Hadeeth Cards
Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way






























Da'wa cards that highlight great meanings from the noble prophetic hadiths in a simple style and attractive display that helps the Muslim to have a deeper understanding of his religion in an easy way
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিচ্ছেন যে, ঘুমের ভেতর আনন্দদায়ক ভালো-স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন যা খারাপ এবং চিন্তিত করে তা শয়তানের তরফ থেকে হয়। কাজেই যে খারাপ স্বপ্ন দেখবে সে যেন তার বাম পাশে থুথু দেয় এবং তার অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট পানাহ চায়। তাহলে সেটি ক্ষতি করতে পারবে না, যেহেতু উল্লিখিত বিষয়টি খারাপ স্বপ্নের উপর সৃষ্ট প্রভাব থেকে নিরাপত্তার উপায়।
উকবাহ ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া ও আখিরাতে মুমিনের মুক্তির উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন,? নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তিনটি কাজকে আঁকড়ে ধর: প্রথমত: যেখানে কল্যাণ নেই তার থেকে ও প্রত্যেক ক্ষতিকর কথা থেকে তোমার মুখকে সংরক্ষণ কর এবং ভালো কথা ছাড়া মুখ খুলবে না। দ্বিতীয়: নির্জনে আল্লাহর ইবাদত করার সুবিধার্থে তোমার ঘরকে আকঁড়ে ধর এবং আল্লাহর আনুগত্যে ব্যাপৃত হও আর ফিতনা থেকে নিরাপত্তার জন্য তোমার ঘরে একাকি থাক। তৃতীয়: আর তুমি যেসব পাপ করেছো তার জন্য লজ্জা বোধ কর, তাওবা কর ও ক্রন্দন কর।
এক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে এমন কিছু আমলের কথা জিজ্ঞেস করলেন, যা আমল করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তরে বললেন , জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়া ইসলামের রুকনসমূহ আদায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তন্মধ্যে প্রথমটি হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করা। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করবে, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের উপর প্রতি দিন ও রাতে ফরয করেছেন। আল্লাহ তোমার উপর সম্পদের যে যাকাত ফরয করেছেন, সে যাকাত তার প্রাপ্য ব্যক্তিকে প্রদান করবে। রমযান মাসে যথাযথভাবে সাওম পালনের ব্যাপারে যত্নবান হবে। লোকটি বলল: সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, আমি আপনার কাছ থেকে শোনা এ ফরয আমলের চেয়ে বেশি করব না আবার কমও করবো না। অতপর যখন সে লোকটা ফিরে যাচ্ছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের কোন লোক দেখতে আগ্রহী, সে যেন এই লোকটিকে দেখে।”
হাদীসটিতে আল্লাহর নিকট দুনিয়ার নিকৃষ্ট হওয়া এবং তার কোনো মূল্য না থাকার বর্ণনা রয়েছে। যদি আল্লাহর নিকট তার সামান্য মূল্যও থাকতো, তাহলে কাফিরদের জন্য নি‘আমত ভোগ করা ও দুনিয়ার জিনিস দ্বারা স্বাদ উপভোগ করাতো দুরের কথা, একটু পানিও আল্লাহ তাদের পান করাতেন না। কিন্তু আখিরাত মুমিনদের জন্য স্থায়ী নি‘আমতের আবাসস্থল। কাফিররা তাতে যাবে না। এ কারণেই মুমিনদের উচিৎ হলো, এ দুনিয়ার হাকীকতকে উপলব্ধি করা, তার প্রতি ঝুঁকে না পড়া। কারণ, এটি ক্ষণস্থায়ী আবাসভূমি, চিরস্থায়ী নয়। সুতরাং তারা দুনিয়া থেকে ততটুকু গ্রহণ করবে যার দ্বারা আখিরাত, যেটি স্থায়ী আবাসস্থল, তার জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা যায়। আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদেরকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা আছে তাই উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না? আমি যাকে উত্তম ওয়াদা দিয়েছি সে তা পাবেই; সে কি তার মতই যাকে আমি দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী দিয়েছি? তারপর কিয়ামতের দিনে সে উপস্থিতকৃতদের মধ্যে থাকবে। [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৬০,৬১]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপমান ও লাঞ্ছনার জন্য বদদু‘আ যতক্ষণ না ঐ ব্যক্তির নাক মাটিতে পতিত হয়, - তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন - এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হল: হে আল্লাহর রসূল, কে সেই ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে আপনি বদ দু‘আ করছেন? তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়কে অথবা একজনকে বৃদ্ধ বয়সে পেল, অথচ তারা দুজনে তার জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ হলো না; এটা তাদের প্রতি সুন্দর আচরণ না করা এবং তাদের অবাধ্যতার কারণে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্বরণকারীদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতায় অন্যান্যদের থেকে এককভাবে অগ্রগামী হয়েছে, তিনি তাদেরকে জুমদান পাহাড়ের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন,যা অন্যান্য পাহাড়ের তুলনায় একক ও অনন্য।
হাদীসের অর্থ: যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে সে চোখকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না। মানুষ যখন বান্দার উপর আল্লাহর বড়ত্ব ও কুদরত স্মরণ করবে এবং মহান আল্লাহ তা‘আলার তুলনায় নিজের অবস্থান নগণ্য মনে করে তাঁর রহমত লাভ এবং তাঁর শাস্তি ও ক্রোধের থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় ক্রন্দন করবে তখন জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি মহান আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। আর আরেকটি চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, তাহলো যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় মুসলিমদের হিফাযত করতে সীমান্ত এলাকায় ও যুদ্ধের ময়দানে পাহারায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে। তার বাণী, “দু’চোখকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না” দ্বারা পুরো শরীরকে বুঝানো হয়েছে। হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যে চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে ও যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয় আল্লাহ তা‘আলা সে শরীরের জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।
কা‘ব ইবন ‘আইয়াদ্ব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয় প্রত্যেক উম্মতের একটি ফিতনা ছিল।” যেসব ফিতনার কারণে তারা ভ্রষ্টতা ও গুনাহে পতিত হয়েছিল। “আর আমার উম্মতের ফিতনা হলো ধন-সম্পদ।” কেননা সম্পদ একদিকে যেমন যাবতীয় আশা-আকাঙ্খা পূরণকারী অপরদিকে তা পূর্ণাঙ্গ শুভ পরিণাম অর্জনে বাধাদানকারী। ধন-সম্পদের দ্বারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিরত রাখে এবং আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, গুনাহগার মুসলিমের জন্যে আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনা আশা করা যায়; সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে অহংকার ও ঔদ্ধত্যের সাথে নিজের পাপ ঘোষণা করে। ফলে সে আল্লাহর ক্ষমার অযোগ্য। যেমন সে রাতে কোনো পাপকাজ করে, অতঃপর সকাল করে, আর আল্লাহ তা গোপন রাখেন; কিন্তু সকাল বেলা সে বলে বেড়ায় যে, সে গতরাতে অমুক পাপকাজ করেছে। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত্রি অতিবাহিত করেছিল যে, তার রব তার পাপ গোপন রেখেছিলেন; কিন্তু সে সকালে উঠে তার উপর আল্লাহর আবৃত পর্দা খুলে ফেললো!!