ নামের মাধ্যমে যা আল্লাহ তা‘আলার সকল নান্দনিক নাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে তা দিয়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছেন এবং তাঁর অভিমুখী হয়েছেন। “আমি তোমার নিকট আমার কর্ণের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।” আঊযু: অর্থাৎ আল্লাহর কাছে আমি কর্ণের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর তা হলো, মানুষের কর্ণ যে সকল পাপে লিপ্ত হয়। যেমন, মিথ্যা সাক্ষ্য, কুফুরী কথা, অপবাদ, দীনের বদমান এবং মানুষের কর্ণ যে সকল হারামে লিপ্ত হয় তার সব থেকে পানাহ চাই। “আমার চক্ষুর অনিষ্ট থেকে” আর তা হচ্ছে তার চক্ষুকে হারামের দিকে নিবন্ধ করা; যেমন, খারাপ ফিল্ম ও খারাপ দৃশ্য।“ আমার রসনার অনিষ্ট থেকে” অর্থাৎ এমন হারাম কাজ যা জবান থেকে বের হয়। যেমন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, গালি দেওয়া, লা‘নত করা, দীন এবং দীনদারের ব্যাপারে খারাপ মন্তব্য করা অথবা এমন কথা বলা যা মানুষের কোনো কাজে আসে না অথবা যে ব্যাপারে কথা বলা দরকার সে ব্যাপারে কথা না বলা। “অন্তরের অনিষ্ট থেকে” আর তা হলো অন্তরকে গাইরুল্লাহর যিকির দ্বারা ভরপুর করা অথবা কলবের ইবাদত দ্বারা গাইরুল্লাহর অভিমুখী হওয়া; যেমন, গায়রুল্লাহর সাথে কামনা, ভীতি ও সম্মানকে সম্পৃক্ত করা অথবা যা আল্লাহর জন্য উচিৎ তা ত্যাগ করা। “বীর্যের অনিষ্ট থেকে” অর্থাৎ যৌনাঙ্গের অনিষ্টতা থেকে, আর তা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন এমন কাজ করা অথবা ব্যভিচারের প্রাথমিক স্তরের কোনো একটি করা; যেমন, দৃষ্টিপাত করা, স্পর্শ করা, হাটা, দৃঢ় ইচ্ছ করা এবং এরকম যা কিছু আছে। অতঃপর এই বরকতময় দো‘আয় শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গকে সংরক্ষণ করার আর্জি জানানো হয়েছে, যা আল্লাহর নি‘আমত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানে তাকে এসব নি‘আমতের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাইতে নির্দেশ দিলেন। এসব নি‘আমত থেকে আশ্রয় চাইতে আদেশ দেন নি। যেমন, তিনি (এমন) বলেন নি : “আমি আমার কর্ণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।” কেননা এটি একটি নি‘আমত এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা হয়। এটি সরাসরি খারাপ নয় যে, এর থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। কিন্তু যা এই অঙ্গ থেকে জন্মায় তার অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। আর যে উদ্দেশ্যে এ অঙ্গটিকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে এই অঙ্গটিকে হিফাযত করতে হবে। এর দ্বারা খারাপ কোনো কিছু করবে না এবং খারাপ কিছু ছড়াবে না। কেননা কিয়ামতের দিন সে এসব নি‘আমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে যা আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী সত্যায়নকারী: “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।” [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬]
আব্দুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” (এ কথা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড়-চোপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, (তাহলে সেটাও কি অহংকারের মধ্যে গণ্য হবে?)’ তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। অহংকার হচ্ছে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।”
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এ হাদীসটি হুমকির হাদীসসমূহের একটি হাদীস। সুতরাং, শর‘ঈ প্রমাণাদি দ্বারা তার ব্যাখ্যা করা জরুরী। যেমন, যার অন্তরে অহংকার রয়েছে, তার অহংকার হয়তো সত্যকে প্রত্যাখ্যান ও তাকে অপছন্দ করে হবে, এমতাবস্থায় সে অবশ্যই কাফির চির জাহান্নামী, কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহর বাণী রয়েছে, “তা এ কারণে যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, ফলে আল্লাহ তাদের আমলসমূহ ধ্বংস করে দেন।” (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৯)। আর যদি অহংকার মাখলুকের ওপর হয় এবং নিজেকে অন্য মাখলুকের চেয়ে বড় মনে করার কারণে হয়, কিন্তু সে অহংকার করে আল্লাহর ইবাদত থেকে বিরত থাকে নি, তার সম্পর্কে এ হুমকি এসেছে যে, সে প্রথম দলের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রাসূল যখন এ হাদীসটি বললেন, তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতো সুন্দর হোক, তাহলে এটাও কি অহংকার গণ্য হবে?’ তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালোবাসেন। তিনি স্বীয় সত্ত্বায় সুন্দর, স্বীয় কর্মে সুন্দর এবং স্বীয় সকল গুণে সুন্দর। মহান আল্লাহ থেকে যা কিছু প্রকাশ পায় তা সবই সুন্দর। অসুন্দর নয়। আর তার বাণী: “সুন্দরকে ভালোবাসেন” অর্থাৎ, আল্লাহ সৌন্দর্য গ্রহণ করাকে পছন্দ করেন এ অর্থে যে, একজন মানুষ কাপড়ে, জুতোয়, শরীরে ও তার যাবতীয় বিষয়ে সৌন্দর্য অবলম্বন করুক আল্লাহ তা পছন্দ করেন। কারণ, সৌন্দর্য গ্রহণ অন্তরসমূহকে মানুষের দিকে আকৃষ্ট করে এবং তাকে মানুষের নিকট প্রিয় করে দেয়, যা নোংরামির বিপরীত, যে নোংরামিতে মানুষের চুল অথবা কাপড় অথবা পোশাক অসুন্দর দেখায়।
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “মহান আল্লাহ এভাবে উৎকর্ণ হয়ে কোন কথা শোনেন না, যেভাবে সেই মধুরকণ্ঠী পয়গম্বরের প্রতি উৎকর্ণ হয়ে শোনেন, যিনি মধুর কণ্ঠে উচ্চ সবরে কুরআন মাজীদ পড়তেন।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটিকে সালাত ইত্যাদিতে কুরআন তিলাওয়াত করার সময় আওয়াজ সুন্দর করার ওপর উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ তিলাওয়াতের সময় অন্য সব সংবাদ থেকে অমনোযোগী হয়ে, চিন্তিত ভাব নিয়ে সুললিত কন্ঠে, উঁচা ও সুন্দর আওয়াজে আত্মার তৃপ্তি কামনা করে এবং হাতের ধনাট্যতার আশা নিয়ে তিলাওয়াত করবে। হাদীসে তাগান্নী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুন্দর আওয়াজ। তার অর্থ এ নয় যে, তাকে গানের ধ্বনির মতো পরিণত করা।
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কসম করতে গিয়ে বলল, ‘লাত ও উয্যার(মূর্তির) কসম’, সে যেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে, ‘এস তোমার সাথে জুয়া খেলি’, সে যেন সাদকাহ করে”।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমনবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম খাওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন: মুমিন আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম করবে না। তিনি আরো সংবাদ দিচ্ছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কারো (গায়রুল্লাহর) নামে যে কসম করল; যেমন কেউ লাত ও উজ্জার কসম করল- এরা হলো দু’টি মূর্তির নাম ইসলামপূর্ব জাহিলি যুগে তাদের ইবাদত করা হত-: তখন তার জন্য নিজের ত্রুটি সংশোধন, শিরকের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও তার কসমের কাফফারা স্বরূপ: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা ওয়াজিব। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার বন্ধুকে বলে: আসুন জুয়া খেলি - জুয়া হলো দুই বা ততোধিক লোক জয়লাভ করার চেষ্টা করবে, তবে শর্ত থাকে যে তাদের মধ্যে অর্থ থাকবে যা বিজয়ী গ্রহণ করবেন এবং তাদের প্রত্যেকে হয় জিতে পুরস্কার লাভ করবে অথবা হেরে জরিমানা দিবে এর বাইরে কেউ থাকবে না-; কাজেই সে যে দিকে আহ্বান করেছে তার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে কিছু সদকা করা বাঞ্ছনীয়।
আবূ সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অতি শীঘ্রই মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। সে তার দীন নিয়ে ফেতনা থেকে পলায়ন করবে।”
এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।এ হাদীসে ফিতনার সময় নির্জন স্থানে পালিয়ে যাওয়ার ফযিলত বর্ণিত হয়েছে। তবে যাদের ফিতনা দূর করার সক্ষমতা রয়েছে তাদের কথা ভিন্ন। তার ওপর ফরয হলো উক্ত ফিতনা দূর করার প্রচেষ্টা করা। তখন অবস্থা ভেদে হয়ত সে প্রচেষ্টা করা তার ওপর ফরযে আইন নতুবা ফরযে কিফায়া হবে। অন্যদিকে ফিতনার সময় ব্যতীত নির্জনে চলে যাওয়া বা লোকালয়ে বসবাস করার ভেতর কোনটি উত্তম এ ব্যাপারে আলেমগণ মতানৈক্য করেছেন। গ্রহণযোগ্য অভিমত হলো, গুনাহে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে লোকালয় থাকা উত্তম। “সে তার দীন নিয়ে ফেতনা থেকে পালিয়ে যাবে” অর্থাৎ ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সে তার দীন নিয়ে পালিয়ে যাবে। এ কারণেই মানুষকে (মুসলিমকে) কুফর-শির্কের দেশ থেকে দারুল ইসলামে এবং পাপাচারের দেশ থেকে শান্তিময় স্থিতিশীল দেশে হিজরত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনিভাবে মানুষ ও সময় যখন পরিবর্তীত হয়ে যাবে তখনও হিজরত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেখুন, ফাতহুল বারী, (1/100); ‘উমদাতুল কারী, (1/263); শরহি রিয়াদুস সালিহীন, (3/510)।
আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণিত, বান্দা যখন কাউকে অভিশাপ করে তখন অভিশাপটি আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। অতঃপর তার জন্য তার দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর যমীনের দিকে নেমে আসে। তখন তার জন্য দুনিয়ার দরজাসমূহও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যখন সে কোথাও সুযোগ না পায় তখন যাকে অভিশাপ করা হয়েছে তার নিকট ফিরে আসে। সে যদি অভিশাপের যোগ্য হয়, তার ওপর পতিত হয়। অন্যথায় অভিশাপকারীর ওপরই পতিত হয়।
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।বান্দা যখন কাউকে তার জবান দ্বারা অভিশাপ দেয় তখন অভিশাপটি আকাশের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু সে সময় আকাশে উঠার পথকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন তা যমীনের দিকে ফিরে আসে। কিন্তু দুনিয়ায় ফিরে আসার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এটি তাতে প্রবেশ করতে পারে না। তখন সে ডানে বামে যাওযার চেষ্টা করে। কোনো পথ না পেলে অথবা থাকার স্থান না পেলে যাকে অভিশাপ করা হয়েছে তার নিকট এসে উপস্থিত হয়। তখন সে যদি অভিশাপের যোগ্য হয়, তখন তা তার নিকটেই থাকে।অন্যথায় অভিশাপকারীর দিকেই ফিরে যায়। অতঃপর তাকেই আক্রান্ত করে। দলীলুল ফালেহীন (৮/৫৯)
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলার একদল ফিরিশতা আছেন যারা পথে-প্রান্তরে যিকরকারীদের অনুসন্ধান করে ঘুরে বেড়ায়। তারা যখন মহান আল্লাহর যিকরেরত লোকদের দেখতে পান তখন তাদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তারা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেসব লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাদের রব তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন- অথচ এ সম্পর্কে ফিরিশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন, আমার বান্দারা কী বলছে? তখন তারা উত্তর দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তারা কী আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলেন, হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখে নি। তিনি বলেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলেন, যদি তারা আপনাকে দেখত তবে তারা আরও বেশি আপনার ইবাদত করত, আপনার আরও অধিক মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আরও বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত। তিনি বলেন, তারা আমার কাছে কী চায়? রাবি বলেন, ফিরেশতাগণ বলেন, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। রাবি বলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? রাবি বলেন, ফিরিশতারা বলেন, না। আপনার সত্তার কসম! হে রব, তারা তা দেখে নি। রাবি বলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, যদি তারা জান্নাত দেখত তবে তারা কী করত? রাবি বলেন, তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তবে তারা জান্নাতের আরো বেশি লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অধিক উৎসাহী হয়ে উঠত। আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসা করেন, তারা কিসের থেকে আশ্রয় চায়? ফিরিশতাগণ বলেন, জাহান্নাম থেকে। রাবি বলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? রাবি বলেন, তারা জবাব দিবেন, আল্লাহর কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, যদি তারা তা দেখত তবে তাদের কী হতো? তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। রাবি বলেন, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। রাবি বলেন, তখন ফিরিশতাদের একজন বলেন, তাদের অমুক ব্যক্তি আছে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তারা এমন উপবিষ্টকারীবৃন্দ যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহ তা‘আলার একদল ভ্রাম্যমান অতিরিক্ত ফিরিশতা আছেন যারা যিকরের মজলিসসমূহ অনুসন্ধান করে বেড়ায়। তারা যখন কোন যিকরের মজলিস পায় তখন সেখানে তাদের (যিকরকারীরদের) সঙ্গে বসে যায়। আর তারা একে অপরকে তাদের ডানা বিস্তার করে ঢেকে নেয়, এমনিভাবে তারা তাদের ও নিকটবর্তী আসমানের ফাঁকা স্থান পূর্ণ করে ফেলে। যিকরকারীরা যখন আলাদা হয়ে যায় তখন তারা আসমানে আরোহণ করে। তিনি বলেন, তখন মহান আল্লাহ তাদের প্রশ্ন করেন, তোমরা কোথা হতে এসেছ? অথচ তিনি তাদের সস্পর্কে সর্বাধিক অবহিত। তখন তারা বলতে থাকেন, আমরা জমিনে অবস্থানকারী আপনার বান্দাদের নিকট থেকে এসেছি, যারা আপনার তাসবীহ পাঠ করে, তাকবীর পাঠ করে, (তাহলীল পাঠ করে) “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”এর যিকর করে, আপনার প্রশংসা ঘোষণা করে আর আপনার কাছে প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দারা আমার কাছে কী চায়? তারা বলেন, তারা আপনার কাছে আপনার জান্নাত চায়। তিনি বলেন, তারা কি আমার জান্নাত দেখেছে? তারা বলেন, না, হে আমাদের রব! তিনি বলেন, যদি তারা আমার জান্নাত দেখতে পেত তাহলে কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার কাছে পানাহ চায়। তিনি বলেন, কিসের থেকে তারা আমার কাছে পানাহ চায়? তারা বলেন, হে আমাদের রব! আপনার জাহান্নাম থেকে পানাহ চায়। তিনি বলেন, তারা কি আমার জাহান্নাম দেখেছে? তারা বলেন, না, তারা দেখে নি। তিনি বলেন, যদি তারা আমার জাহান্নাম দেখতে পেত তাহলে কী করত? তারা বলেন, তারা আপনার কাছে মাগফিরাত করে। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তারা যা চেয়েছে আমি তা তাদের দান করলাম। আর তারা যা থেকে পানাহ চেয়েছে আমি তা থেকে তাদের নাজাত দিলাম। রাবি বলেন, এরপর তারা বলে, হে আমাদের রব! তাদের মধ্যে তো অমুক গোনাহগার বান্দা ছিল, যে তাদের (যিকিরকারীদের) সঙ্গে মজলিসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বসেছিল। তখন আল্লাহ বলবেন, আমি তাকেও ক্ষমা করে দিলাম। তারা তো এমন একটি সম্প্রদায় যাদের সাথীরা বঞ্চিত হয় না।
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এ হাদীসটি যিকরের মজলিশের মর্যাদা ও গুরুত্ব বর্ণনা করছে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ তা‘আলার একদল ফিরিশতা আছেন যারা পথে-প্রান্তরে যিকরকারীদের অনুসন্ধান করে ঘুরে বেড়ায়।” অর্থাৎ আল্লাহ সংরক্ষণকারী ফিরিশতা ছাড়াও একদল ফিরিশতা নির্ধারণ করেছেন যারা পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ায়, তারা মুসলিমদের পথে-ঘাটে, মসজিদে ও গৃহে যিকিরকারীদের মজলিশ অনুসন্ধান করে বেড়ায়। তারা সেখানে ঘুরে বেড়ায়, সে মজলিশে উপস্থিত হয় এবং যিরিককারীদের কথা শ্রবণ করে। হাফিয ইবন হাজার বলেছেন, এর সর্বাধিক উপযুক্ত উপমা হলো, বিশেষ করে আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারীদের বা অনুরূপ মজলিশ তারা খুঁজে বেড়ায়। “অতপর তারা যখন মহান আল্লাহর যিকরেরত লোকদের দেখতে পান” মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, “তারা যখন যিকরের মজলিশ দেখতে পান” “তখন তাদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেন, তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তোমরা তোমাদের উদ্দিষ্ট স্থানে চলে এসো। অর্থাৎ তোমরা যে যিকিরের মজলিশ খুঁজতেছিলে সে মজলিশ পাওয়া গেছে, তাই সে মজলিশের লোকদের এদিকে চলে এসো, তাদেরকে যিয়ারত করতে এবং তাদের যিকির শুনতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিকিরের মজলিশে অবস্থানরত ফিরিশতাদের গুণাবলী সম্পর্কে বলেন, “ফিরিশতারা তাদেরকে ঢেকে ফেলেন” অর্থাৎ চুড়ি দ্বারা হাতের কব্জিকে আবদ্ধ করার ন্যায় তাদেরকে ঢেকে ফেলে। “ফলে তখন তারা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেসব লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত।” অর্থাৎ এভাবে তারা আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ ও তাঁর সম্মানিত ফিরিশতাদের মাঝে যে কথোপকথন হয় তার বর্ণনা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাদেরকে বলেন, “রব তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন- অথচ এ সম্পর্কে ফিরিশতাদের চেয়ে তিনিই অধিক জানেন”, অর্থাৎ তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে ফিরিশতাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত। তিনি ঊর্ধ্বজগতের অধিবাসীদের কাছে যিকিরকারীদের কথা জিজ্ঞেস করে তাদের সম্মান ও মর্যাদা সম্পকে সতর্ক করেন যাতে ফিরিশতাদের কাছে বান্দাহদেরক নিয়ে গর্ব করতে পারেন। “আমার বান্দারা কী বলছে? তখন ফিরিশতাগণ উত্তর দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছে।” অর্থাৎ ফিরিশতাগণ বলেন, ওসব যিকিরকারীগণ বলছেন, সুবহান্নাল্লাহ, ওয়ালহামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার। আল্লাহর তামজীদ তথা মাহাত্ম্য বর্ণনা হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। কেননা এ কালিমাতে রয়েছে তাওহীদে উলুহিয়্যাতের মাধ্যমে আল্লাহকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া। তখন মহান আল্লাহ বলবেন, “তারা কী আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলেন, হে আমাদের রব, আপনার কসম! তারা আপনাকে দেখে নি। তিনি বলেন, আচ্ছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত?” ফিরিশতাগণ বলেন, “যদি তারা আপনাকে দেখত তবে তারা আরও বেশি আপনার ইবাদত করত, আপনার আরও অধিক মাহাত্ম্য বর্ণনা করত, আরও বেশি আপনার তাসবীহ পাঠ করত।” কেননা ইবাদতের ক্ষেত্রে অধিক পরিশ্রম হয় জ্ঞানের পরিধি অনুসারে। অতপর আল্লাহ তাবারাকাহু ওয়াতা‘আলা বলবেন, “তারা আমার কাছে কী চায়?” অর্থাৎ তারা আমার কাছে কী প্রার্থনা করে। ফিরিশতারা বলেন, “তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়।” অর্থাৎ তারা জান্নাত পাওয়ার আশায় আপনার যিকির ও ইবাদত করছে। ফিরিশতারা উত্তর দিবেন, “যদি তারা তা দেখত তবে তারা জান্নাতের আরো বেশি লোভ করত ও এর জন্য আরো অধিক উৎসাহী হয়ে উঠত।” অর্থাৎ এর দিকে অধিক ধাবিত হতো। কেননা (জান্নাতের) সংবাদ স্বচক্ষে দেখার মতো নয়। অতপর আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসা করবেন, “তারা কিসের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়?” অর্থাৎ কি জিনিস থেকে তারা ভয় পায় এবং তাদের রবের কাছে তা থেকে আশ্রয় চায়? ফিরিশতাগণ বলবেন, “জাহান্নাম থেকে।” অর্থাৎ তারা জাহান্নামের ভয়ে তাদের রবের যিকির ও ইবাদত করছে এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে যেন তিনি তাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন। ফিরিশতাগণ বলবেন, “যদি তারা তা দেখত তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত।” অর্থাৎ তারা সেসব ভালো কাজ করতে আরো অধিক পরিশ্রমী হতো যেসব কাজ জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায়। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, “আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।” অর্থাৎ তাদের গুনাহখাতা মাফ করে দিলাম। তখন ফিরিশতাদের একজন বলেন, “তাদের অমুক ব্যক্তি আছে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে।” অর্থাৎ যিকিরকারীদের মধ্যে অমুক একজন রয়েছে যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং সে তার কোন প্রয়োজনে এসেছে, অতপর তাদের সাথে বসেছে। তাকেও কি ক্ষমা করা হবে? মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা এমন উপবিষ্টকারীবৃন্দ যাদের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিমুখ হয় না এবং বিফল হয় না।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত: আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ বলেন, যখন আমার বান্দা কোনো খারাপ কর্ম করার ইচ্ছা করে, তোমরা তা না করা পর্যন্ত তার ওপর লিপিবদ্ধ কর না। যখন বাস্তবায়ন করে তখন তুমি কর্ম সমান গুনাহ লিখ। আর যদি আমার কারণে তা ছেড়ে দেয়, তখন তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ কর। আর যদি কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করল কিন্তু সে করে নি। তোমরা তার জন্য একটি নেকি লিখ। আর যদি সে নেক আমলটি করে, তাহলে তোমরা দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত নেকি লিপিবদ্ধ কর।”
মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।এই নির্দেশটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব ফিরিশতাদের প্রতি যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মানুষের আমলের সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করার। আর এ হাদীসটি মানুষের ওপর আল্লাহর করুণা এবং আল্লাহ যে মানুষকে ক্ষমা করেন তার বহিঃপ্রকাশ। তার কথা: “যখন আমার বান্দা কোনো খারাপ কর্ম করার ইচ্ছা করে, তোমরা তা না করা পর্যন্ত তার ওপর লিপিবদ্ধ করবে না।” এখানে আমল দ্বারা উদ্দেশ্য অন্তর ও অঙ্গ উভয়ের আমল। এটিই স্পষ্ট। কারণ, এমন প্রমাণও এসেছে যা, প্রমাণ করে যে, অন্তরের আমলের ওপরও পাকড়াও করা হবে এবং সাওয়াব প্রদান করা হবে। আল্লাহ বলেন, আর যে ব্যক্তি তাতে অন্যায়ভাবে কোনো অপরাধ করার ইচ্ছা করে, আমরা তাকে বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাবো। আর সহীহ হাদীসে বর্ণিত, যখন দু’জন মুসলিম উভয়ে স্বীয় তরবারী দ্বারা একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন, হত্যাকারী না হয় স্পষ্ট, কিন্তু নিহত ব্যক্তি কেন? তিনি বললেন, তিনি তার ভাইকে হত্যা করতে আগ্রহী ছিল। এ ধরনের প্রমাণাদি তার বাণী: “যখন আমার বান্দা কোনো খারাপ কর্ম করার ইচ্ছা করে, তোমরা তা না করা পর্যন্ত তার ওপর লিপিবদ্ধ করবে না”-এর ব্যাপকতাকে সংকোচন করতে সক্ষম। এটি খারাপ কর্ম সম্পর্কে তার বাণী: «لم تكتب عليه» এর পরিপন্থী নয়। কারণ, অন্তরের দৃঢ়তা ও প্রতিজ্ঞাও একটি কর্ম। তার বাণী: “যখন বাস্তবায়ন করে তখন তুমি কর্ম সমান গুনাহ লিখ।” অর্থাৎ একটি গুনাহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ। আর যে অসৎকাজ নিয়ে এসেছে, তাকে অনুরূপই প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদেরকে যুলুম করা হবে না।” আল্লাহ আরও বলেন, “কেউ পাপ কাজ করলে তাকে শুধু পাপের সমান প্রতিদান দেওয়া হবে, আর যে পুরুষ অথবা নারী মুমিন হয়ে সৎকাজ করবে, তবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদেরকে অগণিত রিযিক দেওয়া হবে।” তাঁর বাণী: “আর যদি আমার কারণে তা ছেড়ে দেয়, তখন তার জন্য একটি নেকি লিপিবদ্ধ কর।” আল্লাহর কারণে ছাড়ার কথা বলার অর্থ: তার ভয়ে ও তার থেকে লজ্জা করে। আর যদি সে অক্ষম হয়ে ছেড়ে দেয় অথবা মাখলুকের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে তখন তার জন্য নেকি লিপিবদ্ধ করা হবে না। বরং অনেক সময় বিপরীত হতে পারে অর্থাৎ তার জন্য গুনাহ লিখা হবে। তাঁর বাণী: “আর যদি কোনো নেক আমল করার ইচ্ছা করল কিন্তু সে করে নি। তোমরা তার জন্য একটি নেকি লিখ” এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ। সুতরাং প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবলই তার জন্য। এর চেয়ে বড় মেহেরবানী আর কী হতে পারে যে, একজন নেক কর্মের ইচ্ছা করল, আর তার জন্য পরিপূর্ণ একটি নেক আমল করার সাওয়াব লিপিবদ্ধ হলো। আর নেক আমল করা দ্বারা দশ থেকে নিয়ে সাতশত নেক আমল করার সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে। এ হাদীসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «يقول الله: إذا أراد عبدي» বলে কথাটি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করেছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ বলেন যখন আমার বান্দা ইচ্ছা করে।” তিনি তাকে কথার দ্বারা গুনান্বিত করলেন। এ ধরনের কথা তার শরী‘আতের অন্তভুর্ক্ত যাতে তিনি তার বান্দাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এটি কুরআন নয় এবং সৃষ্টও নয়। কারণ, আল্লাহর বাণী তাঁর মাখলুকের অন্তভুর্ক্ত নয়।
আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, “কোন আহবানকারী জান্নাতী লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, এখানে সর্বদা তোমরা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো তোমরা মরবে না। তোমরা যুবক থাকবে, কখনো তোমরা বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সর্বদা সুখস্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে, কখনো আর তোমরা কষ্ট-ক্লেশে পতিত হবে না। এটাই মহা মহিম আল্লাহর বাণী: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43]. (আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে ’আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।) [সূরা আল আ’রাফ ৪৩] এর ব্যাখ্যা।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেননবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে একজন আহবানকারী জান্নাতবাসীদেরকে আহ্বান করবে যখন তারা তাতে স্বাচ্ছন্দ ভোগ করবে: "নিশ্চয়ই তোমরা সুস্থ থাক জান্নাতে কখন অসুস্থ হবে না, রোগের মাত্রা যত সামান্য হক; তোমরা জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না, এমনকি যদি এটি একটি ছোট মৃত্যুও হয়; তোমরা যৌবন থাকবে এতে কখনো বৃদ্ধ হবে না; তোমরা স্বাচ্ছন্দ ভোগ কর কখনো এতে দুঃখিত ও নিরাশ হবে না। এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [الأعراف: 43]. (আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে ’আমল করতে তারই বিনিময়ে তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।) [আল আ’রাফ ৪৩]